বাজেটে উপেক্ষিত হয়েছে পুঁজিবাজার

প্রকাশ: ২০১৬-০৬-০৩ ১০:৫৫:৪৩


dse.sunbd২০১০ সালের ধসের ধাক্কা সামলে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি আমাদের পুঁজিবাজার। বরং দিন দিন এর অবস্থা নাজুক হয়েছে। ২০১০ সালে যে বাজারে দিনে ৩ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয়েছে, সেখানে গড় দৈনিক লেনদেন ৫শ কোটি টাকাও হয় না। পাঁচ বছরে অর্ধশতাধিক কোম্পানির আইপিও এলেও মূল্যসূচক ওই সময়ের অর্ধেকের চেয়েও নিচে অবস্থান করছে। তাই জাতীয় বাজেটকে ঘিরে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা ছিল অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি। কিন্তু এ প্রত্যাশার ছিটেফোঁটাও পূরণ হয়নি। বাজেটে উপেক্ষিত থেকে গেছে আমাদের পুঁজিবাজার।

অর্থমন্ত্রীর দীর্ঘ বাজেট বক্তৃতায় কিছু সংস্কার, নতুন আইন প্রণয়ন তথা সরকারের কথিত অর্জনের ফিরিস্তি ছাড়া কার্যত কিছু নেই। ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের করমুক্ত লভ্যাংশ সীমা বাড়ানো, তালিকাভুক্ত কোম্পানির আয়করের হার কমানো, মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারহাউজের জন্য স্বল্প সুদের তহবিল গঠনসহ অনেক প্রত্যাশা ছিল সংশ্লিষ্টদের। দুই স্টক এক্সচেঞ্জ, মার্চেন্ট ব্যাংক অ্যাসোসিয়েশন, ট্রেকহোল্ডার অ্যাসোসিয়েশনসহ স্টেকহোল্ডাররা সুনির্দিষ্ট কিছু প্রস্তাব জমা দিয়েছিল জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছে।

তাদের প্রস্তাবনায় ছিল স্টক এক্সচেঞ্জকে ৫ বছরের জন্য সম্পূর্ণ কর অবকাশ সুবিধা দেওয়া, ট্রেকহোল্ডারদের লেনদেনে উৎসে কর দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে দশমিক শূন্য ১৫ শতাংশ নির্ধারণ, করমুক্ত লভ্যাংশের সীমা ২০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা নির্ধারণ, তালিকাভুক্ত কোম্পানির করহার ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ নামিয়ে আনা, মার্চেন্ট ব্যাংকের বিদ্যমান করহার ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ নির্ধারণ করা ইত্যাদি। এসব প্রস্তাবের একটিও বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।

বাজেটে পুঁজিবাজার ধসে ক্ষতিগ্রস্ত মার্জিন ঋণ ও ঋণগ্রহিতা ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সুদ মওকুফজনিত কর থেকে অব্যাহতির প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। এ প্রস্তাব কার্যকর হলে বিনিয়োগকারীরা কিভাবে, কতটুকু উপকৃত হবে তা-ও স্পষ্ট নয়।

অবশ্য তেমন কোনো প্রণোদনা না রাখলেও বাজার নিয়ে ঠিকই বড় আশাবাদের কথা শুনিয়েছেন। কিছু সংস্কার আর সরকারের ‘কৃতিত্বের’ ফিরিস্তি শুনিয়ে তিনি বলেছেন, এসব কারণে শেয়ারবাজার এবার জেগে উঠবে।

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত পুঁজিবাজারের শৃঙ্খলা বজায় রাখা, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা, সিকিউরিটিজ আইন প্রতিপালন, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন সংস্কারের কথা বলেছেন। তাছাড়া তিনি নিয়ন্ত্রণ সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নানা কার্যক্রমের কথা তুলে ধরেন।

অর্থমন্ত্রীর এমন বক্তব্যে কি পেয়েছে পুঁজিবাজার? এমন প্রশ্নে বিভিন্নজন বিভিন্ন রকম উত্তর দিতে পারেন। তবে সবার উত্তরের সারমর্ম হবে একটাই, বাজেটে কিছুই পায়নি পুঁজিবাজার। এবারের বাজেটে পুঁজিবাজারকে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে বলে মনে করে বিশ্লেষকরা।

পুঁজিবাজার বিশ্লেষক অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, যারা লবিং করতে পেরেছে; তাদের দিকে গেছে এবারের বাজেট। আর যারা পুঁজি হারিয়ে বাজারে মাতম করছেন তাদের দিকে অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি পড়েনি।

অর্থনীতির এই গুরুত্বপূর্ণ খাতটির জন্য কোনো প্রণোদনা রাখা হয়নি। বাজেটে অর্থমন্ত্রী শুধু পুঁজিবাজারের পেছনের দিকের কথা বলেছেন, যার দরকার ছিল না। তালিকাভুক্ত হতে চায় এমন কোম্পানির ক্ষেত্রে; বিশেষ করে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে কোনো প্রণোদনা নেই। এতে আগের মতোই তারা পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তিতে আগ্রহ হারাবে বলে মনে করেন তিনি।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম সাইফুর রহমান মজুমদার বলেন, আমরা পুঁজিবাজারে স্বার্থে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে যে প্রস্তাবনা জমা দিয়েছি; সেগুলোকে সেভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। সেটা হলে এবারের বাজেটে পুঁজিবাজার সাপোর্ট পেত। পুঁজিবাজারের স্থবিরতা কেটে যেত। একই সাথে সরকারের প্রত্যাশা পূরণে আরও সহায়ক ভূমিকা পালন করতো।

সানবিডি/ঢাকা/আহো