এসপির স্ত্রী হত্যায় ‘শিবির ক্যাডার’গ্রেফতার

আপডেট: ২০১৬-০৬-০৮ ১৫:১৬:৩৪


Mitu 2চট্টগ্রামে প্রকাশ্য দিবালোকে পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যার ঘটনায় আবু নছর গুন্নু (৪০) নামে ছাত্রশিবিরের সাবেক এক নেতাকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।

বুধবার সকালে হাটহাজারী উপজেলার পশ্চিম ফরহাদাবাদ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেফতা আবু নছর সীতাকুণ্ড উপজেলায় মৃত মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে।

বুধবার দুপুরে সিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) দেবদাস ভট্টাচার্য।

তিনি বলেন, ‘বাবুল আক্তারের স্ত্রী হত্যাকাণ্ডে একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আশা করছি তার থেকে তথ্য পাওয়া যাবে। তাকে হাটহাজারী উপজেলার পশ্চিম ফরহাদাবাদ এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হচ্ছে। আজকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার নাম হচ্ছে আবু নছর গুন্নু । সে এক সময় শিবিরের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলো। সে বিদেশে ছিলো বেশ কিছু দিন। তার বিষয়ে আমরা কিছু তথ্য পেয়েছি। এখন তাকে বিজ্ঞ আদালতে হাজির করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’

দেবদাস ভট্টচার্য বলেন, ‘গ্রেপ্তার আবু নছর দুই দফায় মধ্যপ্রাচ্যে ছিল। বিভিন্ন সময় সন্ত্রাসী কাজে অংশ নেয়ার তথ্য আছে। সীতাকুণ্ড থানায় একটি অপহরণনহ হত্যা মামলার আসামি তিনি। শেষ দফায় বিদেশ থেকে ফিরে হাটহাজারী একটি মাজারে আড়াল নেন তিনি।’

গত রোববার (৫ জুন) সকালে জিইসি মোড়ে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাত ও গুলি করে পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তারের স্ত্রী মিতুকে খুন করে দুর্বৃত্তরা। হত্যার তিন দিন পর এ ঘটনায় জড়িত কাউকে গ্রেফতার করল পুলিশ।

গ্রেফতার আবু নাসের হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নিয়েছিল কি না তা নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। দেবদাস ভট্টাচার্য বলেছেন, ‘বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’ তবে হত্যায় তার যে সম্পৃক্ততা আছে, এ ব্যাপারে নিশ্চিত তিনি।

হত্যায় সরাসরি তিন জন অংশ নিলেও এতে জড়িত আরও অনেকে। হত্যার সময় কাছাকাছি দাঁড়িয়ে থাকা ও মিশন সম্পন্নের পর মোটরসাইকেলের পেছনে মাইক্রোবাসটির চলে যাওয়াকে রহস্যজনক বলে মনে করছেন গোয়েন্দারা। ওই মাইক্রোবাসে খুনিদের সহযোগীরা অবস্থান করছিল বলেও সন্দেহ করছেন তারা।

সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, দুর্বৃত্তরা যখন মিতুকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করছিল, তখন জিইসি মোড়ের দিকে কিছুটা অদূরে দাঁড়িয়ে ছিল একটি কালো মাইক্রোবাস। মিতুর মৃত্যু নিশ্চিত করে ঘাতকরা মোটরসাইকেলযোগে পালিয়ে যাওয়ার ১০ সেকেন্ডের মাথায় ঘটনাস্থলে আসে মাইক্রোবাসটি। পাঁচ সেকেন্ডের মতো ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে আস্তে আস্তে চলা শুরু করে মাইক্রোবাসটি।

পরে গোলপাহাড় মোড়ের দিকে চলে যায় ওই মাইক্রোবাস। কালো কাচের এ মাইক্রোর চালকের আসনের পাশের জানালাটা খোলা ছিল। অন্যসব জানালা বন্ধ ছিল। এ কারণেই গোয়েন্দারা মাইক্রোবাসের যাত্রীর সঙ্গে এ খুনের সম্পৃক্ততার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে।

সোমবার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে সিএমপি কমিশনার মো.ইকবাল বাহার আলাপকালে বলেন, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি (চট্টমেট্রো-ল-১২-৯৮০৭) শুলকবহর বড় গ্যারেজ এলাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। এটি দিনভর সেখানে রাস্তার পাশে পড়ে থাকার পর রাতেও কেউ নিতে না আসায় সেটি জব্দ করা হয়।

পরে চেক করে জানা যায় এটিই হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটর সাইকেল। তার মানে খুনিরা ওই এলাকায় মোটর সাইকেল রেখে নিরাপদে পালিয়ে যায়। আর ওই পুরো এলাকাটা জামায়াত-শিবির অধ্যুষিত। এজন্য এ ঘটনার সঙ্গে শিবিরের সম্পৃক্ততার বিষয়ে সন্দেহ করছি। আমরা আগের হত্যাকাণ্ডের তদন্তে দেখেছি শিবিরের একটি অংশ পর্যায়ক্রমে জেএমবিতে যোগ দেয়। এ কারণেই হত্যাকাণ্ডে জেএমবির সঙ্গে শিবিরও জড়িত ছিল কিনা সেটা আমরা খতিয়ে দেখছি।

এরআগে রোববার রাতে ধানমণ্ডির সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়েও মিতু হত্যায় বিএনপি-জামায়াত জড়িত থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করে বক্তব্য দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ।

এমনকি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আসা সিএমপির দুটি থানার ওসি বাংলামেইলকে জানান, ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে এরা পেশাধার খুনি নয়। আর তাদের হাটাচলা ও খুনের ধরণ দেখে তাদেরকে অপেশাধার বলেই মনে হচ্ছে। শুধু জেএমবিকে নয়, শিবিরসহ অন্য কোন উগ্র গোষ্ঠিও এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারে।