ঢাকা-ময়মনসিংহ এক্সপ্রেসওয়ের জন্য ৪১৪৭ কোটি টাকা দেবে এডিবি
নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২২-১২-০৮ ১৭:৪৭:২৩
অর্থনৈতিক অঞ্চলের সংযোগ সড়ক উন্নয়নে বাংলাদেশকে ৪০ কোটি ডলার ঋণ দেবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। প্রতি ডলার সমান ১০৩ টাকা ৬৯ পয়সা ধরে এ ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় বাংলাদেশি মুদ্রায় চার হাজার ১৪৭ কোটি টাকা। ঢাকা-জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ চার লেন সড়ককে ১০ লেনের এক্সপ্রেসওয়েতে উন্নীত করার জন্য এডিবির এ ঋণ ব্যবহার করা হবে।
বৃহস্পতিবার (৮ ডিসেম্বর) এডিবির ঢাকা কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের ‘ইমপ্রুভমেন্ট ঢাকা-জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ রোড ইনটু এক্সপ্রেসওয়ে উইথ সার্ভিস লেইন বোথ সাইড’ প্রকল্প বাস্তবায়নে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) ভিত্তিতে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিষ্ঠান কোরিয়া ওভারসিজ অ্যান্ড ডেভলেপমেন্ট করপোরেশেন এ সড়কের নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করবে। এটা চার লেনের সড়ক ছিল। এটিকে আরও প্রশস্ত করার পাশাপাশি আরও কিছু কাজ করা হবে। সরকার ও কোরিয়ান কোম্পানি যৌথভাবে এ কাজ করবে।
বর্তমানে ঢাকা-জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ রুটে ৮৭ দশমিক ১৮ কিলোমিটার সড়ক চার লেনে উন্নীত অবস্থায় আছে। প্রকল্পটির আওতায় এ সড়ককে ১০ লেনের আন্তর্জাতিক মানের এক্সপ্রেসওয়েতে উন্নীত করা হবে। এখনকার চার লেনের পাশাপাশি ১০ ফুট প্রশস্ত করে দুই পাশে ব্যারিয়ার দিয়ে ইমার্জেন্সি লেন নির্মাণ করা হবে, যা দিয়ে শুধু অ্যাম্বুলেন্স, নিরাপত্তা গাড়ি, ভিআইপিসহ যে কোনো জরুরি কাজে নিয়োজিত গাড়ি চলাচল করবে।
এরপর আরও ১৮ থেকে ২৪ ফুট করে ধীরগতির যান চলাচলের জন্য দুপাশে আলাদা দুটি করে লেন করা হবে। সব মিলিয়ে একপাশে পাঁচটি সড়ক লেনসহ দুপাশে ১০ লেনের সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। দুপাশের অন্য সড়ক থেকে এক্সপ্রেসওয়ে সড়কে উঠতে ও বের হতে প্রতি ২-৩ কিলোমিটার পর পর আন্ডারপাস ইউটার্ন নির্মিত হবে। এ সড়কটি দেশের ১০টি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অঞ্চলে সংযোগ তৈরি করবে।
বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতি ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধির মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে অর্থনৈতিক এ উন্নয়নকে ত্বরান্বিত ও টেকসই করতে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করে পণ্য রপ্তানি বাবদ অতিরিক্ত চার হাজার কোটি ডলার আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এ লক্ষ্য অর্জনে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বেজা)। এরই মধ্যে বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে ১০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল।
বেজার হালনাগাদ প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, এখন পর্যন্ত ১০টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের উন্নয়নকাজ শেষ হয়েছে। বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত এসব অর্থনৈতিক অঞ্চলের মধ্যে রয়েছে—বাগেরহাটে মোংলা অর্থনৈতিক অঞ্চল, মৌলভীবাজারে শ্রীহট্ট অর্থনৈতিক অঞ্চল, নারায়ণগঞ্জে মেঘনা অর্থনৈতিক অঞ্চল, মেঘনা ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইকোনমিক জোন, আমান অর্থনৈতিক অঞ্চল ও সিটি অর্থনৈতিক অঞ্চল, মুন্সীগঞ্জে আব্দুল মোনেম অর্থনৈতিক অঞ্চল, গাজীপুরে বে অর্থনৈতিক অঞ্চল, চট্টগ্রামে কর্ণফুলী ড্রাই ডক ইকোনমিক জোন এবং কিশোরগঞ্জে কিশোরগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চল।
এডিবি কার্যালয়ের পিপিপি প্রধান এফ. ক্লিও কাওয়াওয়াকি বলেছেন, ঢাকা-জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ ১০ লেনের এক্সপ্রেসওয়েটি আরও প্রদর্শন করবে কীভাবে জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো তৈরি করা যায়। অবকাঠামো তৈরিতে বেসরকারি খাতের উদ্ভাবন, দক্ষতা এবং মূলধনকে কাজে লাগানো আমাদের অন্যতম লক্ষ্য।
এএ






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন














