জামায়াতের সমাবেশ স্থগিত, নতুন কর্মসূচি ঘোষণা

সানবিডি২৪ প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২৩-০৮-০১ ১২:০৭:০৫


পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী মঙ্গলবারের (১ আগস্ট) ডাকা শান্তিপূর্ণ সমাবেশ স্থগিত করে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এদিন বেলা ১১টার দিকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করা হয়েছে বিষয়টি।

জামায়াতে ইসলামী নতুন কর্মসূচি হিসেবে আগামী ৪ আগসট রাজধানীতে পুনরায় শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করবে বলে জানায়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী ৪ আগস্ট রাজধানী ঢাকায় শান্তিপূর্ণ সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করছি। আশা করি পুলিশ প্রশাসন এ ব্যাপারে সহযোগিতা করবে আমাদের।

বিজ্ঞপ্তিতে ১ আগস্টের কর্মসূচি স্থগিত করার কথা উল্লেখ করে বলা হয়, আমরা নগরবাসীকে সঙ্গে নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে চাই। সংঘাত-সংঘর্ষ নয়, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল আমরা। এ কারণে সংঘাতে এড়ানোর জন্য আজকের (০১ আগস্ট) কর্মসূচি স্থগিত করা হলো।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, রাজনৈতিক সভা, সমাবেশ করার জন্য পুলিশের অনুমতির প্রয়োজন নেই। সভা-সমাবেশ করা সংবিধান স্বীকৃত অধিকার। সংবিধানের ৩৭ ধারায় সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ‘জনশৃঙ্খলা বা জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসংগত বাধানিষেধ-সাপেক্ষে শান্তিপূর্ণভাবে ও নিরস্ত্র অবস্থায় সমবেত হইবার এবং জনসভা ও শোভাযাত্রায় যোগদান করিবার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের থাকিবে।’ সংবিধান প্রদত্ত এই অধিকার নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের। আমরা আরো লক্ষ্য করছি ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল মিছিল, মির্টিং ও সমাবেশ করে যাচ্ছে; কিন্তু সরকার জামায়াতে ইসলামীকে অন্যায়ভাবে সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে। যা আইনের শাসনের পরিপন্থি ও মৌলিক অধিকারের সুষ্পষ্ট লঙ্ঘন। বারবার সহযোগিতা চাওয়ার পরও সরকার সভা সমাবেশ করতে দিচ্ছে না।

উল্লেখ ২৮ জুলাই সকল মহানগরী এবং ৩০ জুলাই সকল জেলা সদরে শান্তিপূর্ণ মিছিলের কর্মসূচি ছিল।

পুলিশী বাধা উপেক্ষা করে জনগনের স্বত:স্ফুর্ত অংশগ্রহনে এই কর্মসূচি সফল হয়েছে। কিন্তু পুলিশ বিভিন্ন স্থানে বাধা দিয়েছে, হয়রানী করেছে, গ্রেফতার করেছে। বিগত ৫ দিনে ঢাকাসহ সারা দেশে ৫ শতাধিক নেতাকর্মীকে পুলিশ অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করেছে। আমরা বারবার বলে আসছি, আমরা শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করতে চাই। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কোন ধরনের সংঘাত, সংঘর্ষে বিশ্বাসী নয়।

দীর্ঘ ১০ বছর পর গত ১০ জুন রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে স্বল্প সময়ের নোটিশে সমাবেশ করতে দেয়া হয়েছিল। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ সেই দিন একটি সুশৃংখল ও শান্তিপূর্ণ ঐতিহাসিক সমাবেশ উপহার দিয়েছিল। যা দেশে বিদেশে সমাদৃত হয়েছিল। এ বারও আমরা শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ করতে চেয়েছি। কিন্তু সরকার আমাদের সমাবেশ করতে না দিয়ে চরম অন্যায় করেছে। আমরা আজকের এই সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

আসলে এই সরকার স্বাধীন মত প্রকাশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না। বাংলাদেশের সংবিধানে স্বাধীনভাবে চলাফেরা, মত প্রকাশ ও শান্তিপূর্ণ মিছিল-সভা সমাবেশ করার অধিকার রাখা হয়েছে। সংবিধান স্বীকৃত এই অধিকার বাস্তবায়নে সহযোগিতা করা রাষ্ট্রের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধান দায়িত্ব। সংবিধান হচ্ছে দেশের সর্বোচ্চ আইন। যেহেতু সংবিধানে মিটিং-মিছিল করার কথা বলা হয়েছে, তাই মিটিং-মিছিলে বাধা দেয়ার ক্ষমতা কারো নেই। আমরা স্পস্ট করে বলতে চাই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জনগণের দাবি আদায়ের আন্দোলন সংগ্রামে বদ্ধপরিকর। আমাদের এই দাবি আজ গণ দাবিতে পরিণত হয়েছে।

আমরা জনগণের দাবি আদায় না করে ঘরে ফিরে যাবে না ইনশাআল্লাহ। তীব্র গণ আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে জুলুমবাজ অবৈধ সরকারের পতন ঘটিয়ে তত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা হবে ইনশাআল্লাহ।

অতীতের মতো আমরা নগরবাসীকে সাথে নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে চাই। আমরা সংঘাত-সংঘর্ষ চাই না। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই সংঘাত এড়ানোর লক্ষে আমরা আজকের কর্মসূচি স্থগিত করে আগামী ৪ আগস্ট শুক্রবার রাজধানীতে পুনরায় শান্তিপূর্ণ সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষনা করছি। আমরা আশাকরি পুলিশ প্রশাসন এ ব্যাপারে আমাদের সহযোগিতা প্রদান করবে।

আমরা আবারো পুলিশ প্রশাসনের সংবিধান ও গনতন্ত্র বিরোধী কর্মকান্ড থেকে বিরত থাকার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। কোন দল বিশেষ নয়, দেশের পক্ষে, জনগনের পক্ষে ভূমিকা পালনের জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। সেই সাথে প্রশাসনকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, কোন দল চিরদিন ক্ষমতায় থাকবে না। তাই কোন দল বিশেষের নয়, দেশ ও জনগণের পক্ষে ভূমিকা পালন করার জন্য আপনাদের আবারো আহবান জানাচ্ছি।

এম জি