দেশীয় শিল্প সুরক্ষায় নেই কোনো উদ্যোগ
আপডেট: ২০১৬-০৬-০৩ ১৪:২০:৩২
২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বাংলাদেশের প্রধান রফতানি খাত তৈরি পোশাক শিল্পে কর্পোরেট কর হার ৩৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ করার প্রস্তাব রেখেছে। অপরদিকে রফতানি পণ্যের ওপর ধার্যকৃত উৎসে কর হার আগের শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। কিন্তু এর সঙ্গে সুযোগ রাখা হয়নি কোনো বাড়তি প্রণোদনার। একই সঙ্গে সহজ শর্তে ও স্বল্প সুদে ঋণপ্রাপ্তিরও নিশ্চয়তা রাখা হয়নি। গ্যাস-বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহের কোনো প্রতিশ্রুতিও পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ নেয়ার পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
এতে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রাপ্তির হার সংকুচিত হবে এবং বিনিয়োগ হ্রাস পাবে। ফলে দেশীয় শিল্পোদ্যোক্তারা কর হার হ্রাসের সুফল পাবেন না। যার প্রভাব পড়বে কর্মসংস্থানে। একইভাবে দেশীয় মোটরসাইকেল উৎপাদক প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব যন্ত্রপাতি ছাড়া অন্যান্য যন্ত্রাংশ আমদানিতে হ্রাসকৃত শুল্ক হারে রেয়াতি সুবিধা দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
এ সিদ্ধান্ত দেশেই উন্নতমানের মোটরসাইকেল তৈরির পথ উন্মুক্ত করবে। তবে এ খাতে সিকেডি মোটরসাইকেলের আমদানিতে সম্পূরক শুল্ক হার আশংকাজনক হারে হ্রাস করে ৪৫ শতাংশ থেকে শর্তসাপেক্ষে আগামী দু’বছরের জন্য ২০ শতাংশ প্রস্তাব করা হয়েছে। অন্যদিকে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে মোটরসাইকেল উৎপাদনের ক্ষেত্রেও ভ্যাট অব্যাহতি প্রযোজ্য ছিল, যা উঠিয়ে নেয়ার প্রস্তাব করা হয়। দেশ এখন মোটরসাইকেল শিল্পে স্বয়ংসম্পূর্ণ। এ শিল্পকে সংরক্ষণ সুবিধা না দিয়ে উল্টো আমদানির পথ উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে। ফলে আমদানিকৃত ও সংযোজনকৃত মোটরসাইকেলের বাজারমূল্য কমবে। আর উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় দেশীয় উৎপাদক প্রতিষ্ঠান প্রতিযোগিতায় মার খাবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত দেশীয় শিল্পের জন্য অশনিসংকেত। তারা বলছেন, একদিকে সুবিধা দেয়া হবে, অন্যদিকে কেড়ে নেয়া হবে। আবার সংরক্ষণের উদ্যোগের কথা বলা হবে। অপরদিকে গণহারে সম্পূরক শুল্ক তুলে দিয়ে কিংবা আশংকাজনক হারে হ্রাস করে হুমকির মুখে ঠেলে দেয়া হয়েছে দেশীয় শিল্পকে। এটি দেশীয় শিল্পের সুষ্ঠু ও অবাধ বিকাশ বাধাগ্রস্ত করে তুলবে। তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান এ প্রসঙ্গে বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে উৎসে কর হার শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এটি তৈরি পোশাক খাতের উদ্যোক্তাদের মুনাফা কমিয়ে দেবে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা আরও কমে যাবে। তিনি বলেন, দেশীয় শিল্পের সংরক্ষণ ও বিকাশের সুযোগ না দিলে দেশে কর্মসংস্থান হবে না। কর্মসংস্থান না হলে মধ্য আয়ের দেশে হাঁটার পথও অনেকটা পিচ্ছিল হয়ে পড়বে। অপরদিকে প্রস্তাবিত বাজেট শুল্কবিষয়ক সিদ্ধান্ত দেশীয় শিল্পকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি হোসেন খালেদ। তিনি বলেছেন, আমদানি পর্যায়ে অনেক ক্ষেত্রেই সম্পূরক শুল্ক তুলে নেয়া হয়েছে। এটি দেশীয় শিল্পের জন্য আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। এতে করে বিদেশী পণ্যের বাজারে সয়লাব হবে দেশ। মার খাবে দেশী পণ্য। তবে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য ও সিনিয়র সচিব ড. শামসুল আলম এ দাবির সঙ্গে একমত হতে পারেননি।
তিনি বলেন, এবার প্রস্তাবিত বাজেটে দেশীয় শিল্প সহায়ক অনেক পদক্ষেপ রাখা হয়েছে, যা আগামী দিনে শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে। বিআইডিএসের সাবেক মহাপরিচালক ও অর্থনীতিবিদ ড. জায়েদ বখত বলেন, দেশীয় শিল্পের জন্য এবারের বাজেটে আগের সুযোগগুলো বহাল রাখার পাশাপাশি বেশকিছু নতুন সুবিধাও রাখা হয়েছে। এতে দেশীয় শিল্পের প্রতিযোগী সক্ষমতা বাড়বে এবং উৎপাদন ও কর্মসংস্থানও বাড়বে। একই সঙ্গে কিছু ক্ষেত্রে কর হার বৃদ্ধিও করা হয়েছে। রাজস্ব আদায়ে এটিই স্বাভাবিক নিয়ম। প্রস্তাবিত বাজেটে দেশীয় শিল্পে শুল্ক-কর সংক্রান্ত উদ্যোগ পর্যালোচনায় দেখা গেছে, রাবার উৎপাদন শিল্পকে প্রণোদনা প্রদানের লক্ষ্যে প্রাথমিক তরল অবস্থার প্রাকৃতিক রাবার অর্থাৎ ল্যাটেক্সের ওপর উৎপাদন পর্যায়ে বিদ্যমান ১৫ শতাংশ ভ্যাট অব্যাহতি দেয়া হয়েছে প্রস্তাবিত বাজেটে। একই সঙ্গে পাশাপাশি আরএসএস রিবেড স্মোকড শিটের ওপর উৎপাদন পর্যায়ে বিদ্যমান ১৫ শতাংশ ভ্যাট তুলে নেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এর ফলে দেশে রাবার উৎপাদনকারী শিল্প প্রতিষ্ঠানের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা আরও বাড়বে। এতে উৎপাদন খরচ কমবে।
সেই সঙ্গে এ খাতে নতুন উদ্যোক্তা আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ইলেকট্রিক্যাল খাত : এ খাতটিকে অধিকতর বিকাশের লক্ষ্যে এর ব্যবহার্য কতিপয় কাঁচামাল/উপকরণের শুল্ক হ্রাস, পুনর্বিন্যাস ও কতিপয় তৈরি পণ্যের শুল্ক বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। যেসব উপকরণের শুল্ক হ্রাসের প্রস্তাব করা হয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- ইউরিয়া রেজিন ২৫ শতাংশ থেকে হ্রাস করে ১৫ শতাংশ, রোল আকারের অ্যাডহেসিভ টেপ ২৫ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশ, ফাইবার গ্লাস আমদানিতে ৩০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক উঠিয়ে শূন্য শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। কম্প্রেসারের যন্ত্রাংশ ও উপকরণ আমদানিতে ১০ শতাংশের স্থলে ৫ শতাংশ ধার্য করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ফলে কিছু পণ্যে আমদানিকারকরা সুবিধা পেলেও এ পণ্যের দেশীয় উৎপাদনকারীরা চরম প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হবেন। রফতানিমুখী শিল্প : বর্তমানে রফতানিমুখী পোশাক শিল্পকে দুটি ভিন্ন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রপাতি ও প্রি-ফেব্রিকেটেড বিল্ডিং উপকরণে বিশেষ শর্তে রেয়াতি সুবিধা দেয়া হচ্ছে।
প্রস্তাবিত বাজেটে পোশাক শিল্প ছাড়া অন্যান্য রফতানিমুখী শিল্পকে একই সুবিধা দেয়া হচ্ছে। এছাড়া রফতানিমুখী পোশাক শিল্পে ব্যবহার্য কাটিং টেবিলে মূলধনী যন্ত্রপাতির রেয়াতি সুবিধা প্রদানের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। একইভাবে প্লাস্টিক শিল্প খাতের কতিপয় উপকরণেরও শুল্ক হ্রাসের প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে দেশীয় প্লাস্টিক শিল্প বাজার হারাবে। নির্মাণ শিল্প : একক খাত হিসেবে এটি হল অর্থনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাত। এ খাতের অধীনস্থ বিভিন্ন পণ্যের শুল্ক ও কর হ্রাস, ক্ষেত্রবিশেষে বৃদ্ধি ও ট্যারিফ মূল্য নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে বাজেটে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল- বোল্ডার স্টোন, ক্রাসড স্টোন, ফেরো অ্যালয়, বিলেট, বার রড, অ্যাঙ্গেল, ফ্লাই অ্যাশ ইত্যাদি। তাছাড়া অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রপাতি বা দরজা স্থানীয়ভাবে সংযোজনের সুবিধার্থে এ খাতের উচ্চ শুল্কের কিছু উপকরণের শুল্ক হ্রাস করে ১৫ শতাংশে ধার্যের প্রস্তাব করা হয়েছে।
টেক্সটাইল : এ শিল্পের উপখাতকে কর প্রণোদনা দেয়ার লক্ষ্যে গ্রে-কাপড় ডাইং, প্রিন্টিং, ফিনিশিং ও ক্যালেন্ডারিং সেবা খাতকে ভ্যাট অব্যাহতি দেয়া হয়। প্রস্তাবিত বাজেটে দেশীয় ভারি প্রযুক্তিগত শিল্পের বিকাশ ও প্রতিযোগিতামূলক রফতানি বাণিজ্য প্রসারের লক্ষ্যে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত রেফ্রিজারেটর, ফ্রিজার ও এয়ারকন্ডিশনারের উৎপাদনকে প্রণোদনা ঘোষণা দেয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে এসব পণ্যের উৎপাদন পর্যায়ে বিদ্যমান ভ্যাট অব্যাহতির মেয়াদ ৩০ জুন ২০১৭ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া টেক্সটাইল শিল্প খাতে প্রজ্ঞাপন ১৭৮/২০১০ এর মাধ্যমে ৩ শতাংশ শুল্ক হারে খালাসযোগ্য রাসায়নিকসহ বিভিন্ন উপকরণ বা কাঁচামাল মূলত মৌলিক কাঁচামাল। তাই ট্যারিফ যৌক্তিকীকরণের অংশ হিসেবে এবং সমপর্যায়ের চামড়া খাতের রেয়াতি হারের সঙ্গে সংগতি রেখে বিদ্যমান আমদানি শুল্ক ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশ ধার্য করা হয়েছে। বস্ত্র খাত : চাহিদা বিবেচনায় এ খাতকে আরও গতিশীল করতে স্ট্রিপিং কেমিক্যালে শুল্ক ২৫ থেকে ১৫ শতাংশে, ফ্ল্যাক্স ফাইবার এবং স্পানডেক্স/ইলাসট্রোমেট্রিক্স নামক কাঁচামালের শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশে ধার্যের প্রস্তাব করা হয়েছে। পরিবহন খাত : এ খাতের মধ্যে মোটরসাইকেল সংযোজন শিল্প একটি গুরুত্বপূর্ণ উপখাত। প্রগতিশীল উৎপাদনের মাধ্যমে পশ্চাদমুখী সংযোগ ঘটিয়ে এ খাতকে অনেক দূর এগিয়ে নেয়া সম্ভব।
অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তব্যে বলেন, এ সম্ভাবনার পথে সিকেডি মোটরসাইকেলে বিদ্যমান ৪৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বাধা হিসেবে বিবেচিত। এসব বিবেচনায় কতিপয় শর্তসাপেক্ষে ৪৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক হ্রাস করে দু’বছরের জন্য ২০ শতাংশ ধার্য করার প্রস্তাব করা হয়। একই সঙ্গে পরবর্তী সময়ে স্থানীয়ভাবে প্রগতিশীল হারে যন্ত্রাংশ উৎপাদনসাপেক্ষে হ্রাসকৃত শুল্কহারে অপরাপর যন্ত্রাংশ আমদানিপূর্বক দেশে উন্নতমানের মোটরসাইকেল উৎপাদনের লক্ষ্যে রেয়াতি শুল্ক সুবিধা দেয়ার প্রস্তাব করা হয়।
ভৌত অবকাঠামো খাত : ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ভৌত অবকাঠামো খাতের উন্নয়নে সরকারের শুল্কসংক্রান্ত উদ্যোগের কথা বলেছেন অর্থমন্ত্রী। গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাত : এ খাতের মূলধনী পণ্যে ব্যাপক শুল্ক-কর অব্যাহতি/রেয়াতের সুযোগ আগামী বছরও বহাল রাখা হয়েছে। এ ছাড়া বায়োগ্যাস প্ল্যান্টের উপকরণ স্টোভ, এয়ারটাইট স্টোরেজ ব্যাগ উইথ জিপার, বায়োগ্যাস ডাইজেস্টার, প্লাস্টিক ও গ্লাস ফাইবারের তৈরি গ্যাস সিলিন্ডারের আমদানি শুল্ক-কর হ্রাস করে রেয়াতি হারে শুল্ক ধার্য করা হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি খাত : এ খাতে প্রদত্ত শুল্ককর সুবিধা ২০১৬-১৭ অর্থবছরেও বহাল রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। তাছাড়া সিম কার্ড, স্ক্র্যাচ কার্ড, ক্রেডিট কার্ড ও সমজাতীয় অন্যান্য স্মার্ট কার্ড উৎপাদনে ব্যবহার্য কতিপয় উপকরণের শুল্ক হ্রাসের প্রস্তাব করা হয়েছে।
অন্যান্য শিল্প : ওষুধ শিল্পের উন্নয়নে ব্যবহার্য স্পেশাল টাইপ রেফ্রিজারেটর, ল্যাবরেটরি স্ট্যাবলিটি/হিউমিডিটি চেম্বারে মূলধনী যন্ত্রপাতির রেয়াতি সুবিধা দেয়া হয়েছে। শিল্পকারখানা ও যানবাহনে ব্যবহার্য গ্রিজের সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার করার ও লুব্রিকেটিং অয়েলের শুল্ক ১৫ শতাংশ, স্থানীয় শিল্পের স্বার্থে অ্যালু/অ্যালু বটম ফয়েলের শুল্ক ১৫ শতাংশ, প্রকাশনা শিল্পের স্বার্থে চিলড্রেন পিকচার, ড্রইং কালারিং বুকসের শুল্ক ৫ থেকে ১০ শতাংশ প্রস্তাব করা হয়েছে। বিনোদন শিল্পের উন্নয়নের স্বার্থে কতিপয় রাইডের আমদানি শুল্ক শর্তসাপেক্ষে ১০ শতাংশের অতিরিক্ত মওকুফ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
ট্যারিফ যৌক্তিকীকরণ : নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য, কৃষি, শিল্প ও অবকাঠামো খাতে গৃহীত ও আপনার মাধ্যমে ইতিমধ্যে এ মহান সংসদে উপস্থাপিত প্রস্তাবনাবলীর বাইরে বর্তমান ট্যারিফ হেডিং, এইচএস কোড, শুল্ক-করহার ও কাঠামো, বিভিন্ন বিদ্যমান প্রজ্ঞাপনে বিভিন্ন স্টেকহোল্ডার কর্তৃক চিহ্নিত ভুল, অসঙ্গতি, অযৌক্তিক কাঠামোর প্রয়োজনীয় সংশোধন করা হয়েছে।
