বাংলাদেশে আবারও সন্ত্রাসী হামলা হতে পারে : যুক্তরাষ্ট্র

|| প্রকাশ: ২০১৫-১০-১৮ ১১:২৯:৫৬ || আপডেট: ২০১৬-০৪-০২ ১৩:০৮:২৫

us-flagবাংলাদেশে পশ্চিমা নাগরিকদের ওপর আবারও সন্ত্রাসী হামলা হতে পারে- এ সংক্রান্ত ‘বাস্তব ও নির্ভরযোগ্য’ তথ্য আছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ তথ্যের ভিত্তিতে দেশটি বাংলাদেশে ভ্রমণ কিংবা চলাফেরা করার সময় মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক থাকতে বলেছে।

শনিবার ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের হালনাগাদ নিরাপত্তা বার্তায় সে দেশের নাগরিকদের এ পরামর্শ দেয়া হয়। দূতাবাসের ওয়েবসাইটে বার্তাটি সন্ধ্যায় হালনাগাদ করা হয়।

বার্তায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে, দেশে কোনো আইএস জঙ্গি নেই। বিদেশীদের নিরাপত্তা জোরদার করতে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো কূটনৈতিক জোনসহ সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে বাড়তি পদক্ষেপও নিয়েছে। তবু সন্ত্রাসের হুমকির ‘বাস্তব ও বিশ্বাসযোগ্য’ তথ্য রয়ে গেছে। বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক হোটেলগুলোতে আয়োজিত পশ্চিমা নাগরিকদের বড় জমায়েতসহ অন্যান্য স্থানে তাদের লক্ষ্য করে হামলা হতে পারে।

ওই বার্তায় বলা হয়েছে, ২৮ সেপ্টেম্বর ইতালির একজন এবং ৪ অক্টোবর জাপানের একজন নাগরিককে হত্যার দায়িত্ব স্বীকার করে আইএসআই। ভবিষ্যতেও মার্কিন নাগরিকসহ পশ্চিমাদের লক্ষ্য করে হামলা হতে পারে। ওই বার্তায় বাংলাদেশে ভ্রমণরত কিংবা অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়া, নিজেদের নিরাপত্তার ব্যাপারে সতর্ক থাকা এবং স্থানীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতির পরিবর্তনের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে বিশেষভাবে উৎসাহিত করা হয়েছে। বলা হয়েছে, ভ্রমণের সময় দূতাবাসের কর্মীরা সতর্কতামূলক নিরাপত্তাবিধি অনুসরণ করবেন। সরকারি কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারের সদস্যদের জনসমাগম স্থলে যাওয়ার কোনো অনুমতি নেই। হেঁটে, মোটরসাইকেলে, সাইকেলে কিংবা কোনো ধরনের খোলামেলা বাহনে চলাফেরা করাও ঠিক হবে না।

দূতাবাসের নিরাপত্তা শাখার অনুমতি ছাড়া আন্তর্জাতিক হোটেলসহ বাংলাদেশের বড় কোনো সমাবেশে যেতেও নিষেধ করা হচ্ছে। ২৫ সেপ্টেম্বর প্রথম নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করে অস্ট্রেলিয়া। এরই মধ্যে ২৮ সেপ্টেম্বর ঢাকায় ইতালি নাগরিক সিজারি তাভেল্লা সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন। ওইদিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বেশ কয়েকটি পশ্চিমা দেশ সতর্কতা জারি করে। একই সঙ্গে নিরাপত্তা ঝুঁকি দেখিয়ে ক্রিকেট টিম অস্ট্রেলিয়া তাদের বাংলাদেশ সফর বাতিল করে।

এরই মধ্যে ৩ অক্টোবর রংপুরে জাপানি নাগরিক কুনিও হোশি সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত হয়। তার পর থেকে যুক্তরাজ্য তাদের সতর্ক বার্তা প্রত্যাহার না করে ওয়েবসাইটে তাদের নাগরিকদের জন্য সতর্ক বার্তা হালনাগাদ করতে থাকে।