দেড় কোটি টাকার গাড়ি কিনতে পারবেন শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তারা
আপডেট: ২০২৩-০৮-০২ ০৯:৪৯:৩৯
সরকারি গাড়ি কেনার নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার এক মাসের মধ্যেই তা শিথিল করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। সোমবার নতুন নির্দেশনার মাধ্যমে সরকারি কর্মচারীদের জন্য গাড়ি কেনার পথ খুলে দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ। এর আগে গত ২ জুলাই অর্থ বিভাগ এক পরিপত্রের মাধ্যমে নতুন যানবাহন কেনা বন্ধের কথা জানিয়েছিল।
সরকারি কর্মচারীদের জন্য গাড়ি কেনার পথ খুলে দেওয়ার পাশাপাশি গাড়ির বাজেটও বাড়ানো হয়েছে। তাতে সরকারে শীর্ষ কর্মচারীরা পাবেন আগের চেয়ে বেশি দামি গাড়ি। এতদিন গাড়িবাবদ সর্বোচ্চ বরাদ্দ ছিল ৯৪ লাখ টাকা। এখন তা বাড়িয়ে ১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা করা হয়েছে। অর্থ বিভাগ রেজিস্ট্রেশন, শুল্ক-করসহ গাড়ির দাম নির্ধারণ করে গত সোমবার নতুন নির্দেশনাটি দিয়েছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর ও পরিদপ্তরের গ্রেড ১ ও ২ পর্যায়ের কর্মচারীদের জন্য মূলত ১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা দামের গাড়ি কেনার এক্তিয়ার রয়েছে। এ গাড়ি ২ হাজার ৭০০ সিসির ইঞ্জিনক্ষমতার বেশি হবে না, যা আগেও বলা ছিল।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের জারি করা নতুন নির্দেশনায় কোন গ্রেডের কর্মকর্তা কত টাকা মূল্যের গাড়ি ব্যবহার করতে পারবেন তা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে গাড়ির ধরন ও ব্যবহার উপযোগী মাত্রা সিসিও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় বলছে, সরকারি দপ্তরের জন্য বিভিন্ন কোম্পানির কার, জিপ, পিক-আপ (সিঙ্গেল কেবিন, ডাবল কেবিন), মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেল, অ্যাম্বুলেন্স, কোস্টার মিনিবাস (এসি), মিনিবাস (নন এসি), বাস (নন এসি) ও ট্রাক-এর বাজার দর বিবেচনা করে যানবাহনের মূল্য পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে।
কোন কর্মকর্তা কত টাকার গাড়ি পাবেন
জিপ – ১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা (অনূর্ধ্ব ২৭০০ সিসি) (ট্যাক্স ও ভ্যাটসহ); (গ্রেড-১ এবং গ্রেড-২ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য)।
জিপ – ৬৫ লাখ টাকা (অনূর্ধ্ব ২০০০ সিসি) (রেজিস্ট্রেশন, ট্যাক্স ও ভ্যাটসহ); (গ্রেড-৩ বা তদনিম্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য)।
কার – ৪৫ লাখ টাকা (অনূর্ধ্ব ১৬০০ সিসি) (রেজিস্ট্রেশন, ভ্যাট ও ট্যাক্সসহ);
এছাড়া পিক-আপ (সিঙ্গেল কেবিন) = ৩৮ লাখ টাকা (অনূর্ধ্ব ২৫০০ সিসি) (রেজিস্ট্রেশন, ভ্যাট ও ট্যাক্সসহ); পিক-আপ (ডাবল কেবিন) – ৫৫ লাখ টাকা (অনূর্ধ্ব ২৫০০ সিসি) (ভ্যাট ও ট্যাক্সসহ)।
মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা (অনূর্ধ্ব ১২৫ সিসি) (রেজিস্ট্রেশন, ভ্যাট ও ট্যাক্সসহ); মাইক্রোবাস = ৫২ লাখ টাকা (অনূর্ধ্ব ২৭০০ সিসি) (রেজিস্ট্রেশন, ভ্যাট ও ট্যাক্সসহ)।
অ্যাম্বুলেন্স – ৫৪ লাখ টাকা (অনূর্ধ্ব ২৭০০ সিসি) (রেজিস্ট্রেশন, ভ্যাট ও ট্যাক্সসহ); (৮) কোস্টার অথবা মিনিবাস (এসি) = ৭৫ লাখ টাকা (অনূর্ধ্ব ৪২০০ সিসি) (রেজিস্ট্রেশন, ভ্যাট ও ট্যাক্সসহ)।
মিনিবাস (নন এসি) – ৩২ লাখ টাকা (অনূর্ধ্ব ২৭৭১ সিসি) (রেজিস্ট্রেশন, ভ্যাট ও ট্যাক্সসহ); বাস (বড়, নন এসি)= ৪৬ লাখ টাকা (অনূর্ধ্ব ৫৮৮৩ সিসি) (রেজিস্ট্রেশন ব্যতীত);
(ক) ট্রাক – ৩৯ লাখ টাকা (৫ টন) (রেজিস্ট্রেশন, ভ্যাট ও ট্যাক্সসহ)।
(খ) ট্রাক – ৩১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা (৩ টন) (রেজিস্ট্রেশন, ভ্যাট ও ট্যাক্সসহ)।
বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, পরিদপ্তরসমূহের যানবাহন ক্রয়ে অনুমতি অথবা বরাদ্দ দেওয়ার ক্ষেত্রে উল্লিখিত মূল্য অনুসরণের জন্য অর্থ বিভাগের সব শাখা অথবা অধিশাখাসমূহকে এ মূল্য মেনে গাড়ি কেনার নির্দেশনা দেয়।
এর আগে গত ২ জুলাই অর্থ বিভাগ এক পরিপত্রের মাধ্যমে নতুন যানবাহন কেনা বন্ধের কথা জানিয়েছিল।
এম জি






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন














