মহিবুরের ফাঁসি, মুজিবুর-রাজ্জাকের আমৃত্যু কারাদণ্ড

আপডেট: ২০১৬-০৬-০২ ১০:৩৯:০২


Razakarমানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার মহিবুর রহমান বড় মিয়াকে ফাঁসি এবং তার ছোট ভাই মুজিবুর রহমান আঙ্গুর মিয়া ও তাদের চাচাতো ভাই আব্দুর রাজ্জাককে আমৃত্যু কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।

একাত্তরের  মুক্তিযুদ্ধের সময় বানিয়াচংয়ের বিভিন্ন গ্রামে হত্যা, ধর্ষণ, অপহরণ, আটক, নির্যাতন, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগসহ ৪টি মানবতাবিরোধী অপরাধের মধ্যে সবগুলোই প্রমাণিত হওয়ায় এসব সাজা পেয়েছেন এ তিন ভাই।

প্রমাণিত চার অভিযোগের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা আকল আলী ও রজব আলীকে হত্যার দায়ে (প্রথম অভিযোগ) মহিবুরকে ফাঁসি এবং মুজিবুর ও রাজ্জাককে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। তাদের বিরুদ্ধে একাত্তর সালের ১১ নভেম্বর বানিয়াচং উপজেলায় হামলা চালিয়ে মুক্তিযোদ্ধা আকল আলী ও রজব আলীকে হত্যা করে মরদেহ গুম করার এ অভিযোগটি বলে রায়ে প্রমাণিত হয়েছে। অন্য তিনটির মধ্যে পাকিস্তানি বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক মেজর জেনারেল এমএ রবের বাড়িতে হামলা চালিয়ে অগ্নিসংযোগ ও লুটতরাজের  (দ্বিতীয় অভিযোগ) দায়ে ১০ বছর করে কারাদণ্ড পেয়েছেন তিনজনই।  খাগাউড়া এলাকার উত্তরপাড়ায় পাকিস্তানি বাহিনীকে মঞ্জব আলীর স্ত্রী ও আওলাদ ওরফে আল্লাত মিয়ার ছোট বোনকে ধর্ষণে সহযোগিতার  (তৃতীয় অভিযোগ) দায়ে কারাদণ্ড পেয়েছেন আরও বিশ বছর করে। পরে আল্লাত মিয়ার বোন বিষপানে আত্মহত্যা করেন। আর সর্বশেষ একাত্তর সালের ভাদ্র মাসের যেকোনো একদিন আনছার আলীকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে রাজাকার ক্যাম্পে নিয়ে নির্যাতন চালিয়ে পঙ্গু করার (চতুর্থ অভিযোগ) দায়ে তিনজনকেই সাত বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

সব মিলিয়ে মুহিবুর মৃত্যুদণ্ডের অতিরিক্ত এবং মুহিবুর ও রাজ্জাক আমৃত্যু কারাদণ্ডের অতিরিক্ত মোট ৩৭ বছর করে কারাদণ্ড পেয়েছেন।

বুধবার (০১ জুন) সকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের ২৪তম এ রায় দেন চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. আনোয়ারুল হক নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল। বিচারিক প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন- বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলাম ও বিচারপতি মো. সোহরাওয়ারদী।

সকাল ১০টা ৩৫ মিনিট থেকে বেলা বারটা ১০ মিনিট পর্যন্ত ২৪০ পৃষ্ঠার রায়ের সারসংক্ষেপ পড়ে শোনান বিচারপতিরা।

বিচারিক প্যানেলের সদস্য বিচারপতি মো. সোহরাওয়ারদী রায়ের প্রথম অংশ পাঠ করেন। এরপর রায়ের দ্বিতীয় অংশ পড়ে শোনান বিচারিক প্যানেলের অন্য সদস্য বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলাম। সবশেষে রায়ের মূল অংশ বা সাজা ঘোষণা করেন চেয়ারম্যান বিচারপতি মোহাম্মদ আনোয়ার উল হক।

এর আগে সকাল নয়টায় রায় শোনাতে মহিবুর-মুজিবুর-রাজ্জাককে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে এনে ট্রাইব্যুনালের হাজতখানায় রাখা হয়। সকাল সোয়া দশটায় তাদেরকে এজলাসকক্ষের আসামির কাঠগড়ায় তোলা হয়। সকাল সাড়ে দশটার পরে এজলাসে বসেন ট্রাইব্যুনালের তিন সদস্য। চেয়ারম্যানের সংক্ষিপ্ত সূচনা বক্তব্যের পর রায় ঘোষণা শুরু হয়।