২০৬ কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতি, কারাগারে এমারেল্ডের এমডি

প্রকাশ: ২০১৬-০৩-২৯ ১০:৩৪:৪১


Emarendঋণ জালিয়াতির ঘটনায় গ্রেপ্তারের পর এমারেল্ড অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ হাসিবুল গণি গালিবকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ৫টি কোম্পানির মাধ্যমে ২০৬ কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতি করা হয়েছে।

ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ কোম্পানিটির লেনদেন শুরু হয়। কোম্পানিটি ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও বাণিজ্যিক উৎপাদনে আসে ২০১১ সালের জুলাইয়ে। কোম্পানিটি ১০ টাকা অভিহিত মূল্যে ২ কোটি শেয়ার ছেড়ে বাজার থেকে ২০ কোটি টাকা সংগ্রহ করে।

ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছাড়াও মামলায় আসামী করা হয়েছে কোম্পানির চেয়ারম্যান সৈয়দ মনোয়ারুল ইসলাম, পরিচালক এ.এস.এম. মনিরুল ইসলাম, সজন কুমার বসাক, অমিতাভ ভৌমিক, বেসিক ব্যাংকের দিশাখুশা শাখার সাবেক প্রধান গোলাম ফারুক খান, সাবেক ক্রেডিট ইনচার্জ পলাশ দাশ গুপ্ত, অরিতিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ মঞ্জুর মোরশেদ ও ব্যাংকটির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ.কে.এম. সাজেদুর রহমান।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে কোম্পানির পরিচালক সজন কুমার বসাক বলেন, আমরা বেসিক ব্যাংক থেকে ৬১ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিলাম। এর মধ্যে ৩২ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। বাকি টাকা পরিশোধ করা হয়নি। এমারেল্ড অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের কাছ থেকে সুদসহ আরও ৭৪ কোটি টাকা পাবে বেসিক ব্যাংক।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, এমারেল্ড গ্রুপের মোট ৫টি প্রতিষ্ঠানের ২০৬ কোটি টাকা আত্মসাতে ধানমণ্ডি ও মতিঝিল থানায় ২০১৫ সালের আগষ্টে মোট ৫টি মামলা করে দুদক। কোম্পানিগুলো হলো- এমারেল্ড অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, এমারেল্ড ড্রেস লিমিটেড, এমারেল্ড স্পেশালিষ্ট লিমিটেড, বয়েস এন্টার প্রাইজ লিমিটেড এবং এমারেল্ড অটো ব্রিকস লিমিটেড। এর মধ্যে এমারেল্ড অয়েলের নামে ৭৪ কোটি ১৪ লাখ ৯৯ হাজার টাকার ঋণ জালিয়াতির অভিযোগ করেছে দুদক।

এমারেল্ড অয়েল মামলার এজহার সূত্রে জানা যায়, এমারেল্ড অয়েলের চেয়ারম্যান সৈয়দ মনোয়ারুল ইসলাম ও এমডি সৈয়দ হাসিবুল গণি গালিবসহ এর পরিচালনা পর্ষদ নতুন কোম্পানি চালুর কথা জানিয়ে প্রস্তাবিত প্রকল্পমূল্য ৪০ কোটি ৫০ লাখ টাকার বিপরীতে ৪০ কোটি ৪৯ লাখ ৯৭ হাজার টাকার ঋণের আবেদন করেন। এর মধ্যে ৩৫ কোটি ৭ লাখ ১৪ হাজার টাকা মেয়াদি ও ৫ কোটি ৪২ লাখ ৮৩ হাজার টাকার চলতি মূলধন ঋণ হিসেবে আবেদন করা হয়। কোম্পানিটির আবেদন ব্যাংক আইন ও ঋণ নীতিমালা অনুযায়ী না হলেও বেসিক ব্যাংকের দিলকুশা শাখার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা পরস্পর যোগসাজসে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার আশায় তা মঞ্জুর করার জন্য প্রধান শাখায় প্রেরণ করেন।

বেসিক ব্যাংকের প্রধান শাখা কোম্পানির আবেদনে ব্যাপক অনিয়ম ও বিপুল পরিমাণ দায়-দেনার প্রমাণ পেলেও ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে এম সাজেদুর রহমানের সুপারিশে শর্তসাপেক্ষে ঋণ মঞ্জুর করা হয়। মঞ্জুরীপত্রের শর্তানুযায়ী মর্টগেজ দলিল সম্পাদনের পর ঋণ বিতরণের নির্দেশনা থাকলেও দিলখুশা শাখার ব্যবস্থাপক গোলাম ফারুক খান তা সম্পন্ন না করে ২০১০ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর কোম্পানির নামে ৪০ কোটি ৪৯ লাখ ৯৭ টাকার পরিবর্তে ৭৪ কোটি ১৪ লাখ ৯৯ হাজার টাকার ঋণ বিতরণ করেন।

এরই মধ্যে বিভিন্ন ঘটনায় বেসিক ব্যাংকের নানা অনিয়ম প্রকাশ পেলে ব্যাংকের ঋণের বিপরীতে কোম্পানির মর্টগেজকৃত সম্পত্তির হিসাব চায় প্রধান শাখা। তবে অনিয়ম করে ব্যাংক ঋণ গ্রহণ করায় তা প্রদানে আবারও মিথ্যার আশ্রয় নেয় এমারেল্ড অয়েল। কোম্পানির চেয়ারম্যান, এমডি ও পরিচালকদের সমন্বিত সম্পত্তি ৩১ কোটি ৬ লাখ ৬০ হাজার টাকার পরিবর্তে তারা ৭৪ কোটি ১৪ লাখ ৯৯ হাজার টাকা উপস্থাপন করে। বিষয়টি দুদকের অনুসন্ধানে প্রমাণিত হওয়ায় মিথ্যা তথ্য দিয়ে অর্থ উত্তোলনপূর্বক আত্মসাতের দায়ে দুদক দণ্ডবিধির ৪০৯/১০৯ ধারাসহ ১৯৪৭ সনের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় ২০১৫ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর মতিঝিল থানায় মামলা করেন কমিশনের উপ-পরিচালক মাহবুবুল আলম। সূত্র: অর্থসূচক