সোনালী আঁশ নয় পাটের চারকোল দেখাচ্ছে নতুন সম্ভাবনা
প্রকাশ: ২০১৬-০৬-১৬ ১৫:৪৭:২৫
বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম বলেছেন, পাটকাঠি থেকে চারকোল (Activated Carbon) বাংলাদেশে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। এতে কৃষকরা পাট উৎপাদনে আবারও আগ্রহী হবে। এভাবেই সোনালী আঁশের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা হবে । বুধবার সচিবালয়ে চারকোল মালিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় তিনি একথা বলেন।
এসময় বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব এম এ কাদের সরকার, গোপাল কৃষ্ণ ভট্টাচার্য্য (অতিরিক্ত সচিব), বিজেএমসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) হুমায়ূন খালেদ, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব রেজাউল কাদের, আবু ছাইদ শেখসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় জানানো হয়, দেশে প্রথম ২০১২ সাল থেকে বাণিজ্যিকভাবে পাটকাঠি থেকে অ্যাকটিভেটেড কার্বন বা চারকোল উৎপাদন শুরু হয়। ওই বছরই সর্বপ্রথম চীনে এটি রপ্তানি করা হয়। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চারকোলের চাহিদা রয়েছে। দেশে এটি উৎপাদনের ব্যাপ্তি বাড়লে আগামীতে জাপান, ব্রাজিল, তুর্কিস্তান, যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান, কানাডা, মেক্সিকোসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি সম্ভব হবে।
বর্তমানে বিদেশে চারকোল দিয়ে তৈরি হচ্ছে ফেসওয়াশ, ফটোকপিয়ারের কালি, পানির ফিল্টার, বিষ ধ্বংসকারী ওষুধ, জীবন রক্ষাকারী ওষুধ, দাঁত পরিষ্কার করার ওষুধ। এছাড়া বিভিন্ন পণ্য উৎপাদনে এ কার্বন ব্যবহৃত হচ্ছে। বাংলাদেশে ১০-১২টি চারকোল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলো হলো: সানবিম করপোরেশন, মাহফুজা অ্যান্ড আহান এন্টারপ্রাইজ, জামালপুর চারকোল লিমিটেড ও রিগারো প্রাইভেট লিমিটেড।
বর্তমানে জামালপুর, নারায়নগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলাতে বাণিজ্যিকভাবে চারকোল উৎপাদন শুরু হয়েছে ।
সভায় জানানো হয়, দেশে প্রতিবছর প্রায় ৩০ লাখ টন পাটকাঠি উৎপাদিত হয়। এর মধ্যে যদি ৫০ ভাগ পাটকাঠি চারকোল উৎপাদনে সঠিকভাবে ব্যবহার করা গেলে প্রতিবছর প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার টন চারকোল উৎপাদন সম্ভব হবে। বিদেশে রপ্তানি করে প্রতিবছর আয় হবে প্রায় ২ হাজার ৫’শ কোটি টাকা। একই সঙ্গে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
কারাখানা মালিকরা চারকোল শিল্পকে একটি উদীয়মান শিল্প হিসেবে ঘোষণা দেয়ার দাবি জানিয়েছেন। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ও পাটজাত পণ্য হিসেবে ২০ ভাগ ক্যাশ ইনসেনন্টিভ পাওয়ার ব্যবস্থা করারও দাবি তাদের।
এছাড়া বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অন্তর্ভূক্ত বা সহযোগী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের সুযোগ, পৃথক নীতিমালা তৈরি, শিল্পের জন্য সরকারি ও বেসরকারি সহযোগিতা এবং ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন কারাখানা মালিকরা।
প্রতিমন্ত্রী এসব প্রস্তাব ও পরামর্শ সম্পর্কে বলেন, নতুন এ খাতে যেসব সমস্যা রয়েছে তা সরকার জানে। এ সমস্যা দূর করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে খুব শিগগিরই একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক আয়োজন করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।
সানবিডি/ঢাকা/এসএস






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন














