সরকারের ফয়সালা রাজপথেই করা হবে : ফখরুল
সানবিডি২৪ প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২৩-০৩-০৮ ২০:০১:৫৪
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, পদত্যাগ না করলে সরকারের ফয়সালা রাজপথেই করা হবে। আমাদের সামনে কোনো বিকল্প নাই। এরা সহজে যায় না, এদেরকে ধাক্কা মারতে হয়। আপনাদের অনেকে হীরক রাজার দেশে ছবিটা দেখেছেন না। ছবিতে কী বলছে? দড়ি ধরে মারো টান, রাজা হবে খান খান। সুতরাং দড়ি ধরে টান মারার সময় এসেছে।
বুধবার (৮ মার্চ) বিকেলে এক আলোচনাসভায় বিএনপি মহাসচিব এসব কথা বলেন। রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউট মিলনায়তনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ১৭তম কারাবন্দী দিবস উপলক্ষে বিএনপি এই আলোচনাসভার আয়োজন করে।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আসুন আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হই। আমাদের নেতা তারেক রহমান সাহেব আমাদেরকে খুব পরিস্কার করে বলে দিয়েছেন যে, ফয়সালা হবে রাজপথে। রাজপথেই আমরা আছি, রাজপথেই এর মীমাংসা আমরা করব ইনশাল্লাহ। এখনো সময় আছে সরে যান।’
‘আমরা পরিষ্কার করে বলতে চাই, কোনো কথা বলে লাভ হবে না’ উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এখনো সময় আছে, আমরা যে ১০ দফা দিয়েছি সেই ১০ দফা মেনে নিন। পদত্যাগ করুন, সংসদ বিলুপ্ত করুন এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করুন। তা নাহলে পালাবার পথ খুঁজে পাবেন না। আপনারা বলেন, কোথায় পালাব। অতীতে তো পালিয়েছেন। কেউ পাকিস্তানে পালিয়েছেন, কেউ ভারতে পালিয়েছেন ১৯৭১ সালে। এবার কিন্তু সেই পথও খুঁজে পাবেন না। আবারও বলছি, দয়া করে পরিবর্তন নিয়ে আসুন। এই সংকট উত্তরণ করুন। নইলে কোথাও পালাবার পথ পাবেন না।’
‘রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিউশন মিলনায়তনে বক্তব্য দিয়ে ফেরার পথে যুব দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মোনায়েম মুন্নাকে গ্রেপ্তারের নিন্দা’ জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমি অবিলম্বে মোনায়েম মুন্নাকে মুক্তির দাবি জানাচ্ছি। রুহুল কবির রিজভীসহ আটক নেতাদের মুক্তি দাবি করছি। এভাবে অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করা, আটক করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। অন্যথায় জনগণ এর প্রতিরোধ গড়ে তুলবে, এর জবাব আপনাদেরকে দেওয়া হবে।’
তিনি বলেন, ‘পঞ্চগড়ের হামলার ঘটনায় আমাদের জড়ানোর জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বক্তব্য দিয়েছেন যে, বিএনপিও জড়িত আছে। আমাদের প্রায় দেড় শ মানুষকে সেখানে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্যটা কী? উদ্দেশ্য একটাই আবার সেই ষড়যন্ত্র করে বিএনপিকে সাম্প্রদায়িক ঘটনার জন্য দায়ী করে উদোর-পিন্ডি বুদোর ঘাড়ে চাপাতে চায়। কিন্তু এখন আর জনগণ তাদের সেই কথা শুনবে না, তাদের সেই মিথ্যা মন্তব্য শুনবে না। তারা খুব ভালো করে জানে যে, আওয়ামী লীগ চক্রান্তমূলকভাবে নিজেরাই এই ঘটনাগুলো ঘটিয়েছে।’
‘ইতিমধ্যে তাদের রেলমন্ত্রী সেখানে গিয়েছিলেন’ জানিয়ে ফখরুল বলেন, ‘রেলমন্ত্রী যখন সেখানে গেছেন তখন আহমদীয়া সম্প্রদায়ের লোকেদের জিজ্ঞাসা করেছেন এর জন্য দায়ী কে? কারা করেছে? তখন তারা বলেছেন, আপনার (মন্ত্রী) পাশে যারা যারা আছে তারাই এজন্য দায়ী, আওয়ামী লীগের লোকেরা করেছে।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘কীভাবে দেশ চালাও? পর পর তিন দিন বিস্ফোরণ হলো। সায়েন্স ল্যাবরেটরির কাছে হলো, চট্টগ্রামে হলো, ঢাকায় গতকালের বিস্ফোরণে ১৯ জনের প্রাণ গেল। কারো কোনো দায় নেই। সরকার চালাচ্ছো তোমরা? তোমাদের সব প্রতিষ্ঠান আছে- যাদের দায়িত্ব হচ্ছে এগুলো দেখা যে, কোথায় ঠিক মতো আছে কিনা, সেগুলোর দিকে তোমাদের কোনো নজর নেই। নজর একটাই চুরি করা, দুর্নীতি করা।’
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলের সভাপতিত্বে ও প্রচার সম্পাদক শহিদ উদ্দিন চৌধুরীর সঞ্চালনায় আলোচনাসভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, আহমেদ আজমদ খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমান উল্লা্হ আমান, আবদুস সালাম, কেন্দ্রীয় নেতা খায়রুল কবির খোকন, আবদুস সালাম আজাদ, অঙ্গসংগঠনে মহিলা দলের হেলেন জরিন খান, মুক্তিযোদ্ধা দলের সাদেক আহমেদ খান, যুব দলের সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, আবদুল মোনায়েম মুন্না, স্বেচ্ছাসেবক দলের এস এম জিলানি, কৃষক দলের শহিদুল ইসলাম বাবুল, মতস্যজীবী দলের রফিকুল ইসলাম মাহতাব, তাঁতী দলের আবুল কালাম আজাদ ও ছাত্র দলের সাইফ মাহমুদ জুয়েল বক্তব্য দেন।
এএ






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন














