রাবিপ্রবি’র সংঘর্ষের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ

|| প্রকাশ: ২০১৫-১০-১৮ ১৯:০৯:০৬ || আপডেট: ২০১৫-১০-১৮ ১৯:০৯:০৬

Untitled-2রাঙামাটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে গত ১৭ই অক্টোবর রোজ শনিবারের সংঘর্ষের জন্য পিসিপির উদ্দেশ্য প্রনোদিত মিথ্যা বিবৃতি ও সংবাদ প্রচারের জন্য তীব্র নিন্দা জানিয়ে রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আজ এক বিবৃতি জানিয়েছে।

বিবৃতিতে জানানো হয়, ১৭ই অক্টোবর শনিবার দুপুরে রাঙামাটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে সংঘর্ষের ঘটনায় রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক ও কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মেধাবী ছাত্র শামসুজ্জামান বাপ্পীকে ষড়যন্ত্রমূলক ও পরিকল্পিত ভাবে রাঙামাটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সংঘর্ষের ঘটনার সাথে জড়ানোর জন্য রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। একই সাথে বলতে চাই পিসিপি কর্মীরা ও একটি কূচক্রীমহল তাদের পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়নের বিপক্ষে ঘোড় ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।

তারই অংশ হিসেবে গত ১৭ই অক্টোবর তারা সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানোর চেষ্টা করেন। যা সাধারন জনগণ ও প্রশাসনের সাহসী ভূমিকার জন্য নিয়ন্ত্রন সম্ভব হয়েছিলো। এর আগে গত ১১ই অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় শ্রেণী কার্যক্রম শুরু করার দাবীতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানব বন্ধন পরবর্তীতে তারা গত ১৫ই অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের দাবীতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। যা এই জাতির জন্য একটি কলংকিত মুহুর্ত। তারা বিশ্ববিদ্যালয় মেধাবী শিক্ষার্থীদের বহিরাগত সন্ত্রাসী হিসেবে আখ্যায়িত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। আমাদের এই বিশ্ববিদ্যালয়কে বিতর্কীত ও বন্ধের পায়তারা করছে।

আমরা বলতে চাই, যে কূচক্রীমহল শিক্ষার বিরুদ্ধে আন্দোলন করে তারা কতটা হীন প্রকৃতির। শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড কিন্তু এই কূচক্রীমহল তাদের কার্যকলাপের মাধ্যমে প্রমাণ করে যে, তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না। তারা এই অঞ্চলকে সন্ত্রাসীর আখড়ায় পরিণত করতে চাই। এ কূচক্রীমহল রাঙামাটিতে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগিয়ে অস্থিতিশীল করার পায়তারা করছে।

পাহাড়েরর অভ্যন্তরীন রাজনৈতিক কোন বিষয়ে নাক গলানোর কোন প্রকার ইচ্ছা আমাদের নেই। আমাদের একমাত্র উদ্দেশ্য আমাদের শ্রেণী কার্যক্রম শুরুর জন্য মাঠে থাকা। তাই আমরা এখানে পড়ে আছি। আমরা আপনাদের এই অঞ্চলে উচ্চ শিক্ষার আলোয় আলোকিত হতে এসেছি। আপনাদের সহায়তা পাওয়ার আসায় দূর দূরান্ত থেকে এখানে এসেছি ঠিক যেভাবে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে আপনাদের সন্তান গিয়ে শিক্ষা অর্জন করছে। আপনাদের কাছে আমাদের প্রশ্ন- আমরা কী আপনাদের সন্তাদের শিক্ষার ব্যাঘাত ঘটাচ্ছি ? যদি ব্যাঘাত না ঘটিয়ে থাকি- তাহলে কেন আমাদের সহযোগীতা না করে বিভিন্ন ভাবে উষকানী ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন ?

গত ১৭ই অক্টোবর শনিবার সংঘর্ষের সময় রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মোঃ রাসেল এর অসুস্থতার জন্য সামসুজ্জামান বাপ্পি, হুমায়ন কবির, শিহাব মাহমুদ সহ আমরা সবাই রাঙামাটি সদর হাসপাতালে উপস্থিত ছিলাম। পরবর্তীতে আমরা বিভিন্ন জনের মুখ থেকে সংঘর্ষের ঘটনা শুনে নিরাপত্তা জনিত ভয়ের কারণে আমরা হাসপাতালে অবস্থান করি। যা মেডিকেলের বহিঃবিভাগীয় রোগীর টিকেটে ডাক্তারের চিকিৎসা ব্যবস্থা পত্রে প্রমাণিত হয়। পরবর্তীতে সেনাবাহীনির সহায়তায় আমরা আমাদের বাসায় ফিরে আসি।

কিন্তু পিসিপি যে মিথ্যা বিবৃতির মাধ্যমে আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক এবং উদ্দেশ্যমূলকভাবে জড়াতে চেয়েছে তা তাদের এই গভীর ষড়যন্ত্র ও সংবাদ প্রচারের মাধ্যমে আবারও প্রমাণিত হয়েছে। একদিকে পিসিপি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণী কার্যক্রম শুরুতে বাধা দিয়ে আমাদের শিক্ষা জীবনকে বিপন্ন করছে। অন্যদিকে আমাদের বিরুদ্ধে নোংরা, কুৎসিত অভিযোগ এনে আমাদের ভাবমূর্তিকে বির্তকিত করার অপচেষ্ট করছে। আমরা পিসিপির এই হীন, নোংরা, সাম্প্রদায়িক জাতিগত উষ্কানী মূলক রাজনীতি ও অপচেষ্টাকে ঘৃণ্যভাবে প্রত্যাখান করছি। আমরা গত ১৭ই অক্টোবর সংঘর্ষের সাথে জড়িত দোষি ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তাদের আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানাচ্ছি।

পরিশেষে, আমরা আবারও রাঙামাটি বাসীর কাছ থেকে আমাদের শ্রেণী কার্যক্রম দ্রুত শুরু করার জন্য দল মত নির্বিশেষে সকলের সহযোগীতা কামনা করছি।

সানবিডি/ঢাকা/রাআ