দু’বছরে কাজ মাত্র ২%, তবুও প্রকল্পের মেয়াদ বাড়লো ২ বছর

আপডেট: ২০১৬-০৬-২১ ১৬:৫৩:৩৪


2016_ গত দুই বছরে নর্থ বেঙ্গল চিনিকলে কো-অপারেশন পদ্ধতিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সুগার রিফাইনারি স্থাপন প্রকল্পের কাজ হয়েছে মাত্র ২ দশমিক ৫৩ শতাংশ। কাজের অগ্রগতি না হলেও দুই বছর পর আবার প্রকল্পটির মূল ব্যয় ৭৩ কোটি ৪৭ লাখ টাকা থেকে ২৫০ কোটি ৭১ লাখ টাকা বাড়িয়ে মোট ব্যয় ৩২৪ কোটি ১৮ লাখ টাকা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় দুই বছর বাড়ানো হয়েছে।

ব্যয় ও সময় বাড়িয়ে সংশোধিত প্রকল্পটির অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা।

মঙ্গলবার (২১ জুন) রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে একনেক সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়া হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সিনিয়র সচিব ড. শামসুল আলম, আইএমডির সচিব ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী প্রমুখ।

সভায় মোট ৫টি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়।একনেক সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল প্রকল্পগুলো সম্পর্কে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘আজকের একনেক সভায় ৫টি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এগুলো বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৪৫৪ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ২ হাজার ৩৫৯ কোটি ৩১ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ৯৫ কোটি ৩৭ লাখ টাকা।’

নর্থ বেঙ্গল চিনিকল প্রকল্পটির ব্যয় ও সময় বাড়ানো সম্পর্কে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আগে কিছু কিছু যন্ত্রণাংশ পরিবর্তন করায় কাজের অগ্রগতি কম হয়েছে। এবার আমরা আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সব কাজ এক সাথে করব। তাই আশা করছি ২০১৮ সালের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘চলমান প্রকল্পের সাথে ডিস্টিলারি, বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট এবং বায়োকম্পোস্ট প্ল্যান্ট স্থাপনের কারণে প্রকল্পের কলেবর বৃদ্ধি, প্রকল্পের আওতায় নতুন যন্ত্রপাতি ও পূর্ত কাজ সংযোজন, পূর্ত কাজে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ২০১৪ সালের রেট শিডিউল অনুসরণ, যন্ত্রপাতি সংগ্রহ ও স্থাপন ব্যয় বৃদ্ধি এবং প্রকল্পে মেয়াদকাল বৃদ্ধি করা হয়েছে।’

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে যন্ত্রপাতি আধুনিকীকরণের মাধ্যমে প্রসেস লস হ্রাস করে চিনি উৎপাদনের হার বৃদ্ধি পাবে। সুগার মিলের প্রেস মাড ও ডিস্টিলারির বর্জ্য ব্যবহার করে বায়োকম্পোস্ট উৎপাদনপূর্বক পরিবেশ দূষণ রোধ ও জমির উর্বরতা বৃদ্ধি করা যাবে। কো-জেনারেশনের মাধ্যমে চিনিকলের বিদ্যুৎ খরচ সাশ্রয় এবং সাদা চিনি, অ্যালকোহল ও বায়োকম্পোস্ট (জৈবসার) বিক্রয় করে অতিরিক্ত রাজস্ব আয় করা সম্ভব হবে। এতে মিলটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে এবং মিলটিতে নতুন কর্মসংস্থানসহ স্থানীয় জনসাধারণের খণ্ডকালীন ও অস্থায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে যা দারিদ্র্য বিমোচনে ভূমিকা রাখবে।’

প্রসঙ্গত, শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিএসএফআইসি কর্তৃক প্রণীত নর্থ বেঙ্গল চিনিকলে কো-জেনারেশন পদ্ধতিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সুগার রিফাইনারি স্থাপন শীর্ষক প্রকল্পটি ২০১৪ সালের ১১ই ফেব্রুয়ারি একনেক সভায় মোট ৭৩ কোটি ৪৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ফেব্রুয়ারি ২০১৪ থেকে ডিসেম্বর ২০১৬ মেয়াদে অনুমোদিত হয়। প্রকল্পটির আর্থিক অগ্রগতি ২০১৬ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত ১ কোটি ৮৬ লাখ টাকা, যা অনুমোদিত প্রাক্কলিত ব্যয়ের ২ দশমিক ৫৩ শতাংশ।

একনেক সভায় অনুমোদিত প্রকল্পগুলো হচ্ছে- ওয়েষ্ট জোন এলাকায় বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ ও আপগ্রেডেশন প্রকল্প, এটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ২৭৮ কোটি ২০ লাখ টাকা। ৩জি প্রযুক্তি চালুকরণ ও ২ দশমিক ৫জি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ (ফেজ-২) প্রকল্প, এর ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৭৫ কোটি ৮১ লাখ টাকা।

বানিয়াচং-আজমিরিগঞ্জ সড়ক নির্মাণ প্রকল্প (প্রথম সংশোধিত), এর ব্যয় ধরা হয়েছে ১১৬ কোটি টাকা। টেকনাফ-রামু-গ্যারিসন-মরিচ্যা-পালং সংযোগ সড়ক নির্মাণ প্রকল্প (প্রথম সংশোধিত), এর ব্যয় ধরা হয়েছে ৬০ কোটি ৪৯ লাখ টাকা।

সানবিডি/ঢাকা/মেহেদী/এসএস