লাগ ভেলকি লাগ চোক্ষে মুক্ষে লাগ
আপডেট: ২০১৬-০৬-১৩ ১১:১৬:৩২
আমাদের দেশের নদ-নদী খাল-বিলগুলো একসময় সারা বছরই পানিতে টইটম্বুর থাকত। শীতে পানি কমে এলেও স্রোতের ধার কিছুতেই কমত না। আমরা স্রোতের বিপরীতে সাঁতার কাটতাম। কখনোবা স্রোতে ভেসে যেতাম নদীর এপার থেকে ওপারে। বেদের বহর এই পানিতে ভাসতে ভাসতে এসে নৌকা ভিড়াত জনবসতি থেকে একটু দূরে। এরাও আমাদের মত সাধারণ মানুষ, তবে যাযাবর। আজ এঘাটে নৌকা ভিড়াত তো কাল ওঘাটে। এভাবে তারা সারা দেশে নৌকা নিয়ে জীবিকার ধান্ধায় ঘুরে বেড়াত। ওদের নিয়ে ভয় ও কৌতূহলের শেষ ছিল না। কারণ তাদের ঝাঁপিতে থাকত নানা ধরনের বিষধর সাপ।
এই সাপের খেলা দেখানোও তাদের জীবিকার একটি অংশ। বেদেরা সাপের খেলা দেখানো আর নানা টোটকা গাছগাছালি, ওষুধপত্র, মাদুলি এগুলো বিক্রি করার আসর বসাত হাটবাজারে। আর বেদেনীরা যেত গৃহস্থের ঘরে ঘরে। বলত, ‘রস খসাই, বিষ খসাই, দাঁতের পোকা খসাই।’ দরদাম করে গ্রামের মেয়েদের সাথে বেদেনীদের রফা হতো, দু’-এক সের চাল কিংবা দু-একটি টাকায় সাপের খেলা দেখতে।
তারপর খেলা শুরু হয়ে যেত। ঝাঁপির সাপ বের করে খেলা দেখানোর আগে তারা নানা সাসপেন্স তৈরি করত। এরপর তারা সুর করে বেহুলা-লক্ষিন্দরের গান গাইত। তাদের মুঠোর ভেতরে কী এক অদৃশ্য গাছান্ত রেখে তারা সাপের সামনে দোলাত। বলত, এই গাছান্ত আনা হয়েছে আসামের কামরূপ-কামাক্ষ্যা থেকে। এ গাছের গুণের কোনো শেষ নেই। মাদুলি হিসেবে ছোট শিশুদের কোমরে এই গাছান্ত কালো সুতা দিয়ে বেঁধে রাখলে ওই শিশুকে কোনো দিন সাপে কাটবে না। পানিতে পড়বে না। পাণ্ডুর রোগ হবে না। ছোবল দিতে উঠলেও মুখ ফিরিয়ে চলে যাবে সাপ। মায়েরা এসব কথা বিশ্বাস করতেন। তারা আরো দু-এক সের চাল দিয়ে শিশুদের জন্য সে মাদুলি নিয়ে নিতেন বেদেনীদের কাছ থেকে। সাপের খেলা দেখাতে গিয়ে বেদেনীরা সবসময় সুর করে একটা কথা বলতই। আর তা হলো, ‘লাগ ভেলকি লাগ, চোক্ষে মুক্ষে লাগ।’
গত ৫ মে সকাল সাড়ে ৬টায় চট্টগ্রামের জিইসি মোড়ে পুলিশ কর্মকর্তা, এসপি বাবুলের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যার পর সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তি বিভিন্ন ধরনের ভেলকি-লাগা কথাবার্তা বলে যাচ্ছেন। মিতু ওই সময় তার সাত বছরের ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাচ্ছিলেন। তখন তিনজন দুর্বৃত্ত একটি চোরাই মোটরসাইকেলে এসে মিতুকে ছুরিকাঘাত ও গুলি করে হত্যা করে পালিয়ে যায়। পরে তারা মোটরসাইকেলটি ফেলে রেখে একেবারেই হাওয়া হয়ে গেলো। এর পরই শুরু হয় সরকারের তরফ থেকে যত সব ভেলকি-লাগানো কথাবার্তা। এই ঘটনার পর সেদিনই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল কোনোরূপ তদন্তের আগেই বলে বসেন যে, এই হত্যাকাণ্ড দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের অংশ।
দেশীয় তো বুঝলাম। দেশীয় বলতে সাধারণত সরকার জেএমবি, আলকায়দা, আনসার আল ইসলাম, এবিটি প্রভৃতি গোষ্ঠীকে বুঝিয়ে থাকে। সাধারণ মানুষ এসব সংক্ষিপ্ত নামের অর্থ জানেন বলেও মনে হয় না। কিন্তু বিদেশী বলতে মন্ত্রী কাকে বোঝাতে চাইছেন, তা খুব স্পষ্ট নয়। মন্ত্রীর এরকম কথায় প্রাথমিকভাবে ধারণা করা যায় যে, তিনি বোধকরি পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইকে বোঝাতে চাইছেন। নাকি মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ জড়িত এর পেছনে? অথবা ভারতীয় গেয়েন্দা সংস্থা ‘র’ অথবা রুশ গোয়েন্দা সংস্থা কেজিবি? এসব গোয়েন্দা সংস্থার বাইরে কেউ বাংলাদেশ বা দক্ষিণ এশিয়ার গোয়েন্দাগিরি করে বলে জানা নেই। কিন্তু এর দু’দিন পরই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সবাইকে আশ্চর্য করে দিয়ে বললেন, এই হত্যাকাণ্ডে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ জড়িত। যত দূর জানা যায়, এই অঞ্চলে ভারতীয় সামরিক গোয়েন্দা সংস্থাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া ছাড়া মোসাদের আর কোনো কার্যক্রম নেই। তাহলে বাংলাদেশের একজন পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রীকে হত্যার জন্য মোসাদ আসবে, এটা কেমন যেন বিশ্বাস হতে চায় না। তা ছাড়া এই অঞ্চলে ভারতের স্বার্থের বিরুদ্ধে যায়, মোসাদ এমন কাজ করবে বলে কেউ বিশ্বাস করে না। বাংলাদেশ সরকারকে বিরক্ত বা বিব্রত করা ভারতীয় স্বার্থের অনুকূল নয়। এ বিষয়ে বিবিসি ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চেয়েছিল তাদের প্রতিক্রিয়া। তারা বলেছেন, একজন পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রীকে হত্যায় মোসাদের জড়িত থাকার বিষয়ে বাংলাদেশের মন্ত্রী যে কথা বলেছেন, তা নিতান্তই ‘বাজে কথা’।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ৬ জুন সাংবাদিকদের বলেছেন, দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য চলছে, রাস্তাঘাট ঠিকমতো চলছে, মানুষ শান্তিতে ঘুমাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত সব ডেটাই পজিটিভ রয়েছে। এতেই প্রমাণিত হয়, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তিনি বলেন, যেসব ঘটনা ঘটছে, সবই টার্গেট কিলিং। আমেরিকা বা লন্ডনেও টার্গেট কিলিংয়ের ঘটনা ঘটছে। বিদেশী গোয়েন্দা সংস্থা ও স্থানীয় কয়েকজন রাজনীতিক দেশকে অস্থিতিশীল করতে টার্গেট কিলিং করছে। এসব হত্যাকাণ্ড বন্ধ করা যাচ্ছে না কেন, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এক হাস্যকর বক্তব্য দিয়ে বলেন, আমেরিকায়ও তো বন্ধ হচ্ছে না।’ মন্ত্রীর যুক্তিটা মন্দ নয়। অর্থাৎ আমেরিকায় যা হয়, বাংলাদেশে তা হবে, আমেরিকায় যা হচ্ছে না, বাংলাদেশে তা হবে না। তাই যদি হয়, তা হলে আমেরিকায় সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন হচ্ছে, বাংলাদেশে সব দলের তেমন নির্বাচনের আয়োজন করেন না কেন। কিংবা মনে করা যেতে পারে, নাইজেরিয়ায় বোকো হারাম তো অনেক ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করছে, বাংলাদেশে জেএমবি তেমন কাজ করলে অসুবিধা কোথায়?
আমাদের প্রধানমন্ত্রী এক কথার মানুষ। তিনি সেই যে বলেছেন, সেখান থেকে এক চুলও নড়েননি। আর তা হলো, দেশের সব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সাথে বিএনপি-জামায়াত জড়িত। তারা আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়েছে। তাদের গায়ে পোড়া মানুষের গন্ধ। কিন্তু একটি ক্ষেত্রেও প্রমাণিত হয়নি যে, এর কোনো ঘটনার সাথে বিএনপি-জামায়াত জড়িত ছিল। বরং চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগ অফিস হয়েছিল পেট্রলবোমার গুদাম। চাঁপাইনবাবগঞ্জে এমপির বাড়ি হয়েছিল পেট্রলবোমা তৈরির কারখানা। রূপগঞ্জে পেট্রলবোমা মারতে গিয়ে যারা পুলিশের হাতে ধরা পড়েছিল, তারা সবাই ছিল ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কর্মী। চাঁপাইয়ে বিস্ফোরণ ঘটে মারা গিয়েছিল এমপির নিকটজনেরা। কিন্তু সে ঘটনা ধামাচাপা দিতে পুলিশ ওই বাড়িতে প্রবেশ করতে দেয়নি কোনো সাংবাদিককে। সামনে পেছনে পুলিশ-বিজিবির গাড়ির পাহারা। মাঝখানে ট্রাক-বাস। সেই ট্রাক-বাসে পেট্রলবোমা মারা হয়েছে। নিহত-আহত হয়েছেন কেউ কেউ। এ রকম নিরাপত্তাবেষ্টনীর ভেতরে পেট্রলবোমা মেরে মানুষ পুড়িয়েছে বিএনপি-জামায়াতের লোকেরা, নাকি তাদের প্রতিপক্ষ? তারপর দোষ চাপানো হয়েছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর। আওয়ামী নেতারা নিজেদের গায়ে পোড়া মানুষের গন্ধ পান কিনা, শুঁকে দেখতে পারেন।
এক কথার মানুষ প্রধানমন্ত্রী গত ৮ জুন জনপ্রতিনিধিত্বহীন জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে বলেছেন, গুপ্তহত্যা করে কেউ পার পাবে না। তাদের হিসাব পাই পাই করে নেবো।’ সন্ত্রাসী ও জঙ্গি কার্যক্রমের সব তথ্য তার কাছে আছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি হেড অব দি গভর্নমেন্ট। আমার কাছে নিশ্চয়ই সব তথ্য আছে। এর আগে সংবাদ সম্মেলনেও বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী। যারা পেট্রলবোমা মেরেছে, তারাই গুপ্তহত্যা চালাচ্ছেÑ সরকারি মহলের এমন বক্তব্য সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি এরও জবাব দেন। তিনি বলেন, তদন্তের স্বার্থে সব কথা হয়তো বলা যাবে না, প্রচার করা যাবে না, প্রকাশ করা যাবে না। কিন্তু সূত্রটা জানা যায়, আমরা সূত্র ধরেই কথা বলি। যারা সরকারি অভিযোগকে রাজনৈতিক বক্তব্য মনে করেন, তারা যদি জানেন যে সন্ত্রাসী আসলে কারা, তা হলে সেই তথ্যটি তারা দিক। আমরা যখন একজন আসামি ধরি, তখন সব ক্লু ধরে, টেলিফোন নম্বর থেকে মিলিয়ে, সব কিছু মিলিয়ে একজনকে ধরি… তার পরিচয়ের সূত্রটা ধরে আমরা যোগসূত্রটা পেতে পারি।
তিনি বলেন, যারা মনে করেন, শুধু রাজনীতিক হিসেবে বলছি, রাজনৈতিক কারণে বলছি, এতে জঙ্গিরা পার পেয়ে যাচ্ছে। সেই পার পেয়ে যাওয়া জঙ্গিরা কারা? তাদের নাম-ঠিকানা, তাদের পরিচয়টা যদি জেনে থাকেন, তাহলে দয়া করে আমাদের জানান। তাহলে দেখবেন, জঙ্গি জঙ্গিই। সে যে দলেরই হোক, আমাদের কাছ থেকে রেহাই পাবে না। তিনি আবারো বিএনপি-জামায়াতের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, যারাই এ ধরনের জঙ্গি ঘটনা বাংলাদেশে ঘটিয়েছে, কোনো না কোনোভাবে তাদের সাথে এদের যোগসূত্র রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা বিএনপি-জামায়াতকে বাঁচাতে বা রক্ষা করতে চায় বা তাদের অপকর্ম ঢাকতে চায়, তারাই জঙ্গি দমন নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
চট্টগ্রামে এসপি বাবুলের স্ত্রী হত্যার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এমন ঘটনা এর আগে কখনো দেখিনি। এ ঘটনা যারা ঘটিয়েছে, তারা গ্রেফতার হবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। আজকে তারা পরিবারের ওপর হাত দিতে শুরু করেছে। তারা কি ভুলে যায়, তাদেরও পরিবার আছে। তাদেরও মা-বাবা, ভাই-বোন-স্ত্রী আছে। এক দিকে যদি আঘাত আসে, তা হলে তো অন্য দিকেও একই আঘাত আসতে পারে। এটা কি তারা ভুলে যাচ্ছে? যারা এ ধরনের গুপ্তহত্যা বা সন্ত্রাসের সাথে জড়িত, তাদের পরিবারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর থেকে যেন তারা তাদের পরিবারের সদস্যদের বিরত থাকতে বলেন। আজকে যদি এভাবে অন্য পরিবারগুলোর ওপর হাত দিতে শুরু করে, তা হলে কিন্তু কারো হাতই থেমে থাকবে না এবং জনগণকে থামিয়ে রাখতে পারবে না।
এদিকে এর পরদিন কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের প্রধান ও ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেছেন, এসপি বাবুলের স্ত্রীর হত্যাকাণ্ডে বিদেশী চক্র জড়িত রয়েছে। এখন বক্তব্য পাওয়া গেল তিনটি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন, এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত রয়েছে ‘বিদেশী’ গোয়েন্দা সংস্থা ও দেশীয় কিছু রাজনীতিক। মনিরুল বললেন, জড়িত রয়েছে একটি বিদেশী চক্র। আবার ‘হেড অব দি গভর্নমেন্ট’ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তার কাছে ‘সুনির্দিষ্টভাবে থাকা’ তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে বললেন, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে বিএনপি-জামায়াত জড়িত। একই দিন পুলিশের আরেক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেছেন, তদন্তে জানানোর মতো কোনো তথ্য এখনো তাদের হাতে আসেনি। তাহলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী আর ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার যা বললেন, তা তো ধোপে টেকে না। কিন্তু সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা যখন আগাম রায় দিয়ে বসেন, তখন সে কথাই ‘প্রমাণ করা’ ছাড়া তদন্তকারীদের সামনে আর কোনো পথ খোলা থাকে না। সেভাবেই স্বর্ণ চোরাচালানকারীরা হারিয়ে গেছে তদন্তের ধারা থেকে।
প্রধানমন্ত্রী অবশ্য সঠিক কথাই বলেছেন যে, পরিবারের ওপর হামলার কথা আগে কখনো শোনা যায়নি। এখন হামলা হচ্ছে। আগে এ কথাও শোনা যায়নি যে, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করতে না পেয়ে তার বৃদ্ধ বাবা-মা, স্ত্রী-সন্তানকে আটক করা হয়েছে। এখন সেটাই শোনা যাচ্ছে, দেখা যাচ্ছে। কিন্তু কেন এমন হচ্ছে, সেই উৎসে যাওয়া জরুরি। এখন লাখ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করে তাদের জেলে ভরা হচ্ছে। কিংবা আত্মগোপনে যেতে বাধ্য করা হচ্ছে। সরকারের পেটোয়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিরীহ মানুষকে ধরে এনে মুক্তিপণ আদায় করছে। প্রতিদিন ক্রসফায়ারে বিনাবিচারে হত্যার শিকার হচ্ছে মানুষ। মুক্তিপণের দাবিতে পায়ে অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করে সারা জীবনের জন্য পঙ্গু করে দেয়া হচ্ছে। ন্যায়বিচার সুদূরপরাহত। বিচারহীনতার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জবাবদিহিতা তিরোহিত। গণতন্ত্র ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা পর্যুদস্ত। সমাজে এরকম পরিস্থিতি তৈরি হলে জঙ্গিবাদের উত্থান অবশ্যম্ভাবী। দোষারোপের রাজনীতি না করে সরকার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় মনোযোগী হলে এ সমস্যা আপনাআপনি স্তিমিত হয়ে আসবে বলে মনে করি। সূত্র: নয়া দিগন্ত
লেখক : সাংবাদিক ও সাহিত্যিক
rezwansiddiqui@yahoo.com
মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর নিজস্ব। www.sunbd24.com এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে www.sunbd2424.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।
সানবিডি/ঢাকা/এসএস






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন














