‘বিআরটিএ শতভাগ দুর্নীতিমুক্ত নয়’
আপডেট: ২০১৬-০৬-১১ ১৫:৫৯:৩৬

বাংলাদেশে রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) দুর্নীতিমুক্ত নয় বলে স্বীকার করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি আরও বলেন, সরকারের এই সংস্থায় দুর্নীতির পরিমাণ আগের তুলনায় অনেক কমেছে; তবে এখনও শতভাগ দুর্নীতিমুক্ত হতে পারেনি।বিআরটিএর কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা প্রসঙ্গে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।
মন্ত্রী বলেন, অসাধু কর্মীদের ব্যবহার করে অপরিণত ব্যক্তিকে চালকের লাইসেন্স, ফিটনেসহীন গাড়ির সনদসহ নানা অনিয়ম করছে বিআরটিএর দালালচক্র। তাদের সরানো না গেলে এই প্রতিষ্ঠানটি পুরোপুরি দুর্নীতিমুক্ত হবে না।তিনি বলেন, তাৎক্ষণিক পরিদর্শন ও অভিযানসহ নানা কার্যক্রমের কারণে বিআরটিএ এখন ৬০ শতাংশ দুর্নীতিমুক্ত। কিন্ত ৪০ শতাংশ দুর্নীতি এখনও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। জনগণ বিআরটিএকে দালাল মুক্ত দেখতে চায়। হয়রানি ও দালালমুক্ত বিআরটিএ দেখতে চাই আমরাও।
ওবায়দুল কাদের বলেন, সড়ক পরিবহন আইন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আইনটি ইতোমধ্যে মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়েছে। শিগগির জাতীয় সংসদে যাবে এটি। আইনটি পাশ হলে গণপরিবহন ও যাতায়াতের ক্ষেত্রে শতভাগ শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। বিআরটিএকে আরও সমন্বিত করতে চাই।
ফিটনেসবিহীন গাড়ি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ ও দমনে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, তা করতে না পারলে যানজট নিয়ন্ত্রণ হবে না। জনগণের ভোগান্তিও কমবে না। ফুটপাথ দখলে রেখে মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেস, ফোরলেন প্রকল্প করলে জনগণের কোনো লাভ হবে না। ফুটপাত পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত রাখতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, মোবাইল কোর্ট বসিয়ে শাস্তির ব্যবস্থার পরও রাস্তায় ফিটনেসহীন গাড়ি কমছে না। সেগুলো সড়ক থেকে সরানো সম্ভব না হলে যানজট নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ফিটনেসহীন গাড়ি রাস্তা থেকে সরানো গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি জানান, ঈদযাত্র নির্বিঘ্ন এবং যানজট নিরসনে রাজধানীর আশেপাশের মহাসড়কের ১৪টি পয়েন্টে ১ হাজার স্বেচ্ছাসেবক কাজ করবে। ঈদের পাঁচদিন আগে থেকে তিন শিফটে কাজ করবে তারা। স্বেচ্চাসেবক নিয়োগের কাজ চলছে; তাদেরকে ন্যূনতম ভাতাও দেওয়া হবে।
সেতুমন্ত্রী বলেন, পুরনো পিকআপ কেটে লেগুনা তৈরির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক, নসিমন, করিমনও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক, রিক্সা, অটোরিক্সা, নসিমন, করিমন তৈরির কারখানায় তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে এগুলো বন্ধ ও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এসব গাড়িতে ব্যবহৃত ব্যাটারির জন্য বিদ্যুতের অপচয় হচ্ছে; অন্যদিকে সড়কে দুর্ঘটনাও বাড়ছে।
নতুন সিএনজি অটোরিকশার অনুমোদন দেওয়া হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, সিএনজি অটোরিক্সায় মিটারে যাওয়া নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়সহ সব ধরনের হয়রানি বন্ধে বিআরটিএকে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।
সানবিডি/ঢাকা/এসএস






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন














