বাসভাড়া দ্বিগুণ, ভোগান্তিতে ঘরমুখোরা

প্রকাশ: ২০১৬-০৬-৩০ ২০:৫৯:৫১


টিকেট
ফাইল ছবি

ঈদের বাকি আরো ৭ দিন। আজ থেকেই বাসের ভাড়া হয়ে গেছে দ্বিগুণ! ব্যাপক চাহিদার বিপরীতে অগ্রীম টিকিট বিক্রিতে গলাকাটা দাম নির্ধারণ করেছে বাস মালিকরা। যদিও সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষ বলছে এটি বাসমালিকরা সম্পূর্ণ অবৈধ ভাবেই করছে।

ঈদ উপলক্ষে আগাম টিকিট বিক্রির শুরুর পর ৩০ জুন থেকে ৬ জুলাই এর টিকিটে রাখা হচ্ছে দ্বিগুণ দাম। বিভিন্ন বাস কাউন্টারে ছিল ব্যাপক ভিড়। দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেকে টিকিটি পাননি।

অভিযোগ উঠেছে বাড়তি ভাড়া আদায়েরও। যেভাবেই হোক বাড়ি যাওয়া চাই। ফলে বাসের টিকিট যেন হয়ে ওঠে সোনার হরিণ। তাই বরাবরই এ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে থাকে পরিবহন কোম্পানিগুলো, আদায় করে বাড়তি ভাড়া।

এমনকি অনেক বাস কাউন্টারে আগে থেকেই যাত্রীদের বলা হচ্ছে টিকিট নেই। কিন্তু পরবর্তীতে বাড়তি ভাড়ার পরেও অতিরিক্ত টাকা দিলে ঠিকই টিকিট পাচ্ছেন যাত্রীরা। অনেক যাত্রীই অভিযোগ করে বলেন, এটি একপ্রকার ডিজিটাল কালোবাজারি!

রাজধানীর একটি প্রাভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ‘সোহরাব’। ঈদে বাড়ি ফিরতে বাসের আগাম টিকিট কিনতে বুধবার সকালে রাজধানীর সায়দাবাদে হিমাচল বাস কাউন্টারে গিয়ে আগাম টিকিটের দ্বিগুণ মূল্য দেখে এক প্রকার বাকবিতণ্ডা শুরু করেন। পড়ে তিনি অভিযোগ করে বলেন, ” ৩৫০ টাকার টিকেট এখন ৬৫০ টাকা চাচ্ছে ওরা। বেশি ভাড়া কেন জিজ্ঞেস করলে, ওরা বলে ‘মনচাইলে নিবেন, নাইলে নাই’। এরকম অবস্থা কি মানা যায় বলেন? সরকারের কোন মনিটরিং নাই। তাই ওরা যাচ্ছে তাই করছে!”

এদিকে রাজধানীর অন্যান্য বাসস্টেশন গুলোতেও দেখা যায় একই চিত্র। যাত্রীদের অভিযোগ ঈদের একসপ্তাহ আগের সব টিকিটই দ্বিগুণ দামে কিনতে হচ্ছে। এমনকি মাঝে মধ্যে টিকিট নাই বলে কৃত্তিম সংকট সৃষ্টি করা হচ্ছে। এসব কিছুই বাসমালিকদের পরিকল্পিত কারসাজি বলেও অভিযোগ উঠে আসে যাত্রীদের কাছ থেকে।

অপরদিকে এক অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম বলেন, “আমি আগামী ৫ তারিখের টিকেট কাটতে কল্যাণপুর বাসস্টেশনে শ্যামলী পরিবহণের কাউন্টারে যাই। ওরা আমার কাছে ঢাকা-জয়পুরহাট এর টিকেট ৫৩০ টাকা চায়। যা কিনা ৩৫০ টাকা ছিল”। সব থেকে গুরুতর হচ্ছে যাত্রীদের চাহিদাকে জিম্মি করে কৃত্তিম সংকট। এই অপকর্মে কাউন্টার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জরিত বলেও সূত্রে জানা যায়।

ঈদের আন্দকে পরিবারের সাথে ভাগ করে নিতে অনেকেই এই প্রতারণা সহ্য করে নিচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে চাইলে পরিবহণ কর্মকর্তারা কেউ মন্তব্য করতে রাজি হননি।

তবে দক্ষিণাঞ্চলের একুশে পরিবহনের মালিক প্যানেলের এক কর্মকর্তা বলেন, “বছরের এই সময়টাতেই বছরের ক্ষতিগুলো পুষিয়ে লাভ করার চিন্তা করা হয়। এনকি এই সময় ঢাকায় আসতে অনেক খালি ট্রিপ দিতে হয়। সবকিছু মিলেই যাত্রীদের থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নিতে হয়”।

সানবিডি/ঢাকা/আহো