জবিতে জাঁকজমকপূর্ণভাবে বর্ষবরণ পালিত

প্রকাশ: ২০১৬-০৪-১৪ ১৯:১০:২০


pic-1পুরানো ঢাকার ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে জাঁকজমকপূর্ণভাবে বিশাল মঙ্গল শোভাযাত্রা, বৈশাখী মেলা, নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানাদির মধ্যদিয়ে পালিত হয় বাংলা নববর্ষ-১৪২৩।

বৈশাখের প্রথম দিনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সকাল নয়টায় মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন এবং সভাপতিত্ব করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান।

মঙ্গল শোভাযাত্রাটি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে রায়সাহেব বাজার, তাঁতী বাজার মোড়, বংশাল হয়ে ক্যাম্পাসে ফিরে আসে। মঙ্গল শোভাযাত্রায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক মোঃ সেলিম ভূঁইয়া, ডিন, রেজিস্ট্রার, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারীসহ পুরানো ঢাকার চল্লিশটির বেশি স্কুল, কলেজ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক, ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিগণ ও সাংস্কৃতিক সংগঠনসমূহ অংশগ্রহণ করেন।

এবারের মঙ্গল শোভাযাত্রার মূল প্রতিকৃতি হচ্ছে কচ্ছপ। এছাড়াও শোভাযাত্রায় খরগোশ, পুতুল, পাখি, বাঘের মুখোশ, পেঁচার মুখোশ, পাখির মুখোশ, রাজা-রানীর মুখোশ, ঘোড়া, সিকা, সরা, অন্যান্য লোকজ ঐতিহ্য, অলংকৃতপাত্রসহ গ্রাম বাংলার নৈসার্গিক দৃশ্য ফুটিয়ে তোলা হয়। শোভায় অংশগ্রহণকারীরা নানা রঙ-বেরঙের মুখোশ ও নকশা, ফেস্টুন ও ব্যানার নিয়ে অংশগ্রহণ করে।

এদিকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে জবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেন, “আগে ঢাকা বলতে বর্তমান পুরানো ঢাকাকেই বুঝানো হতো। পুরানো ঢাকা কেন্দ্র করেই প্রাচীন বাংলার ইতিহাস, ঐহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশ ঘটেছিল। সকল অপশক্তির তৎরপতা দূর করে আমাদের পুরানো ঢাকার ঐহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশ ঘটাতে হবে। আর এক্ষেত্রে ঢাকার প্রাচীন বিদ্যাপীঠ হিসেবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এধরনের জাঁকজকমপূর্নভাবে বর্ষবরণ উদ্যাপন গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।”

এসময় বক্তারা বাংলা বর্ষবরণকে সাফল্যমন্ডিত করার জন্য বিভিন্ন মতামত ব্যক্ত করেন এবং পুরানো ঢাকার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনার জন্য বাংলা বর্ষবরণ উদযাপনকে গুরুত্ব প্রদান করেন।

শোভাযাত্রা শেষে সকাল এগারটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক ভবন চত্বরে ক্যাম্পাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগসহ অন্যান্য বিভাগের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী এবং পুরানো ঢাকার বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও গানের পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ সকলে আনন্দে নেচে গেয়ে উদ্বেলিত ও উৎফুল্ল হয়ে বর্ষবরণকে আনন্দবহ করে তুলে। শিল্পীরা মনোমুগ্ধকর গান পরিবেশন করে দর্শকদের মাতিয়ে রাখে।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মহাকবি কালিদাস রচিত ‘অভিজ্ঞান শকুন্তলম্’ নাটক বিকাল ৪টায় কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে মঞ্চায়ন করা হয়। নাটকটির আলোক পরিকল্পনায় নাট্যকলা বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মোঃ আব্দুল হালিম প্রমাণিক, মঞ্চ পরিকল্পনায় সহকারী অধ্যাপক কামালউদ্দিন খান এবং নির্দেশনায় ছিলেন প্রভাষক শামস শাহরিয়ার কবি। নাটকটি সকলের জন্য উন্মুক্ত ছিল।

এছাড়াও বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে গতকাল শুরু হওয়া বৈশাখী মেলা দ্বিতীয় দিনেও পোগোজ ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, আই.ই.আর. প্রাঙ্গণে চলে।

বৈশাখী মেলায় মিষ্টান্ন ও দধি, বিভিন্ন দেশীয় ফল, বিভিন্ন খাবারের স্টল, মাটির তৈরি তৈজসপত্র ও খেলনার স্টল স্থান পায়। এছাড়াও ঐতিহ্যবাহী নাগর দোলা, চকড়িসহ শিশুদের বিনোদনের নানা উপকরণ মেলায় স্থান পায়।

সানবিডি/ঢাকা/ইসমাঈল/আহো