ইসরায়েলের দখলদারিত্ব বন্ধে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান বাংলাদেশের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশ: ২০২৩-০৭-২৮ ১৭:২৫:০৬
দখলদার ইসরায়েলের অব্যাহত আগ্রাসনের কারণে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের দ্রুত অবনতিশীল পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। ফিলিস্তিনী ভূখণ্ডে ইসরায়েলি অবৈধ দখলদারিত্বের অবসান ঘটানো এবং সেখানে ফিলিস্তিনের জনগণের জন্য স্থায়ীভাবে শান্তি ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে নিরাপত্তা পরিষদে এ সংক্রান্ত গৃহীত রেজুলেশন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি বাংলাদেশ জোর আহ্বান জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি ও ফিলিস্তিনি প্রশ্নে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে অনুষ্ঠিত উচ্চ পর্যায়ের উন্মুক্ত বিতর্কে ওআইসি গ্রুপের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার সময় এ আহ্বান জানান জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত।
এ বিষয়ে স্থায়ী প্রতিনিধির অফিস থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, বক্তব্য দেওয়ার সময় রাষ্ট্রদূত মুহিত সাম্প্রতিককালে জেনিন শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলি আগ্রাসনের প্রতি নিরাপত্তা পরিষদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এই আগ্রাসনের ফলে নারী ও শিশুসহ অসংখ্য বেসামরিক হতাহতের ঘটনা এবং গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামোর ব্যাপক ধ্বংসের কথা উল্লেখ করেন। রাষ্ট্রদূত মুহিত দ্ব্যর্থহীনভাবে ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে ইসরায়েল কর্তৃপক্ষের এই ক্রমাগত আগ্রাসনের প্রতি তীব্র নিন্দা জানান।
তিনি বলেন, এ ধরনের আগ্রাসন শুধু ফিলিস্তিনিদের মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘন করে না, বরং প্রয়োজনীয় পরিষেবাগুলিতে তাদের প্রবেশাধিকার বন্ধ করে দেয়। তাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সম্ভাবনাকে ব্যহত করে। সর্বোপরি তাদের মানবিক মর্যাদাকে গুরুতরভাবে অবমাননা করে।
স্থায়ী প্রতিনিধি মুহিত ইসরায়েলের এই আগ্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, জবাবদিহিতার অভাব ইসরায়েলকে ক্রমাগতভাবে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করতে উৎসাহিত করছে। ওআইসির পক্ষ থেকে তিনি ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে ইসরায়েলি অবৈধ বসতি স্থাপনের সমস্ত কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ করার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন। ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সংঘটিত অপরাধের সম্পূর্ণ, স্বচ্ছ ও স্বাধীন তদন্তের দাবি জানান।
তিনি নিরাপত্তা পরিষদের রেজুলেশন ৯০৪ (১৯৯৪) এবং ফিলিস্তিনি বেসামরিক জনসংখ্যার সুরক্ষার বিষয়ে জাতিসংঘ মহাসচিবের ২০১৮ সালের প্রতিবেদনে প্রদত্ত সুপারিশসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ফিলিস্তিনি জনগণের সুরক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি জোরালো আহ্বান জানান।
ওআইসি’র প্রতিনিধিত্ব করার পাশাপাশি রাষ্ট্রদূত মুহিত বাংলাদেশের হয়েও বক্তব্য রাখেন। বক্তব্যে তিনি ফিলিস্তিনি জনগণের অবিচ্ছেদ্য অধিকারের প্রতি বাংলাদেশের অটল ও অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি একটি স্বাধীন, টেকসই ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ফিলিস্তিনের জনগণের বৈধ আকাঙ্ক্ষার ন্যায়সঙ্গত ও দীর্ঘস্থায়ী সমাধান অর্জনে বৈশ্বিক প্রচেষ্টার প্রতি বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
এনজে






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন














