দুই মাসেও নেই অগ্রগতি, হতাশ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা
আপডেট: ২০১৬-০৬-২৯ ১৮:৫২:২৩
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এ এফ এম রেজাউল করিম সিদ্দিকী হত্যাকা-ের দুই মাস অতিবাহিত হলেও হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটন ও মামলায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থীরা। এদিকে গ্রীষ্মকালীন ছুটির পর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির অবস্থান প্রসঙ্গেও সন্তুষ্ট নন শিক্ষার্থীরা।
উল্লেখ্য, গত ২৩ এপ্রিল রাজশাহী নগরীর শালবাগান এলাকায় নিজ বাসা থেকে ৫০ গজ দূরে দৃবৃর্ত্তরা কুপিয়ে হত্যা করে অধ্যাপক রেজাউল করিমকে। ঘটনার দিন বিকেলে নিহত অধ্যাপকের ছেলে রিয়াসাত ইমতিয়াজ সৌরভ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের নামে মামলা দায়ের করেন।
মামলার অগ্রগতি ও আন্দোলন সম্পর্কে অধ্যাপক রেজাউলের সহকর্মী ও ইংরেজী বিভাগের সভাপতি ড. এ এফ এম মাসউদ আখতার বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত জেনেছি যে, এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত একজন ক্রসফায়ারে মারা গেছে। কয়েকজনকে গ্রেফতার করে স্বীকারোক্তি নেওয়া হয়েছে হত্যাকা-ের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায়। আসলে ক্রসফায়ারের বিষয়টা আমাাদের আন্দোলনের বিষয় নয়। আমরা চাই হত্যাকারীদের হাজির করা হোক। চাই হত্যাকা-ের প্রকৃত কারণ উন্মোচিত হোক। বিচারিক কাঠামোয় তাদের বিচার কার্যক্রম করা হোক।
শিক্ষক সমিতির অবস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ছুটির পরও ধারাবাহিকভাবে প্রতি শনিবার কর্মসূচি পালন করে আসছি, আমরা চেয়েছিলাম শিক্ষক সমিতিও কোন কর্মসূচি দিয়ে আমাদের সঙ্গে থাকবে। কিন্তু কোন কারণে হয়ত সম্ভব হয়নি। ঈদের পরে আন্দোলনের সঙ্গে শিক্ষক সমিতিকে পাশে পাবো বলে আশা করছি। তবে এখন পর্যন্ত হত্যাকা-ের অগ্রগতির বিষয়ে সন্তুষ্ট হতে পারছি না।
ইংরেজী বিভাগের শিক্ষার্থী মনিরা। স্যারের হত্যার পর সকল আন্দোলনে ছিলেন। তিনি বলেন, আমাদের দেশে কোন ঘটনার পর একটু সময় অতিবাহিত হলেই সে ঘটনাটা আড়ালে চলে যায়। কিন্তু আমরা আশা করি এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার পাবো।
মন্ত্রীদের আশ্বাসের পর ছুটি শেষে নিয়মিত ইংরেজী বিভাগ আন্দোলন করে আসলেও গত ৬ জুন শিক্ষক সমিতির মানববন্ধন কর্মসূচি ছাড়া আর কোন কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায়নি। এ বিষয়ে মনিরা বলেন, আমাদের বিভাগের আন্দোলনের সঙ্গে যদি শিক্ষক সমিতি কোন কর্মসূচি দিয়ে পাশে থাকতো তাহলে আন্দোলন আরো বেগবান হতো। কারণ কঠোর আন্দোলনই এ ধরনের হত্যাকা- প্রতিরোধে ও বিচার প্রাপ্তির পথকে প্রশস্ত করে।
শিক্ষক সমিতির অবস্থান প্রসঙ্গে কথা হয় সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. মো. শাহ্ আজমের সঙ্গে। তিনি বলেন, আমাদের অবস্থানটা পরিষ্কার। আমরা কখনোই আন্দোলন বন্ধ করিনি। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি এবং যেকোন সময়ই কমসূচি দিতে পারি। যদি কোন দৃশ্যত অগ্রগতি দেখতে না পাই। আর সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীদের আশ্বাসের উপর নির্ভর করেই আমরা রমজান মাস পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করছি।
আসলেই এখন পর্যন্ত কোন অগ্রগতি হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আসলে সরকার অত্যন্ত তৎপর এ হত্যাকা- প্রসঙ্গে। তবে এখন পর্যন্ত আমরা উল্লেখযোগ্য কোন অগ্রগতি দেখতে পাইনি। আসলে পুলিশ প্রশাসন আন্তরিক বা তৎপর হলে এ ঘটনার সুরাহা নিশ্চিত হবে। তবে এখন পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের অগ্রগতির যে অবস্থা তাতে হতাশা প্রকাশ করছি। তিনি আরো বলেন, ঈদের পরেও যদি কোন দৃশ্যত অগ্রগতি দেখতে না পাই তবে আবার আমরা শিক্ষকরা রাস্তায় নামবো, কর্মসূচি দিবো।
সানবিডি/ঢাকা/হৃদয়/এসএস






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













