‘ব্যবসা ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যবহার হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের স্যাংশন’

সানবিডি২৪ প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২৩-০৮-০৭ ২০:১৩:১৮


মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের বৈশ্বিক দুর্নীতি দমন বিভাগের সমন্বয়ক রিচার্ড নেফিউ বলেছেন, স্যাংশন (নিষেধাজ্ঞা) যুক্তরাষ্ট্রের দুর্নীতি দমনের হাতিয়ার। বিশ্বব্যাপী দুর্নীতি বিরোধী কার্যক্রমকে যুক্তরাষ্ট্র অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ভবিষ্যতে এটি ব্যবসা ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা হতে পারে বলে রিচার্ড নেফিউকে উদ্বৃত করে জানান পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন।

সোমবার (৭ আগস্ট) বিকালে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেনের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। পরে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে সচিব এ কথা জানান।

পররাষ্ট্রসচিব বলেন, নেফিউ বলেছেন- বিশ্বব্যাপী দুর্নীতি বিরোধী কার্যক্রমকে যুক্তরাষ্ট্র অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ভবিষ্যতে এটি ব্যবসা ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হতে পারে। এটি (স্যাংশন) যেকোনো দেশের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা যেতে পারে, শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়।

১১ জনের উপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আসছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এগুলো নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। তিনি (রিচার্ড) নিজেও যেহেতু স্যাংশনের কর্মকর্তা ছিলেন এক সময়, সুতরাং কোনো ইন্ডিভিজ্যুয়ালের কথা বলেননি। বলেছেন, ‘স্যাংশন ইজ অ্য টুল’, এ ধরনের চিন্তাভাবনা আছে।

দেশের বাইরে এস আলম গ্রুপের টাকা নেয়ার বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কী করতে পারে, জানতে চাইলে মাসুদ বিন মোমেন বলেন, আমরা এ ধরনের কোনো নির্দেশনা পাইনি এখন পর্যন্ত। যদি এমন কিছু থাকে তাহলে আমরা…। যদি দুর্নীতি দমন কমিশন আমাদের অনুরোধ করে তাহলে আমরা যেটা করার করব, আইনের মধ্যে থেকে।

বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডার মতো দেশগুলোতে মানিলন্ডারিং হয়ে থাকে। সেই টাকাগুলো ফেরত আনতে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ফেরত আনা তো পরের বিষয়। এগুলো কোন রুটে যাচ্ছে, সেগুলো বন্ধ করা দরকার। সবই যে অস্বচ্ছ টাকা, তা তো না।

‘আমরা অনেক সময় দেখেছি, কনাডায় পাচারের কথা বলেন। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে অনেক বাংলাদেশি আছে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, তারা কিন্তু অনেক কষ্ট করে পয়সা অর্জন করে কানাডায় গেছেন। সুতরাং সেটাও কিন্তু এখানে আছে। অনেকে ব্যবসা করেন এক্সপোর্টের, সেটির আয়ের একটি অংশ ওখানে থাকে, সেটাও কতটা অবৈধ সেটি আমি জানি না।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের অনেকে বাবা-মা, দাদার জমি বা অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রি করে নিয়ে গেছেন সেটার সোর্স অবৈধভাবে অর্জিত বলা ঠিক হবে না। কিন্তু সেটি কীভাবে নেয়া হয়েছে, আইনসঙ্গতভাবে নেয়া হয়েছে কিনা; সেই ইস্যুগুলো যাচাই-বাছাই করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ইনফরমেশনের দিক থেকে ওদের সাথে তো যোগাযোগ আছে। আমাদের যে সংস্থাগুলো আছে বাংলাদেশ ব্যাংক ওদের কাউন্টার পার্ট। ওদের সাথে যে খুব একটা সমস্যা আছে তা না। সব দেশের সাথে ইক্যুয়াল পাই না।

এএ