এছাড়া প্রস্তাবিত বাজেটে কৃষি, শিল্প, ভারি প্রকৌশল শিল্প, টেক্সটাইল এবং রফতানি খাতের ন্যায্য স্বার্থ সংরক্ষণ এবং দেশীয় শিল্পের বিকাশ ও প্রতিরক্ষণের লক্ষ্যে পণ্য ও সেবার বিভিন্ন পর্যায়ে নতুনভাবে ভ্যাট অব্যাহতি বা কিছু ক্ষেত্রে বিদ্যমান অব্যাহতির মেয়াদ বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। শিল্প বিনিয়োগকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে মূলধনী যন্ত্রপাতিতে প্রদত্ত শুল্ককর রেয়াতি সুবিধা অব্যাহত রাখার প্রস্তাব দেন অর্থমন্ত্রী।
এছাড়া যথাযথ প্রতিরক্ষণের লক্ষ্যে বিভিন্ন শিল্প খাতে প্রদত্ত বিদ্যমান শুল্ককর অব্যাহতি বা রেয়াতি সুবিধা অব্যাহত রাখা, প্রযোজ্য বা যৌক্তিক ক্ষেত্রে তা সম্প্রসারণ, পুনর্বিন্যাস বা যৌক্তিকীকরণ করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। পাটজাত পণ্যের ক্ষেত্রে বর্তমানে উৎপাদন ও ব্যবসায়ী পর্যায়ে ভ্যাট অব্যাহতি থাকলেও কোনো ডিলার বা ব্যবসায়ী কর্তৃক টেন্ডার/কোটেশনের মাধ্যমে পাটজাত পণ্যের সরবরাহ কার্যক্রম জোগানদার সেবা হিসেবে গণ্য হওয়ায় ৫ শতাংশ হারে উৎসে ভ্যাট কর্তনযোগ্য। পাটজাত পণ্যের ক্ষেত্রে সরকারের বিদ্যমান প্রণোদনার অংশ হিসেবে পাটজাত পণ্যের জোগানদার সেবাকে ভ্যাট অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।
রাইস হলার ও এর যন্ত্রাংশের ওপর ভ্যাট অব্যাহতি থাকলেও হুইট ক্রাশারের ক্ষেত্রে শুধু যন্ত্রের ওপর উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট অব্যাহতি রয়েছে। কিন্তু হুইট ক্রাশারের যন্ত্রাংশের উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট আরোপিত আছে। দেশের ফাউন্ড্রি ও ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পের প্রসারের স্বার্থে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হুইট ক্রাশারের যন্ত্রাংশের ওপরও ভ্যাট অব্যাহতির প্রস্তাব দেয়া হয়। দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদনের উপকরণ স্ট্যাবিলাইজার ফর মিল্কের সম্পূরক শুল্ক ২০ শতাংশ থেকে হ্রাস করে ১০ শতাংশ ধার্য করার প্রস্তাব করা হয়েছে। হাঁস-মুরগি খাতের ক্রমাগত ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে তাদের জন্য আমদানি করা খাদ্যসামগ্রীর ওপর কিছু নতুন পণ্যসহ বিদ্যমান শুল্ক ও কর রেয়াত আগামী বছরেও প্রদানের প্রস্তাব করা হয়। কৃষি খাতের অধিকাংশ যন্ত্রপাতি বর্তমানে শুল্ক ও কর থেকে অব্যাহতিপ্রাপ্ত অথবা রেয়াতি হারে আমদানি করা হয়। এগুলো এখন দেশেও তৈরি হচ্ছে। তাই কতিপয় শর্তসাপেক্ষে এসব যন্ত্রাংশের আমদানি শুল্ক হ্রাস করে ১ শতাংশ ধার্য করা হয়।






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন














