ক্রমেই এগোচ্ছে ঘূর্ণিঝড় ‘রোয়ানু’, ৪ নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেত
প্রকাশ: ২০১৬-০৫-১৯ ১৭:৩০:১৫
পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও কাছাকাছি এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ‘রোয়ানু’ ধীরে ধীরে বাংলাদেশের উপকূলের দিকে এগোচ্ছে। বৃহস্পতিবার দুপুর নাগাদ এটি আরো উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে।
ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেতের পরিবর্তে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদফতরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানানো হয়েছে। বুধবার সৃষ্টি হওয়ার নিম্নচাপটি ঘণীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিলে বৃহস্পতিবার আবহাওয়াবিদরা এর নাম দেন ‘রোয়ানু’।
এছাড়া ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণের আশঙ্কা করে আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, এতে পাহাড়ি এলাকায় ভূমি ধস হতে পারে।
আবহাওয়ার বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড় ‘রোয়ানু’ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর থেকে এক হাজার ৩৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে এক হাজার ৩৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মংলা সমুদ্রবন্দর থেকে এক হাজার ১৮৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে এক হাজার ২১৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল। পরে এটি আরও ঘণীভূত হয়ে উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হতে পারে।
ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার যা দমকা বা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।
আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত মানে হল, বন্দর ঘূর্ণিঝড় কবলিত। বাতাসের সম্ভাব্য গতিবেগ ৫১ থেকে ৬১ কিলোমিটার। তবে ঘূর্ণিঝড়ের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেওয়ার মতো তেমন বিপজ্জনক সময় এখনো আসেনি।
উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে উপকূলের কাছাকাছি থাকতে বলেছে আবহাওয়া অধিদফতর। যাতে তারা স্বল্প সময়ের নির্দেশে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে পারে। সেই সাথে জেলেদের গভীর সাগরে বিচরণ না করতে বলা হয়েছে।
অতি ভারি বর্ষণ : অপরদিকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে আগামী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ী দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
ভারি বর্ষণের এক সতর্কবাণীতে বলা হয়েছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, সিলেট ও ঢাকা বিভাগের কোথাও কোথাও ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টি হতে পারে।
অতি ভারি বর্ষণের কারণে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের পাহাড়ি এলাকার কোথাও কোথাও ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে বলেও জানিয়েছেন আবহাওয়া অধিদফতর।
সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে বলেও আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।
গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি অব্যাহত আছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে সিলেটে ১১৯ মিলিমিটার।
সানবিডি/ঢাকা/এসএস






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন














