রাতে এসএমএস এসেছিল মিতুর ফোনে
আপডেট: ২০১৬-০৬-০৬ ২১:৫৮:৪৬
ছেলে আকতার মাহমুদ মাহিরকে চট্টগ্রাম ক্যান্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে রেখে আসার জন্য প্রতিদিন সকাল ৭টায় বাসা থেকে বের হতেন পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা আক্তার মিতু। তবে গত শনিবার রাতে একটা নম্বর থেকে তার মোবাইলে এসএমএস দিয়ে ছেলের স্কুলে কুচকাওয়াজ ও অ্যাসেমব্লির কথা বলা হয়।
ওই এসএমএস পেয়েই মিতু পরদিন (গত রোববার) সকাল ৬টা ২০ মিনিটে বাসা থেকে বের হন। বাসার ১০০ গজ দূরত্বে নগরের পাঁচলাইশ থানার জিইসি মোড়ে দুর্বৃত্তরা মিতুকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে।
মাহমুদা আক্তার মিতু নগরের ও আর নিজাম আবাসিক এলাকার ‘ইক্যুটি সেনটিয়াম’ নামের একটি বাড়ির সপ্তম তলায় পরিবার নিয়ে স্বামীর সঙ্গে থাকতেন। বাসায় ছেলে আকতার মাহমুদ মাহির, মেয়ে তাবাসসুম তাজনীন তাপু ও গৃহকর্মী ফাতেমা আক্তার ছিলেন।
আত্মীয়-স্বজন ও পরিবারের সদস্যরা বলছেন, দুর্বৃত্তরা আগে থেকে হয়তো মিতুকে ফলো করে আসছিল কখন বের হয়। কখন বাসায় ফেরে কখন একলা থাকে এসবই পর্যবেক্ষণ করছিল। কিন্তু কোনো সুযোগ না পেয়ে ছেলেকে সকালে স্কুলে রেখে আসার জন্য কৌশলে এসএমএস করে। স্কুল কর্তৃপক্ষের এসএমএস ভেবেই মিতু বের হয়েছিলেন।
সোমবার দুপুরে রাজধানীর খিলগাঁও মেরাদিয়া ভূইয়াপাড়ায় ২২০/এ নং বাসায় মিতুর ছোট বোন শায়লা মোশাররফ নিনজা বলেন, আপুর (মিতু) খুনের খবরে আব্বুর সঙ্গে আমিও গিয়েছিলাম চট্টগ্রামে। ‘ইক্যুটি সেনটিয়াম’ নামের ওই ভবনের অপর ফ্ল্যাটের একাধিক নারীর সঙ্গে কথা হয়। তারা এসএমএস আসার বিষয়টি জানান।
শায়লা বলেন, রাতে মোবাইলে এসএমএস আসার পর আপু নিশ্চিত হওয়ার জন্য অন্য বাচ্চাদের অভিভাবকদের ফোন করেন। কিন্তু কয়েকজন জানান, ‘এসএমএস পাইনি, তবে ভাবি এসএমএস যেহেতু এসেছে সকালেই না হয় বের হবো। আপনিও বের হয়েন আমরা বের হবো।’ আপু যথারীতি পরদিন (রোববার) সকাল ৬টা ২০ মিনিটের দিকে বাসা থেকে বের হন। এরপরই এই দুর্ঘটনা।
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, জঙ্গিবিরোধী অভিযানে এসপি বাবুল আকতারের সক্রিয় ভূমিকার কারণে তার স্ত্রী মিতুকে হত্যা করা হতে পারে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, এই দুর্বৃত্তরা মোটরসাইকেলে এসেছিল। এরপর অভিযান চালিয়ে দুটি মোটরসাইকেলই জব্দ করেছে নগর পুলিশ।
ঘটনার পর থেকে কাজ করছে নগর পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও র্যাব।
পিবিআই চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বশির আহম্মেদ বলেন, ঘটনাস্থল থেকে একটি ব্যবহৃত এবং তিনটি অব্যবহৃত গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। কে বা কারা কি উদ্দেশ্যে মিতুকে হত্যা করলো তা জানার চেষ্টা চলছে। তবে খুব সম্ভবত জঙ্গিরাই এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত।
চট্টগ্রাম নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) পরিতোষ ঘোষ জানান, ঘটনাস্থলের আশপাশে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। মোটরসাইকেলও জব্দ করেছে পুলিশ। তদন্ত ডিবি পুলিশের হাতে ন্যস্ত হয়েছে।
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) দেবদাস ভট্টাচার্য বলেন, রোববার রাতে পাঁচলাইশ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ত্রিরতন বড়ুয়া বাদী হয়ে মিতু হত্যাকাণ্ডের মামলা দায়ের করেছেন। মামলার আসামি অজ্ঞাতনামা কয়েকজন।
মিতুর ফোনে আসা এসএমএস সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা বিষয়টি শুনেছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দুর্বৃত্তরা মিতুকে কুপিয়ে ও গুলি করে মৃত্যু নিশ্চিত করে চলে যাওয়ার সময় কিছু লুট না করলেও সঙ্গে থাকা ব্যাগ থেকে ব্যবহৃত মোবাইলফোনটি নিয়ে গেছে। ঠিক কোন নম্বর থেকে এসএমএস এসেছিল তা নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।
সানবিডি/ঢাকা/আহো






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













