নওগাঁয় জেলা কারাগারে দিগুন আসামী!
প্রকাশ: ২০১৬-০৩-২৮ ১৫:২৬:৩৯
নওগাঁয় জেলা কারাগারে ধারণ ক্ষমতার চেয়ে দুইগুন বেশি আসামী রাখা হয়েছে। ধারণ ক্ষমতার চেয়ে আসামী বেশি থাকা ও খাবারে কোন ধরনের অসুবিধা হচ্ছে না বলে জানান কারাগার কর্তৃপক্ষ। কারাগারের ৫৮৭ জন আসামী ধারণ ক্ষমতা থাকলেও বর্তমানে আছে ১৩৯৯ জন।
৫ জানুয়ারী নির্বাচনের পর দেশে অস্থিরতা বিরাজ করলে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ধড়পাকড়ে কারণে হঠাৎ জেল হাজতে আসামীদের সংখ্যা বেড়ে যায়। কারাগারে আসামীদের সংখ্যা বেশি হওয়া থাকা ও খাওয়া অসুবিধা হচ্ছে বলে জানান আসামীরা।
জেলা কারাগার সূত্রে জানা যায়, ২০০৪ সালে ১২ একর জায়গা জুড়ে নওগাঁ শহরের বাইপাস এলাকায় নতুন কারাগার তৈরী হয়। আসামী ধারণ ক্ষমতা নির্ধারন করা হয় ৫৮৭ জন। এদের মধ্যে পুরুষ ৫৬৫ জন এবং মহিলা ২২জন। ধারন ক্ষমতা ৫৮৭ জন থাকলেও জেলা কারাগারে রয়েছে ১৩৯৯ জন আসামী। এদের মধ্যে পুরুষ ১৩৩৭ জন এবং মহিলা ৬২জন।
এছাড়াও জেলা কারাগারে যাবজ্জীবন দন্ডপ্রাপ্ত আসামী রয়েছে ৪৬ জন, জেএমবি ৭ জন, বিডিআর বিদ্রোহী ২৪ জন, দুদকের মামলায় ২জন। অন্যান্য মামালার আসামী রয়েছে ১৩২০ জন।
আসামীদের প্রতি দিনের মাথাপিছু খরচ ৪৫ টাকা। আসামীদের খাবার দেওয়া হয় সকালে রুটি ও গুড়, দুপুরে ভাত, সবজি ও ডাল এবং রাতে ভাত, মাছ বা মাংস। প্রতি সপ্তাহে খাবারে তালিকা পরিবর্তন করা হয়। এছাড়া বিশেষ দিন গুলোতে সকালে পায়েস ও মুড়ি, দুপুরে ভাত ও রুই মাছ এবং রাতে পোলাও, গরু, খাসির মাংস, ড্রিংক, দই-মিষ্টি ও পান সুপারি খাবার দেওয়া হয়।
তবে গত বছর আসামীদের মাথাপিছু খরচ ছিল ১২৫ টাকা। বছরে দু’বার জানুয়ারী থেকে জুন এবং জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ঠিকাদারদের মাধ্যমে খাবারের ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে। উমুক্ত টেন্ডারের মাধ্যমে ঠিকাদার নির্ধারন করা হয়। যেখানে সর্বনিু দর যে ঠিকাদার দেয় মূলত তাকেই টেন্ডার দেওয়া হয় বলে জানা যায়।
জায়াগার তুলনায় আসামী ধারন ক্ষমতা বেশি। তার উপর আবার নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির দাম বেশি। সেখানে আসামীদের প্রতি দিনের মাথাপিছু খরচ ৪৫ টাকায় কিভাবে ভাল খাবার সম্ভব। স্বল্প টাকায় খাবারে জেলা কারাগারে আসামীদের সমস্যা হচ্ছে।
জেলা কারাগারে আছেন মান্দা আশরাফুল জানান, কারাগারে যাওয়ার দুইদিনের মধ্যে চর্মরোগ চুলকানি হয়েছে। জেল খানায় থাকার জায়গাটা অপরিষ্কার থাকায় ছারপুকা ও চুলকানি হয়েছে।
চাপাইনবাবগঞ্জ জেলার আজিম জানান, প্রায় এক মাস থেকে জেলা কারাগারে আছেন। খাবারের সমস্যা তো আছে, সেই সাথে শুয়ে থাকারও সমস্যা। চর্মরোগ চুলকানির সমস্যাটা কারাগারে বেশি।
এছাড়া কারাগারে আছেন জেলার মহাদেবপুরের রকিবুল হাসান, সেকেন্দার আলীর সাথে কথা হলে তারা জানান, ধারন ক্ষমতার তুলনায় আসামী বেশী রাখা হয়েছে। আসামী বেশি থাকার ফলে সেলে গাদাগাদি করে থাকতে হচ্ছে। ফলে কিছুটা অসুবিধায় থাকতে হচ্ছে। এছাড়া খাবারও নিুমানের দেওয়া হচ্ছে।
পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, বৃটিশদের সেই শাসনামল থেকে আজ অবধি চলছে তাদের এ নিয়মনীতি। বর্তমানে এ নিয়মনীতিকে পরিবর্তন করা দরকার। তিনি মনে করেন কারাগার নাম পরিবর্তন করে “সংশোধনাগার” নাম রাখা। অপরাধীরা বিভিন্ন অপরাধ করে কিন্তু সংশোধন হওয়ার সুযোগ থাকছে না। দিন দিন অপরাধের মাত্রা বেড়ে যায়। অপরাধীকে যখন কারাগারে রাখা হয় তার অপরাধ সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত সেখানেই থাকবে। এক্ষেত্রে কারাগারকে “সংশোধনাগার” রাখতে হবে। অপরাধ সংশোধন হলে পরবর্তীতে কারাগারে আসার প্রয়োজন হবে না।
নওগাঁ জেল সুপার মনির আহমেদ জানান, ধারন ক্ষমতার তুলনায় আসামী বেশি রয়েছে। তবে রাজশাহী বিভাগের অন্যান্য জেলার তুলনায় এ কারাগারে আসামীরা অনেক ভাল আছেন। আসামীদের জন্য শিক্ষা ও বিনোদনের ব্যবস্থা আছে। ধারন ক্ষমতার বিষয়ে উপর মহলে জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
নওগাঁ জেলা প্রশাসক ড. মো: আমিনুর রহমান জানান, অন্যান্য জেলার তুলনায় নওগাঁ জেলা কারাগারে আসামিরা ভাল আছে। এছাড়া আসামীদের যেন কোন সমস্যা না হয় এজন্য বার বার তদারকি করা হয়।
তিনি আরো জানান, কারাগারে ধারন ক্ষমতার তুলনায় আসামী বেশী থাকার বিষয়টি ইতোমধ্যে উপর মহলে জানানো হয়েছে। এছাড়া ধারণ ক্ষমতার তুলনায় কারাগারে জায়গার পরিমান টা যেন আরো বাড়ানো হয় জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয়ে জানানো হবে।






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













