জিহ্বা ‘কাটার’ ঘটনায় গ্রেপ্তার ৫

বক্তব্যে অসন্তুষ্ট হয়ে ইসলামী বক্তার ওপর হামলা

সানবিডি২৪ প্রকাশ: ২০২৩-০৩-০৮ ১৮:৪৪:২৫


ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ইসলামী বক্তা মাওলানা মো. শরীফুল ইসলাম ভূঁইয়া নূরীর (৩৬) ওপর হামলা করা হয় মাহফিলে দেওয়া তাঁর বক্তব্যে অসন্তোষ্ট হয়েই। এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত পাঁচজনকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদে এমন তথ্যই পেয়েছে পুলিশ ও র‌্যাব। হামলার প্রতিবাদে জেলা সদর ও বিজয়নগরে পৃথক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মঙ্গলবার রাতে র‌্যাব-০৯ এর হাতে গ্রেপ্তারকৃতরা হলো জেলার বিজয়নগর উপজেলার শ্রীপুর গ্রামের জাকির হোসেন ওরফে জাক্কু (৪৮), একই গ্রামের মাহবুবুল আল শিমুল (৩৩), একই উপজেলার চাওড়া গ্রামের মো. সুমন (৩৫) ও কুমিল্লার দেবীদ্বার এলাকার বাসিন্দা বর্তমানে চাওড়া দৌলতবাড়ি গ্রামের মো. আমিরুল ইসলাম (২০)।

এর আগে গত সোমবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে বিজয়নগর উপজেলার সিঙ্গারবিল গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে শাহিনুর ইসলাম (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার আখাউড়া থানা পুলিশ। এর মধ্যে জাকির হোসেন এজহারনামীয় আসামি।

এদিকে হামলায় আহত শরীফুল ইসলাম ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি একটি কাগজে লিখে উল্লেখ করেন, ‘হামলার সময় তার বুকের ওপর উঠে জিহ্বায় আঘাত করা হয়।’

বুধবার দুপুরে র‌্যাব-৯ এর ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার পৈরতলার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ইসলামী বক্তার বক্তব্যের কিছু অংশ আসামিদের কাছে গ্রহণযোগ্য মনে হয়নি। সেই বক্তব্যে ক্ষিপ্ত হয়েই তার ওপর হামলা চালানো হয়। হামলার ফলে জিহ্বা কেটে যায়।

সংবাদ সম্মেলনে সিনিয়র এএসপি আফসান-আল-আলম এর লিখিত বক্তব্য পাঠ করে শোনান উইং কমান্ডার মুমিনুল হক। এ সময় তিনি জানান, গোয়েন্দা তথ্য ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ইসলামী বক্তাকে হত্যাচেষ্টার সঙ্গে জড়িত আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। একাধিক আভিযানিক দল গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেতে রাত পর্যন্ত চট্টগ্রাম ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে মামলার এজাহারনামীয় একজনসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে স্বীকার করেছে।

হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আখাউড়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আবু সালেক জানান, হামলার সময় মাওলানা শরীফুলের জিহ্বা কেটে যায়। হামলাকারীরা আগে থেকেই এ বক্তার ওপর ক্ষিপ্ত ছিল।

শনিবার রাতে আখাউড়ায় মাহফিল শেষে ফেরার পথে মাওলানা শরীফুল ইসলামের ওপর হামলা হয়। তার জিহবাতেও আঘাতের চিহ্ন আছে। রবিবার রাতে এ ঘটনায় তার চাচা বাছির ভূঁইয়া বাদী হয়ে জাকির হোসেন ও রায়হানের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে আখাউড়া থানায় মামলা করেন।

মাওলানা শরীফুল ইসলাম ভূঁইয়া বিজয়নগর উপজেলার শ্রীপুর ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার আরবি প্রভাষক ও সদর উপজেলার চাপুইর গ্রামের মাওলানা আব্দুর রশিদ ভূঁইয়ার ছেলে। বিজয়নগর উপজেলার দৌলতবাড়ি গ্রামে মাহফিলে বক্তব্য দিয়ে নিজ গ্রাম সদর উপজেলার চাপুইরে ফেরার পথে শনিবার রাতে আখাউড়ার আজমপুরে তিনি এ হামলার শিকার হন। এ সময় ওনার সঙ্গে থাকা ভাগ্নে মোটরসাইকেল আরোহী ওবায়দুল্লাহও (৩৪) আহত হন।

বিজয়নগর উপজেলার শ্রীপুর ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার সহকারী অধ্যাপক (আরবি) মাওলানা আবুল কালাম আজাদ জানান, দৌলতবাড়ি মাহফিলে দেওয়া বক্তব্য শিয়াদের বিরুদ্ধে যাওয়ায় এ হামলা হয়। মাহফিল শেষে ভাগ্নের মোটরসাইকেলে করে ফেলার পথে তিনি এ হামলার শিকার হন। আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে পাঠায়। সেখান থেকে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে পাঠানো হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে শ্রীপুর ইসলামিয়া মাদরাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা রবিবার মানববন্ধন করেছেন।

আখাউড়া থানার ওসি মো. আসাদুল ইসলাম জানান, র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া চারজনকে বৃহস্পতিবার আদালতে পাঠানো হবে। পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তিনি জানান, হামলার সময় ওই ব্যক্তির জিহ্বায় আঘাত লাগে।

এএ