‘টাক মাথার লোকটি হিযবুত তাহরীরের পৃষ্ঠপোষক’
আপডেট: ২০১৬-০৭-০৪ ১৮:১৬:০৪
গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টে জিম্মি দশার থেকে মুক্ত হয়ে আসা টাক মাথার এক কথিত জিম্মির কর্মকাণ্ড নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত কয়েকটি ছবি নিয়েই তাকে ঘিরে এই প্রশ্ন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত ছবি ও বিভিন্ন জনের পোস্ট থেকে জানা যায় কথিত ওই জিম্মির নাম হাসানাত রেজা করিম। তিনি নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির বিবিএ ফ্যাকাল্টির সাবেক ফ্যাকাল্টি মেম্বার।
তার এই পরিচয় প্রকাশ হতেই দেশের শীর্ষ স্থানীয় একটি পত্রিকা সংবাদ করেছে, বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে থাকা ওই টাক মাথার ব্যক্তি বা হাসানাত রেজা করিম নিষিদ্ধ সংগঠন হিযবুত তাহরীরের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক।
পত্রিকাটির তাকে নিয়ে ২০১২ সালের ২৬ জুন একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেই প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনিসহ চার শিক্ষক নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে দীর্ঘদিন ধরে হিযবুত তাহরীরের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন।
২০১২ সালের ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিটি করে। কমিটির রিপোর্টের প্রেক্ষিতে ওই চার শিক্ষককে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
শনিবার জিম্মি দশা থেকে বেড়িয়ে এসে রেজা করিম অবশ্য দাবি করেছেন, তার স্ত্রী হিজাব পড়ায় হামলাকারীরা তাকে ও তার পরিবারকে ছেড়ে দিয়েছে।
কিন্তু গত পরশু থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত কয়েকটি ছবিতে তার কার্যক্রম ও আচরণ দেখে প্রশ্ন তৈরি হয় সবার মনে।
ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া কয়েকটি ছবিতে দেখা গেছে, একটিতে আর্টিজানের প্রবেশমুখে উল্টোঘুরে কারো সঙ্গে কথা বলছেন তিনি। কিন্তু কার সঙ্গে কথা বলছেন তা দেখা যাচ্ছে না।
আরেকটি ছবিতে দেখা যায় হলি আর্টিজানের দোতলায় দুইজন জঙ্গিকে পেছনে রেখে তিনি হেঁটে যাচ্ছেন। ওই দুই জঙ্গির শরীরী ভাষা দেখা মনে হয়নি হাসানাত রেজা করিম জিম্মি।
তৃতীয় আরেকটি ছবিতে দেখা যায়, পরিবারের সদস্যদের সাথে বেড়িয়ে আসছেন সেই ডোরাকাটা গেঞ্জি পড়া টাক মাথার লোকটি। সেখানে তার শরীরী ভাষা দেখা মনে হয়নি তিনি উদ্বিগ্ন।
গোয়েন্দা পুলিশের হেফাজতে থাকা ওই টাকা মাথার ব্যক্তি বা রেজা করিমকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ডিবি পুলিশ। তার সঙ্গে ঘটনার কোনো সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা সে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রেজা করিমের সংশ্লিষ্টতা থাকুক বা না থাকুক নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি, ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়েরে আইবিএ, মানারত ইউনিভার্সিটির মতো নামী-দামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দেশে নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি সংগঠনের কর্মকাণ্ডের অস্তিত্ব থাকা নিয়েই এখন বড় প্রশ্ন।
এছাড়া হামলায় অংশ নেওয়া জঙ্গীর সকলেই বিত্তবানদের সন্তান এবং দেশের নামী-দামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ালেখ করেছে।
এই অবস্থায় দেশের নামী-দামী এইসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠ্যক্রম, সেখানকার শিক্ষার্থীদের বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজ খবর নেওয়ার বিষয়ে গুরত্বারোপ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগের প্রভাষক মাইদুল ইসলাম বাংলাদেশে ইসলামী জঙ্গীবাদ নিয়ে কাজ করেন।
তার মতে, আমাদের দেশে ধর্ম খুবই গুরুত্বপূর্ণ আশ্রয় নিম্ম বিত্তের মানুষের কাছে। কিন্তু ইদানিং দেশের নামী-দামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিত্তবানদের সন্তানদের জঙ্গী কর্মকাণ্ড নতুন ভাবনার বিষয়।
তার পরামর্শ এইসব প্রতিষ্ঠানের পাঠ্যক্রম, সেখানকার শিক্ষার্থীদের বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজ নিতে হবে। শিক্ষকরা কী শেখাচ্ছে তাও নিয়মিত খেয়াল রাখতে হবে।






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন














