মুদ্রানীতির সঠিক বাস্তবায়নে সামষ্টিক অর্থনীতিতে গতি ফিরবে: ডিসিসিআই
সানবিডি২৪ প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২৪-০১-২০ ২০:০৫:৩০
নতুন মুদ্রানীতির সঠিক বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে আরও গতিশীলতা ফিরে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি আশরাফ আহমেদ।
শনিবার (জানুয়ারি ২০) দুপুরে রাজধানীর মতিঝিলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) অডিটোরিয়ামে ‘সমসাময়িক অর্থনীতির সার্বিক পরিস্থিতি এবং ২০২৪ সালে ডিসিসিআইর বর্ষব্যাপী কর্মপরিকল্পনা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন ডিসিসিআই সভাপতি।
তিনি বলেন, মুদ্রানীতির সঠিক বাস্তবায়নে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, রিজার্ভ বৃদ্ধি এবং ব্যালেন্স অব পেমেন্টের স্থিতিশীলতা আনা সহজ হবে। তবে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি, রফতানির বহুমুখীকরণ এবং প্রবৃদ্ধি সহায়ক নীতি প্রণয়নের ওপর আরও বেশি নজর দিতে হবে।
এর আগে বাজারে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ প্রাধান্য দিয়ে গত ১৭ জানুয়ারি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের দ্বিতীয় ষাণ্মাসিকের (জানুয়ারি-জুন, ২০২৪) মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এবারের মুদ্রানীতির মূল লক্ষ্য মূল্যস্ফীতি প্রশমন করা।
ট্যাক্স কোড ব্যবহারের মাধ্যমে অ্যাকাউন্টিং ও রিপোর্টিং প্রক্রিয়ার মধ্যকার সমন্বয় আরও বাড়ানো প্রয়োজন উল্লেখ করে মতবিনিময় সভায় আশরাফ আহমেদ আরও বলেন, দেশের কৃষি, ওষুধ, ইলেকট্রনিকস, হালকা প্রকৌশল, তথ্য-প্রযুক্তি এবং তৈরি পোশাক খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য একটি সুনির্দিষ্ট দীর্ঘমেয়াদি খাতভিত্তিক জাতীয় বিনিয়োগ কর্মকৌশল প্রণয়ন করা জরুরি।
ডিসিসিআই সভপাতি বলেন, দেশের অর্থনীতি বর্তমানে মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, খেলাপি ঋণ, পুঁজিবাজারে অস্থিতিশীলতা, ব্যালেন্স অব পেমেন্ট এবং টাকার অবমূল্যায়ন প্রভৃতি সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে। তবে বাংলাদেশের এ ধরনের সমস্যা বেশ সফলতার সঙ্গে মোকাবিলার পূর্বাভিজ্ঞতা রয়েছে। পূর্বের অভিজ্ঞতার আলোকে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতাগুলো বেশ সফলতার সঙ্গে মোকাবিলা করে বাংলাদেশ অর্থনীতির কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাবে।
দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি বেসরকারি খাতের পাশাপাশি সরকারি খাতও জ্বালানি সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে বলে জানান আশরাফ আহমেদ। তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় জ্বালানির অভাবে শিল্পকারখানা বন্ধ হওয়ায় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। শিগগিরই সমস্যাটি সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়নে সরকারকে কাজ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, চলতি বছরে দেশের অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধির গতিধারা ফিরিয়ে আনতে বেসরকারি খাতকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যৎ স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার ও বিনিময় এবং ডিজিটাল কার্যক্রমে সম্পৃক্ততা বাড়ানোর জন্য সিএমএসএমই খাতের উদ্যোক্তাদের সক্ষমতাও বাড়াতে হবে।
দেশের আমদানি বিকল্প শিল্পের উন্নয়নে সিএমএসএমইসহ স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের ঋণ প্রাপ্তির সুবিধা সম্প্রসারণ ও ভেঞ্চার ক্যাপিটাল কার্যক্রম বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, রফতানি বহুমুখীকরণ, এক্সপোর্ট ফ্যাক্টরিং, আন্তঃব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় এবং রেমিট্যান্স আহরণে আরও প্রণোদনা প্রদানের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ানো যেতে যেতে পারে। এ ছাড়াও পুঁজিবাজারে লেনদেন অবকাঠামো (ট্রেডিং ইনফ্রাস্ট্রাকচার) এবং অংশগ্রহণ বাড়াতে অলটারনেটিভ ট্রেড বোর্ডের (এটিবি) ব্যবহার আরও বাড়ানো প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ডিসিসিআইর সিনিয়র সহসভাপতি মালিক তালহা ইসমাইল বারী, সহসভাপতি মো. জুনায়েদ ইবনে আলী প্রমুখ।
এএ






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন














