তনুর দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন জমা

প্রকাশ: ২০১৬-০৬-১২ ১২:৫৯:৩৮


tonuকুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনুর মরদেহের দ্বিতীয় দফায় করা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন সিআইডির কাছে জমা দিয়েছে মেডিকেল বোর্ড। দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত করার প্রায় আড়াই মাস পর এর প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। তবে ওই প্রতিবেদন সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি। মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরাও এ বিষয়ে কিছুই জানাননি।

এর আগে গত ৭ জুন তনুর ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন তার দ্বিতীয় ময়নাতদন্তকারী মেডিকেল বোর্ডের কাছে জমা দিয়েছিল পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

প্রসঙ্গত, তনুর বাবার ইয়ার হোসেন কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের একজন অফিস সহায়ক। পরিবারের সঙ্গে সেনানিবাসেই থাকতেন তনু। গত ২০ মার্চ রাতে বাসার কাছেই একটি জঙ্গলে তনুর মরদেহ পাওয়া যায়। পরে তার বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লার কোতয়ালী মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

তনুর হত্যাকারীদের বিচার দাবিতে কুমিল্লায় অবরোধসহ নানা কর্মসূচি পালন করে তার সহপাঠীরা। ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তনুর হত্যাকারীদের বিচার দাবিতে সোচ্চার হয়েছে দেশের মানুষ।

ময়নাতদন্তে ধর্ষণের আলামত না পাওয়ায় এর সুষ্ঠু তদন্ত নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে গত ৭ এপ্রিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাওয়ে করে কয়েকটি ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা। ওই কর্মসূচি থেকেই ২৫ এপ্রিল অর্ধদিবস হরতালের ঘোষণা দেয় প্রগতিশীল ছাত্র জোট এবং সাম্রাজ্যবাদবিরোধী ছাত্র ঐক্য।

তনুর মরদেহ উদ্ধারের পরদিন প্রথম ময়নাতদন্ত হয় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের মর্গে। গত ৪ এপ্রিল প্রথম ময়নাতদন্তের প্রকাশিত প্রতিবেদনে তনুর মৃত্যুর কারণ স্পষ্ট হয়নি। প্রতিবেদনে তনুর মাথার পেছনের জখমের কথা গোপন করা হয় এবং গলার নিচের আঁচড়কে পোকার কামড় বলে উল্লেখ করা হয়।

এনিয়ে বিতর্কের এক পর্যায়ে পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মেডিকেল বোর্ড গঠন করে দ্বিতীয় দফা ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেয় আদালত। এরপর কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কামদা প্রসাদ সাহার নেতৃত্বে তিন সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গত ৩০ মার্চ দ্বিতীয় দফা ময়নাতদন্ত করে।