পালিয়ে কোথায় গিয়েছিল রোহান মোবাশ্বির নিবরাস?
প্রকাশ: ২০১৬-০৭-০৪ ১০:৪০:১৬
গুলশান হত্যযজ্ঞে জড়িত পাঁচ তরুণের মধ্যে কমপক্ষে দুজন দীর্ঘদিন বাড়ি-ছাড়া ছিল। পরিবারের কাউকে কিছু না জানিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়েছিল তারা। দীর্ঘ সময় পর তাদের খোঁজ মিলেছে। তবে ভিন্ন পরিচয়ে। জঙ্গী খুনি হিসেবে। শুক্রবার রাতে ওই পাঁচ জঙ্গী দুই জন পুলিশ অফিসারসহ দেশি-বিদেশী ২৪ নারী-পুরুষকে হত্যা করেছে। পরে সেনাবাহিনীর কমান্ডো অভিযানে তারাও নিহত হয়েছে।
নিহত চার জঙ্গীর মধ্যে মীর সামিহ মোবাশ্বির ও রোহান ইমতিয়াজ প্রায় চার মাস ধরে নিখোঁজ ছিলেন। এছাড়া নিব্রাস ইসলামেরও খোঁজ পাচ্ছিলেন না তাদের বন্ধুরা। ধারণা করা হচ্ছে, এই সময়ের মধ্যেই তারা অস্ত্র চালানোর ও হামলার পরিকল্পনা প্রণয়নের প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে, এই প্রশিক্ষণ কী দেশের ভেতরে হয়েছে, নাকি দেশের বাইরে? জঙ্গী প্রশিক্ষণের রুট খুঁজে বের করার জন্য এটি খুবই জরুরী?
আন্তর্জাতিক জঙ্গী সংগঠন আইএসের মুখপাত্র হিসেবে পরিচিত সম্প্রতি জানিয়েছে, সিরিয়ায় আইএসের প্রশিক্ষণ নিতে গিয়ে আবু জিন্দাল নামে এক তরুণ নিহত হয়েছে।এই তরুণ বিডিআর বিদ্রোহে নিহত একজন সামরিক কর্মকর্তার সন্তান। মোবাশ্বির, রোহানরাও কি তাহলে বাইরে আইএসের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে এসেছিল? কিংবা নিব্রাস ইসলামের সঙ্গী হয়ে মালয়েশিয়ায় গিয়েছিল।
আর যদি অন্য কোনো দেশে না গিয়ে থাকে তাহলে বাংলাদেশের কোন অঞ্চলে তারা প্রশিক্ষণ নিয়েছে? সেটি কি উত্তরবঙ্গে নাকি পূর্বাঞ্চলের পাহাড়ি এলাকায়?
মীর সামিহ মোবাশ্বির
ঢাকার স্কলাসটিকা ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের ছাত্র মীর সামিহ মোবাশ্বির গত ২৯ ফেব্রুয়ারি পালিয়ে যায় বলে জানা গেছে। ওই দিন বিকাল ৩টার দিকে সে কোচিংয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে গাড়িতে করে বাসা থেকে বের হয়। যানজট থাকায় কোচিং সেন্টারের আগেই গাড়ি থেকে নেমে যায়। পরে সন্ধ্যা ৬টার দিকে গাড়িচালক জুয়েল তাকে কোচিং থেকে আনতে গেলে তাকে আর পাওয়া যায়নি।
ছেলেকে না পেয়ে মোবাশ্বিরের বাবা মীর এ হায়াত কবীর ওই দিনই গুলশান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (নম্বর ১৮৪৮) করেন।
পুলিশ নানাভাবে তার খোঁজ করে। পরে গুলশান এলাকার সিসিটিভি ফুটেজে দেখতে পায়, মোবাশ্বির গাড়ি থেকে নেমে কোচিং সেন্টারে যায়নি। গাড়ি থেকে নামার পর একটি রিকশা নিয়ে সে বনানীর ১১ নম্বর সড়কের দিকে চলে যায়। শুক্রবারের আগে তার আর খোঁজ পাওয়া যায়নি।
রোহান ইমতিয়াজ
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ছেলে রোহান ইমতিয়াজ। পড়তো ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে। তার বাবা ইমতিয়াজ খান বাবুল ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের বিদায়ী কমিটির যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক ছিলেন। তিনি সর্বশেষ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করেন। রোহানের মা স্কলাসটিকা স্কুলের শিক্ষিকা। মা-বাবার একমাত্র ছেলে সন্তান রোহানের দুই বোন আছে।
রোহানও কিছুদিন আগে কাউকে কিছু না বলে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায়। গত ৪ জানুয়ারি তার বাবা এ বিষয়ে মোহাম্মদপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।
সন্তান-বিচ্ছেদের বেদনায় কাতর ইমতিয়াজ খান বাবুল গত ২১ জুন বেলা দেড়টায় তার ফেসবুক টাইমলাইনে ছেলের উদ্দেশ্যে একটি স্ট্যাটাস দেন। এতে তিনি লিখেন, বাবা, তুমি কোথায়? প্লিজ ফিরে এসো (Baba where are you? Please come back).
ওইদিন বেলা আড়াইটায় তিনি ছেলের সঙ্গে তার একটি ছবি আপলোড করেন। এতে তিনি লিখেন, আমার বাবার সাথে আমি। এই স্ট্যাটাসের মধ্য দিয়ে পুত্রহারা বাবার হাহাকার ফুটে উঠে।
নিবরাস ইসলাম
হলি আর্টিজান বেকারির আরেকজন হামলাকারী নিবরাস ইসলাম নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র। তার ডাক নাম পাশা। সে-ও মোবাশ্বির, রোহানের মতো বাসা থেকে পালিয়ে গিয়েছিল কি-না তা জানা যায়নি। তবে বেশ কিছুদিন ধরে যে বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়স্বজনের চোখের আড়ালে ছিল তা জানা গেছে তার ফেসবুক টাইমলাইন থেকে। টাইমলাইনে নিবরাসের বেশ কয়েকজন বন্ধু তার খোঁজ জানতে চেয়ে স্ট্যাটাস দিয়েছে।
গত ৪ ফেব্রুয়ারি রোজা বারি নামে নিবরাসের এক বন্ধু স্ট্যাটাস দিয়েছে, পাশা, তুমি কোথায় (Where you at pasa) ?
তার আগে ৩ ফেব্রুয়ারি নুসরাত নাসিম মেরাজি নামের আরেক বন্ধু লিখেন, তুমি কোথায়? তোমার ফোন বন্ধ কেনো? দোস্ত, এই ম্যাসেজ দেখে থাকলে দয়া করে একটা ফোন কর অথবা ম্যাসেজ পাঠাও। প্লিজ, তোমার ফোন চালু করো (Where are you? Why your phone is off? Please call if you see this dost. Or smg. Turn your phone on.)।
সানবিডি/ঢাকা






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন














