মামলা ভিন্ন খাতে নেয়ার চেষ্টা হচ্ছে
প্রকাশ: ২০১৬-০৬-২৭ ১২:২৩:৫৮
চট্টগ্রামে চাঞ্চল্যকর মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলা ভিন্ন খাতে নেয়ার চেষ্টা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তার স্বজনরা। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলা হয়েছে, প্রথম থেকেই তদন্ত নিয়ে এক ধরনের লুকোচুরি চলছে। রহস্যজনক আচরণ করছে তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ। এর ফলে প্রকৃত ঘাতকরা আদৌ ধরা পড়বে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তারা। রোববার সাংবাদিকদের কাছে এসব কথা তুলে ধরেন এসপি বাবুল আক্তারের শ্বশুর ও মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন।
এদিকে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে শনিবার বিকালে বাসায় ফেরার পর আর বের হননি এসপি বাবুল আক্তার। মেরাদিয়ায় তার শ্বশুরবাড়িতেই তিনি অবস্থান করছেন। ওইদিন বিকাল থেকেই বাড়িটির সামনে নিয়মিত প্রহরা হিসেবে অবস্থান নিয়েছে পুলিশের ৫ সদস্যের একটি টিম। পালাক্রমে সেখানে সার্বক্ষণিক পুলিশ প্রহরা বসানো হয়েছে। খুব কাছের আত্মীয়স্বজন ছাড়া কাউকে বাড়িটিতে ঢুকতেও দেয়া হচ্ছে না।
তবে রোববার দুপুরের পর সরকারের একটি গোয়েন্দা সংস্থার দুটি টিম পৃথকভাবে ওই বাড়িতে গিয়ে এসপি বাবুল আক্তারের সঙ্গে কথা বলে। কী কথা হয়েছে- তা জানা সম্ভব হয়নি। তবে নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানিয়েছে, ডিবি কার্যালয়ে ১৫ ঘণ্টার জিজ্ঞাসাবাদ বিষয়ে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বাবুল আক্তারের কাছে সবিস্তারে জানতে চেয়েছেন। মূলত সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে প্রকৃত ঘটনা জানার চেষ্টা চলছে। এজন্য কাউন্টার ইন্টিলিজেন্স হিসেবে গোয়েন্দা সংস্থা দুটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বাবুল আক্তারের সঙ্গে কথা বলেন।
অপরদিকে এসপি বাবুল আক্তারের সঙ্গে পুলিশ অপেশাদার আচরণ করেছে বলে অভিযোগ করেছেন তার শ্বশুর সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন। রোববার একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমের কাছে তিনি এ অভিযোগ করেন। তিনি আরও বলেন, বাদী হিসেবে তদন্তকারী সংস্থা কিংবা তদন্ত কর্মকর্তারা চাইলে তার (এসপি বাবুল আক্তার) সঙ্গে কথা বলা কিংবা ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই পারেন। কিন্তু মধ্যরাতে নিয়ে যাওয়া, দীর্ঘ সময় কোনো পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া, এমনকি কোথায় আছেন সে তথ্য না দেয়ার বিষয়টি সন্দেহ বাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি এটাকে অপেশাদার আচরণ বলে মন্তব্য করেন।
মোশাররফ হোসেন বলেন, পুলিশের এ ধরনের আচরণের কারণে দুটি পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। দীর্ঘ উৎকণ্ঠার মধ্যেই গুটিকয়েক সংবাদমাধ্যম চটকদার খবরও প্রকাশ করে, যা অত্যন্ত গর্হিত ও বিবেকবিবর্জিত বলে তিনি মনে করেন।
এদিকে এসপি বাবুল আক্তারকে এভাবে মধ্যরাতে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পুরো বিষয়টি অনেকেই মেনে নিতে পারেননি। এ ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। রোববার অনেকে যুগান্তরে ফোন করে তাদের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। একই রকম প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সুশীল সমাজের কেউ কেউ।
তারা বলেন, খোদ পুলিশই বিষয়টিকে বিতর্কিত করে ফেলেছে। পনের দিন আগে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় যার স্ত্রী মারা গেছেন, দুটি শিশু সন্তান নিয়ে এসপি বাবুল আক্তারসহ তার পুরো পরিবার এখনও শোক কাটিয়ে উঠতে পারেনি। এ অবস্থায় পুলিশের এহেন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। তাদের মতে, মামলার তদন্তের স্বার্থে আলোচনা কিংবা প্রয়োজনে জিজ্ঞাসাবাদ করা যেতেই পারে। কিন্তু প্রক্রিয়াটি ছিল সম্পূর্ণ নেতিবাচক। বিশেষ করে একজন কর্মরত এসপিকে এভাবে ডেকে ১৫ ঘণ্টা তার পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করার ঘটনা অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এখন তো অনেকে ধরেই নিচ্ছে, পুলিশের মধ্যে বাবুল আক্তারের কোনো প্রতিপক্ষ গ্র“প মামলাটিকে ভিন্ন খাতে নিতে এসব অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
সানবিডি/ঢাকা/এসএস






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন














