প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে অসৌজন্যমূলক বক্তব্য, এমপি জাফরকে অব্যাহতি

আপডেট: ২০২৩-১২-২১ ১০:০০:০৪


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে ‘অসৌজন্যমূলক’ বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে কক্সবাজার-১ (চকরিয়া, পেকুয়া) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) জাফর আলমকে আওয়ামী লীগ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তিনি চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছিলেন।

বুধবার (২০ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমানের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে অসৌজন্যমূলক বক্তব্য, ধৃষ্টতাপূর্ণ আচরণ ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে সংসদ সদস্য জাফর আলমের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

একইসঙ্গে তাকে দল থেকে তাকে কেন স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না তা জানতে চেয়ে আগামী ৭ দিনের মধ্যে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।

তিনি নির্ধারিত সময়ে কারণ দর্শাতে ব্যর্থ হলে তাকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করার জন্য কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের কাছে সুপারিশ পাঠানো হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার বিকাল ৩টায় পেকুয়ায় আয়োজিত এক সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশে জাফর আলম বলেন, ‘আমি একবার মনোনয়ন পেয়েছি। কিন্তু আমি শতবার মৃত্যুর মুখে আপনার জন্য গিয়েছি। আমি আপনার জন্য আমার জীবনে সবকিছু উজাড় করে দিয়েছি। আমি কক্সবাজারে এক মিটিংয়ে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা খরচ করেছি। আপনাদের থ্রি স্টার হোটেলে রেখেছি। মাতারবাড়িতে ৪০ হাজার মানুষকে একদিনের খাবার দিয়ে এক হাজার ট্রাক গাড়ি দিয়ে আমি জনসভাকে সফল করেছি। আর আপনি (শেখ হাসিনা) সেখানে ঘোষণা করলেন আশেক উল্লাহ রফিক এমপি প্রার্থী।’

তিনি বলেন, শোনেন নেত্রী, আল্লাহ ওপরে। আমি দোষ করলে আল্লাহ আমার বিচার করবে। কিন্তু আমি মনে করেছি এটা আমার প্রতি অবিচার হয়েছে। আমার মতো একজন সহজ-সরল কর্মীকে, আমাকে বারবার ঠকিয়ে আরেকজনের কাঁধে নৌকা দিয়ে আমার কাছ থেকে নৌকা কেড়ে নিয়েছিলেন। সেদিনও আমি হাসিমুখে মেনে নিয়েছি। জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে গিয়েছিলাম। সেখানে আমাকে ভোট দিতে না পেরে নেতাকর্মীরা চোখের জল ফেলে চলে গেছে। সেদিনও আমি আপনার কথা শুনেছি।

এমপি জাফর আলম বলেন, সুতরাং এখন আপনি বলেছেন, সংসদ সদস্য স্বতন্ত্র ভোট করতে পারবেন। আমি স্বতন্ত্র ভোট করছি। এখানে যদি আমি কারো কোনো ধরনের অশুভ পাঁয়তারা দেখি… আমরা চকরিয়ার মানুষ, শহীদ আব্দুল হামিদের চকরিয়া, আবুল কালমের চকরিয়া-পেকুয়া, এটা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের চকরিয়া। এখানে কোনো অন্যায় আমরা বরদাস্ত করব না, করব না, করব না।

এই সংসদ সদস্য বলেন, বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন— আমার চেয়ে নৌকাকে ভালোবাসে এমন কে আছে? দিনে নৌকা রাতে বিএনপি, কার টেলিফোন রিসিভ করে, কার জায়গা দখল করে। সব আমার কাছে খবর আছে। আমাকে পেকুয়ার ভোট দেবেন কি দেবেন না সেটি আপনাদের ব্যাপার। চাঁদাবাজি, দখলবাজি এগুলা চলবে না… চলবে না, চলবে না… সোজা কথা।

এই আসনে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব) সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহিম।

এম জি