ধর্মের অবমাননা আর উগ্র ধর্মান্ধতায় বিপদগ্রস্ত জাতি।

আপডেট: ২০১৬-০৬-২০ ১৪:২৭:১৭


Enamulধর্ম মানুষের স্বীয় স্বত্বার সক্রিয় বহিঃপ্রকাশ। ধর্ম মানুষকে কল্যাণময় পথের দিশারি হয়ে জীবনধারণের নীতিকথা শেখায়।যথাযথ ধর্মীয় কার্যাবলী পালনের পর যে উপলব্ধি পরিলক্ষিত হয় এর মধ্যেই ধর্মের মর্মবাণী নিহিত।

নিজ নিজ ধর্মাবলম্বীর কাছে উনার ধর্মের স্থান অনেক শ্রদ্ধার আর ভালোবাসার। সেই অকৃত্রিম ভালোবাসায় মোড়ানো বিশ্বাসে যখনি আঘাত আসে তখনি অপর পক্ষ উনার কাছে হয় ঘৃণিত। উগ্র ধর্মান্ধতা আর নাস্তিকতার মাধ্যমে অন্য ধর্মের অবমাননার যে মিছিল শুরু হয়েছে তা একটি জাতিকে ধ্বংস করার জন্য যথেষ্ট।

উগ্র ধর্মান্ধতা আর নাস্তিকতা যেন দুই বিপরীত মেরুর শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। উগ্র ধর্মান্ধতায় জন্ম হচ্ছে জংগীবাদের আর নাস্তিকদের ধর্মীয়  কটাক্ষে এর সহিংস রূপ পাকাপোক্ত হচ্ছে।

ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করা কোন ধর্মই শেখায় না।ধর্মান্ধতার ফলে আমরা অন্য ধর্মের প্রতি নূন্যতম শ্রদ্ধার যায়গাটুকু হারাচ্ছি আর তথাকথিত মুক্তমনার নামে ধর্মের অবমাননা করছি। আপনি নাস্তিক কিংবা তথাকথিত মুক্তমনা তাই বলে অন্য ধর্মকে অবমাননা করবেন সেইটা কোন ধরনের নাস্তিকতা/মুক্তমনার উদাহরণ? ধর্মভীরু  আর ধর্মান্ধতা কি একই বিষয়? ধর্মভীরু হলেই যথার্থ ধর্ম পালন করা হয়, ধর্মান্ধতায় নয়।

আপনি সৃষ্টিকর্তায় তথা সৃষ্টিতে বিশ্বাসী না সেটা আপনার নিজস্ব অনুভূতি নিজস্ব বিশ্বাস তাই বলে অন্য ধর্মের কটাক্ষ, অন্য ধর্মের অবমাননা? ধিক্কার সেই কটাক্ষে আর ঘৃণ্য অবমাননায়। পৃথিবীতে আপনার ধর্মই শ্রেষ্ঠ মেনে নিলাম কিন্তু সেই শ্রেষ্টত্ব ধরে রাখতে হাজার হাজার মানুষকে আপনি নির্বিচারে হত্যা করবেন সেইটা কি আপনার ধর্মের নীতিকথা? আপনাকে আপনার সৃষ্টিকর্তা মানুষকে হত্যা করার জন্য পৃথিবীতে প্রেরণ করেননি। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা,গলাকেটে মানুষ হত্যা কিংবা যুদ্ধের নামে মানবহত্যা কোনটা কি যথাযথ ধর্মের বহিঃপ্রকাশ?

উপর্যুক্ত ধর্মান্ধতা আর ধর্মের কটাক্ষপাত অংকুরে বিনাশ করছে হাজারো সোনালি আভায় নির্মিত স্বপ্ন আর ছিন্ন করছে আত্নার বাঁধন। অধম্য মেধার পরিসমাপ্তি হচ্ছে ক্রসফায়ারে কিংবা চাপাতির আঘাতে। আসলে পূর্বের লাইনে ব্যবহৃত ‘মেধা’ শব্দের অবমূল্যায়ন করেছি কি না তা নিয়ে আমি সন্দিহান।

জঙ্গীবাদ আর ধর্মীয় কটাক্ষের দায়ভার পুরপুরি এড়িয়ে যেতে পারি না/পারে না পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র তথা আমি,আপনি। কিছু কুচক্রী মহল নিজ স্বার্থের জন্য এই বিপদগামী ধারাদ্বয়কে ইন্ধন যোগাচ্ছে ফলে বিপদগ্রস্ত হচ্ছে জাতি তথা প্রিয় জন্মভূমি। নৈতিক শিক্ষা,পারিবারিক সৌহার্দ,ইতিবাচক সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি,সরকারের দৃষ্টান্তমূলক আইন প্রণয়ন ও যথাযথ বাস্তবায়নের মাধম্যেই হয়ত পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব এই বিপদগ্রস্ত ধারাদ্বয় থেকে।

মো. এনামুল হাসান কাওছার
অনার্স দ্বিতীয় বর্ষ,জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

মেইল: anamulhasan1971@gmail.com

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর নিজস্ব। www.sunbd24.com এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে www.sunbd2424.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।

সানবিডি/ঢাকা/এসএস