ভিক্ষুক তৈরি বন্ধ করুন, জীবিকার ব্যবস্থা নিন

প্রকাশ: ২০১৫-১০-১৯ ১৪:১৬:৪০

baggerআমাদের দেশে সব চলে! মানবাধিকার লংঘন রুখতে গিয়েও এ দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘন হয় বারবার। “ভিক্ষাবৃত্তি’ মানবাধিকার লঙ্ঘন।” এই কথাটির এখন আর নতুন স্বাদ-গন্ধ নেই। এ কথা মিলিয়ন মিলিয়ন বার বলা হয়েছে, হচ্ছে। বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে ৪৪ বছর। তারপরও এসে কেন মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো বিষয়গুলো আলোচিত হচ্ছে? ৪৪ বছর আগে কেন নয়? আর কেনই বা তা কেবল টেবিল-চেয়ারের আলোচনা আর পরামর্শে সীমাবদ্ধ? কেনই বা ৪৪টি বছর ধরে এই ভিক্ষাবৃত্তি যে মানবাধিকার লঙ্ঘন বা মানবতার অপমান সেটি পেটের ভেতর রেখে দিতে হলো? দেশ তো এখন কাগজে-কলমে ‘মধ্যম আয়ের দেশ’ হয়ে বসে আছে! তাহলে কেন সেই মধ্যম আয়ের দেশে এখনো কোটি কোটি মানুষ ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করে?

ভিক্ষা এক প্রাচীন পেশা। পৃথিবীর সবদেশেই ভিক্ষুক আছে এবং হয়তো থাকবেও। কিন্তু জীবিকার মাধ্যম হিসেবে পরিচিত এ পেশা বাংলাদেশের মতো দারিদ্র্যপীড়িত উন্নয়নশীল দেশে তা এক জটিল এবং জাতীয় সমস্যা। এদেশে ভিক্ষুক সমস্যা দিনদিন যে হারে আশঙ্কাজনক পরিণতির দিকে মোড় নিচ্ছে, জাতি হিসেবে আমাদের কাছে তা সত্যিই লজ্জাষ্কর।

এদেশে ভিক্ষুকের সাথে পরিচিত নয়, এমন লোক সম্ভবত খুঁজে পাওয়া ভার! দেশজুড়ে পঙ্গপালের মতো ছুটে চলেছে ভিক্ষুকের অপ্রতিরোধ্য মিছিল। যদিও এদেশে ভিক্ষুকের সংখ্যা কতো, এর সঠিক পরিসংখ্যান এখনও জানা যায়নি। তবে দেশে শিক্ষিত ও কর্মক্ষম বেকারের সংখ্যাই যেখানে দু’কোটির ওপর। সেক্ষেত্রে ভিক্ষুকের সংখ্যা আরো বেশী হবে, তা বলাই বাহুল্য। এদেশে বিচিত্র কৌশলধারী বহুধরনের ভিক্ষুক দেখা যায়। ভিক্ষাবৃত্তি মানে ভিক্ষার মাধ্যমে জীবনধারণ। আর যারা নিজের অক্ষমতা ও অসামর্থ্যের কথা অন্যের কাছে অকপটে ব্যক্ত করার মাধ্যমে সাহায্য নিয়ে জীবিকানির্বাহ করে-তারাই ভিক্ষুক।

দারিদ্র্যপীড়িত বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী ও বয়সে ভারাক্রান্ত এক প্রকার অত্যন্ত অসহায় মানুষ রয়েছে যাদের দায়িত্ব নেয়ার কেউ নেই আথবা থাকলেও নেয় না। পেটের দায়ে একমাত্র বাধ্য হয়েই এরা জীবিকার সহজমাধ্যম হিসেবে ভিক্ষার আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করে থাকে। ইসলামি রাষ্ট্র ব্যবস্থায় ভিক্ষুকের পুনর্বাসন ও ভরণ-পোষনের দায়িত্ব যদিও মূলতঃ সরকারের। তারপরও আমাদের সমাজে সক্ষম ব্যক্তিদেরও এই দায়িত্ব থেকে সরে আসার কোন সুযোগ নেই। খেলাফতে রাশেদার যুগে এর প্রচুর নজির রয়েছে। সেসময় ভিক্ষুকতো দূরের কথা, যাকাত নেয়ার মতো অভাবী লোকও খুঁজে পাওয়া যেতোনা।

চরম বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক দৈন্যতার কারণেও বিপুল সংখ্যক মানুষ নিরুপায় হয়ে ভিক্ষার পথ বেছে নেয়। এরা মূলতঃ কৃত্রিমভাবে সৃষ্ট ভিক্ষুক। স্বার্থান্বেষী ও অপরিণামদর্শী শাসকের অযোগ্যতা এবং দুর্নীতির দরুন সাধারণ জনগণ দিনদিন দরিদ্র থেকে দরিদ্রতর হতে বাধ্য হয়েছে। এ দেশে উর্বর ভূমি, কৃষি উপযোগী আবহাওয়া ও দক্ষ-কর্মক্ষম বিপুল মানবসম্পদ থাকাসত্বেও তারা চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। বরং স্বাধীনতার ৪৪ বছর পরও দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা ও অযোগ্যতার আমাদের কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বেকারত্বের সংখ্যাও ক্রমশ বেড়েছে। দেশকে পেছনের দিকে ঠেলে দিয়ে একে অপরের বিরুদ্ধে নিজেদের ব্যর্থতার দায়ভার অন্যের ঘাড়ে চাপানোর প্রবনতা থেকেও আমরা বেরিয়ে আসতে পারিনি এখনো। আমাদের সমসাময়িককালে স্বাধীনতাপ্রাপ্ত কিংবা এদেশের চেয়েও অনুন্নত-দারিদ্রপীড়িত পার্শ্ববর্তী অনেক দেশ একই সময়ে অভাবনীয় পদ্ধতিতে উন্নতির শিখরে উঠে গেলেও আমরা ধাবিত হয়েছি এর উল্টোদিকেই! ফলে কয়েক কোটি শিক্ষিত বেকারে ভারাক্রান্ত নির্জীব ও নির্লিপ্ত লোকগুলোর অনেকেই আজ ভিক্ষাবৃত্তির মতো জঘন্য পেশার দিকেই পা বাড়াতে বাধ্য হচ্ছে।

এক ধরণের মানুষ আছে, যারা কঠিন বিপদে পড়ে বা বড় অঙ্কের টাকার প্রয়োজনে এককালীন বা মৌসুমী ভিক্ষুক সেজে ঈদ, যাকাত ও বিভিন্ন বড় বড় ধর্মীয় পর্ব উপলক্ষে ভিক্ষায় নামে এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এরা এলাকার বাইরে গিয়ে ভিক্ষা করে থাকে। বিশেষ করে ঈদ, যাকাত, কোরবানি এবং শবে বরাতে ঢাকায় কয়েক লাখ ভিক্ষুক সক্রিয় থাকে৷ একশ্রেণী আছে যারা উত্তরাধিকার সূত্রে ভিক্ষাবৃত্তিকে বেছে নেয় নির্লজ্জভাবে। ভিক্ষুক পিতামাতা বা আত্নীয়-স্বজনদের সংস্পর্শে কিংবা দেখাদেখিতে ভিক্ষাকে পেশা বানায় এরা।

চরম অলসতা ও কর্মবিমুখতার কারণে কিছু হতভাগ্য বিনাপুঁজির মাধ্যম হিসেবে ভিক্ষার পেশাকেই বেছে নেয়। উপার্জনের ঝুঁকিকে ভয় পায় বলেই কর্মক্ষম হয়ে এরা চায় বসে বসে খেতে ও পরতে, আর শেষে পেয়েও যায় চেষ্টা-তদবিরবিহীন এই পেশার অমৃতস্বাদ! কোনো কাজ করতে বললে বা দিতে চাইলেও এরা কাঁচুমাচু করে এড়িয়ে যায়। জোর করে এদের কাজে নিয়োগ করতে চাইলেও এরা তা আদৌ করতে চায়না কিংবা পালিয়ে গিয়ে আত্মসম্মান বিসর্জন দিয়ে ভিক্ষা করেই বেড়ায়। এমনকি বুঝিয়ে-সুঝিয়ে ধরে নিয়ে গিয়ে কাজে লাগানোর পর এদের পালিয়ে যাবার তিক্ত অভিজ্ঞতাও রয়েছে অনেকের। এদের সংখ্যাও কিন্তু নেহায়েত কম নয়।

আরেক ধরণের ভিক্ষুক আছে যারা মূলত প্রতারকরূপী ব্যবসায়ী। বিকলাঙ্গ শিশু, প্রতিবন্ধী বা অসুস্থ, মৃত কাউকে মাধ্যম বানিয়ে ভিক্ষা করে এরা। আবার অনেকে নিজে অন্ধ, বোবা, কালা, মৃগীরোগী, পাগল ইত্যাদি সেজে ধোকা দিয়ে দিব্যি উপার্জন করে যাচ্ছে। কারো প্রতিবন্ধিতার অজুহাত, শরীরের দগদগে ঘা জিইয়ে রেখে, কাউকে রোগী সাজিয়ে বা মৃত আত্মীয়স্বজনের লাশের সৎকার, শ্রাদ্ধ, কারো বিয়ে, পবিত্র কুরআন ক্রয় বা খতম দেয়া, ক্লাশের নতুন বই কেনা, মাদ্রাসা-মসজিদ, খানকা, পীরের শিরনীর নামেও অনেকে চাঁদার নামে ভিক্ষা করে বেড়ায়। হতদরিদ্র-নিঃস্ব মানুষগুলো বাধ্য হয়ে ভিক্ষাবৃত্তিকে বেছে নেয়। অন্যদিকে সুস্থ সবল মানুষ ছদ্মবেশে ভিক্ষা করে বড় অংকের টাকা সঞ্চয় করে রাতারাতি বাড়ি গাড়ীর মালিক হয়ে যাচ্ছেন। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য- ঢাকার শহরে ভিক্ষা করে বাড়ি করেছেন এমন ঘটনা বাস্তবে রয়েছে। বাংলাদেশে মোট জনসখ্যা ১৬ কোটি, তাই যারা ভিক্ষা করেন তারা হিসেব করে ১ লক্ষ লোক ১ টাকা করে দিলে কত দিন লাগে টাকার মালিক হতে। অন্ধ, খোড়া, বিকলাঙ্গ, প্রতিবন্ধী অল্প বয়সী বা বয়স্ক মানুষদের অপহরণ করে বা অল্প অর্থে ক্রয় করে দালালরা বিভিন্ন জায়গায় বসিয়ে দেয়। শিশুপাচারকারী, শিশু অপহরণকারী বা ছেলেধরারা গোপন আস্তানায় রেখে কৃত্রিমভাবে বিকলাঙ্গ, কুঁজো বা প্রতিবন্ধী ইত্যাদি বানিয়েও অর্থের বিনিময়ে হতভাগ্য শিশুদের ভিক্ষার কাজে ভাড়া খাঁটিয়ে থাকে। দালালদের কথা মতে রাস্তার মোড়ে মোড়ে, মসজিদের সামনে, লোকালয়, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রভৃতি স্থানে জীর্ণ, শীর্ণ সাজসজ্জা এবং ভিক্ষা চাওয়ার বাচন ভঙ্গি শিখিয়ে দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে দালাল বা ভিক্ষাবৃত্তির চক্র খুবই অমানবিক আচরণ করে থাকে।

বাংলাদেশে এমনও ভিক্ষুক নেতা বা সর্দার আছেন তার অধীনে ১০/২০ জন ভিক্ষুক একটি নির্দিষ্ট এলাকায় ভিক্ষা করেন। সারা দিন ভিক্ষা করে যা পান তার সিংহ ভাগ নিয়ে যায় নেতারা আর যথা সামান্য পায় ভিক্ষুকরা। এতে করে খুব সহজে মোটা অংকের টাকা উর্পাজন করছে বিনা পরিশ্রমে। আমাদের দেশের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি গ্রাস করার ফলে এবং সর্বত্র স্বজন প্রীতির কারনে ধনীরা আরো ধনী আর গরীব মানুষেরা দিন দিন দরিদ্র থেকে দারিদ্র সীমার নিচে চলে যাচ্ছে। যার ফলে অসহায় মানুষ নিরূপায় হয়ে ভিক্ষাবৃত্তির মতো আপত্তিকর পেশা বেছে নিচ্ছে।

সমাজের অসহায় শ্রেণিগুলোর অসহায়ত্বকে পুঁজি করে এক শ্রেণির দালাল মোটা অংকের অর্থ রোজগার করছে। পত্রিকার খবর ও টিভি রিপোর্টিং-এ প্রকাশ হিঁজড়া না হয়েও অনেক লোক হিঁজড়াদের নেতা বনে গেছে। তারা ঢাকাসহ বড় বড় শহরে গিয়ে হিঁজড়াদের নিয়ে রীতিমত ব্যবসা করছে। যে হিঁজড়াগণ কেবল পেটের দায়ে নাচ-গান বা অন্যান্য বিনোদনমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করত, এ সব নকল হিঁজড়াদের প্ররোচনায় তারা এখন রীতিমত চাঁদাবাজি বা ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা ঘটাচ্ছে। এভাবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে ভিক্ষাবৃত্তি ক্রমান্বয়ে সহিংস অপরাধে রূপ নিচ্ছে।

ইন্টারন্যাশনাল লেবার অর্গানাইজেশন কনভেনশনেও ভিক্ষাবৃত্তিকে কোনোভাবে সমর্থন করা হয়নি। ১৬০১ সালে ইংল্যান্ডে ভিক্ষাবৃত্তি চরম আকার ধারণ করেছিল। রানী এলিজাবেথ শক্ত হাতে সেসময় ভিক্ষাবৃত্তি নির্মূল করার কারনে আজকে যুক্তরাজ্য উন্নত জাতি হিসেবে বিশ্বের বুকে মাথা তুলে দাঁড়াতে পেরেছে। ভিক্ষাবৃত্তি যে কোন জাতির কাছে একটি লজ্জাজনক বিষয়। আমাদের দেশে ভিক্ষাবৃত্তি একটি সামাজিক ব্যাধি হিসেবে রূপ লাভ করেছে। তাই যত দ্রুত সম্ভব এ অবস্থার উন্নয়ন করা দরকার। আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হলে এই বিশ্বায়নের যুগে কোনো ভাবেই ভিক্ষাবৃত্তি কাম্য নয়। ভিক্ষাবৃত্তির ফলে জাতি দিন দিন অলস হয়ে যাচ্ছে। যার ফলে আমাদের জনশক্তি কাজে লাগছে না। জাতি হিসেবে আমরা বিশ্বের বুকে অনেক পিছনে পড়ে আছি। সুতরাং ভিক্ষাবৃত্তি জাতির জন্য অভিশাপ বয়ে আনছে। একটি উন্নত জাতি গঠনের ক্ষেত্রে ভিক্ষাবৃত্তি মারাত্মক সামাজিক ব্যাধি। তাই এখনই সমাজ থেকেই ভিক্ষাবৃত্তির মূলোৎপাটন করতে হবে।

২০১০ সালের ৩০ জানুয়ারি ‘শিশুর অঙ্গহানি করে ভিক্ষাবৃত্তিতে বাধ্য করা’ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর উচ্চ আদালতে ভিক্ষাবৃত্তির বিরুদ্ধে রিট হয়৷ আদালত ২০১১ সালের ২ জানুয়ারি শিশু ভিক্ষাবৃত্তিসহ সর্বপ্রকার ভিক্ষাবৃত্তি বন্ধ করতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে হাইকোর্ট রুল জারি করে৷ ঐ বছরের ৯ জানুয়ারি রুল নিষ্পত্তি করে হাইকোর্ট রাজধানীসহ দেশের সব স্থানে শিশুদের দিয়ে ভিক্ষাবৃত্তি বন্ধ করতে নির্দেশ দেয়৷ একই সঙ্গে রাজধানীতে ভিক্ষাবৃত্তি বন্ধ করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে স্বরাষ্ট্র সচিবকে একটি কমিটি গঠনেরও নির্দেশ দেয়া হয়৷ এরপর ভিক্ষাবৃত্তি বন্ধে পদক্ষেপ নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি কমিটি গঠন করে৷ আর সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় তাদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেয়৷ তবে তা শেষ পর্যন্ত কাজে আসেনি৷

ভিক্ষাবৃত্তি বন্ধ করার জন্য ভাবতে হচ্ছে কেন? কারণ ভিক্ষাবৃত্তি রয়েছে। ব্যাপকভাবেই রয়েছে। আর তার অন্যতম কারণ জীবন-জীবিকা নির্বাহের আর কোনো উপায় না থাকা। ভিক্ষাবৃত্তির চেয়ে অপমানের আর কিছু নেই। সামান্যতম মান-সম্মান আছে এমন কোনো মানুষ কখনই ভিক্ষে করাকে পেশা হিসেবে নিতে চাইবে না। ভিক্ষাবৃত্তি সমাজের অভিশাপ। কারোর এটা কাম্য নয়। অনেকেই উপায়হীন হয়ে ভিক্ষাবৃত্তিতে আসে। আমরা জাতিতে একটু বেশি আবেগপ্রবণ। যখন কারও কাছে ভিক্ষা চায়, তখন আমরা অনেকেই তাকে সহানুভূতি থেকে ভিক্ষা দিই। কারণ খুঁজি না, খুঁজার চেষ্টাও করি না। সামান্য কয়টা টাকা দিয়ে আমাদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিই। আমরা কেন চিন্তা করি না, এরা দিন দিন শুধু হাত পেতেই যাবে? আমাদের আবেগটাকে আরো সংযত করে কি আমরা পজিটিভ চিন্তা করতে পারি না? আমার মতে, ভিক্ষাবৃত্তি রোধকল্পে আমাদের সামাজিক ও ধর্মীয় বিষয়ে প্রচলিত ধারণার পরিবর্তন নিয়ে আসতে হবে। দান-খয়রাত, যাকাত-ফিতরার ধরনে পরিবর্তন নিয়ে আসতে হবে। সামান্য দানে হাজার হাজার মানুষকে বিদুরের খুদ বিতরণ না করে নির্বাচিত দানের মাধ্যমে আমরা সমাজের অসহায় বা দরিদ্র কিংবা দান গ্রহণকারী ব্যক্তিদের ক্রমান্বয়ে ভাগ্যের পরিবর্তন নিয়ে আসতে পারি।

ভিক্ষুকরা সারাদেশে যে হারে পঙ্গপালের ন্যায় ছড়িয়ে পড়ছে—তাতে সভ্যতার দাবীদার মানুষ হিসেবে আমাদের আত্মসম্মান শুধু নয়, আগত বিদেশীদের কাছেও দেশের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। মাঝে মাঝে প্রবাসেও বাংলাদেশীদের ভিক্ষাবৃত্তি বিশেষত; ভিআইপি ভিক্ষুকবেশে ভিক্ষা করার কথা শুনেও মাথা হেট হয়ে যায়।

কী করলে আমাদের এ সমস্যা দূর হবে? এই অভিশপ্ত পেশার রাহুগ্রাস থেকে সমাজকে মুক্তি দিতে পারি, সেই পদক্ষেপ নেয়া জরুরী। আমি মনে করি, ভিক্ষাবৃত্তি থেকে মুক্তির সবচেয়ে ধন্বন্তরি উপায় হচ্ছে ভিক্ষুককে কর্মক্ষম করা ও তার নিশ্চিত আয়ের ব্যবস্থা করা। সেটি নিশ্চিত না করতে পারলে যত প্রকল্প আর যত গোলটেবিল-লম্বাটেবিল বা চৌকিটেবিল বৈঠক করি না কেন, যত দিস্তা দিস্তা ফরমায়েশি পরিকল্পনাই করা হোক না কেন, কাজের কাজ কিছুই হবে না। আগে ভিক্ষুক তৈরির মূল কারণ বা কারখানা দূর করুন এবং তাদের জীবিকার ব্যবস্থা করুন

 লেখকঃ আইনজীবি, বাংলাদেশ সুপ্রীমকোর্ট ও চেয়ারম্যান, ফার্স্ট ফোকাস বাংলাদেশ ট্রাস্ট্র
Print Print