স্টার জলসা, জি বাংলা বন্ধের বিবেচনা করবে সরকার
প্রকাশ: ২০১৬-০৭-২১ ১০:৪৪:৩৩
দেশে সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলায় পরে বন্ধ করা হয়েছে পিস টিভির সম্প্রচার। বাংলাদেশ সরকারের এমন সিদ্ধান্তের পরে বাসা-বাড়ি, অফিস-আদালত, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্টার জলসা, জি বাংলা, স্টার প্লাসের মতো ভারতীয় টিভি চ্যানেলগুলোর সম্প্রচার বন্ধের জোরালো দাবি উঠলেও সরকারের তরফ থেকে এই বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত এখনও জানানো হয়নি।
তবে তথ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কেউ যদি ওই চ্যানেলগুলো বন্ধের আবেদন করে তবে সরকার তা বিবেচনা করে দেখবে।
এবিষয়ে তথ্য সচিব মরতুজা আহমদ অর্থসূচককে বলেন, সম্প্রতি স্টার জলসা, জি বাংলা, স্টার প্লাসের মতো ভারতীয় টিভি চ্যানেলগুলোর সম্প্রচার বন্ধের যে দাবি উঠেছে তা আমরাও দেখেছি। বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে কথাও হয়েছে।
তিনি জানান, দাবিটি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো আবেদন মন্ত্রণালয়ে আসেনি বলে সরকার এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না।
তবে ২০১৪ সালে এ বিষয়ে হাইকোর্ট একটি রুলে ‘বাংলাদেশে স্টার জলসা, স্টার প্লাস ও জি বাংলা- এই ৩ ভারতীয় চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধের কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়।

তখন তথ্য সচিবসহ স্বরাষ্ট্রসচিব, বিটিআরসির চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক, ডিজি জাদু ব্রডব্যান্ড লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও পুলিশের মহাপরিদর্শককে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
ওই রিট সম্পর্কে তথ্য সচিব জানান, ওখন ওই রিটটি করেছিলেন আইনজীবী সৈয়দা শাহীন আরা লাইলী। ওই বছরই রিটটি একবার খারিজ হয়ে যায়।
শাহীন আরা লাইলীর ওই রিটে উল্লেখ করা হয়, স্টার জলসায় ‘বোঝে না সে বোঝে না’ সিরিয়ালে ‘পাখি’ চরিত্রে অভিনয়কারীর মতো পোশাক ঈদের সময় কিনতে না পেরে বাংলাদেশে ইতোমধ্যে ৩ জন আত্মহত্যা করেছে বলে পত্রিকায় খবর এসেছে। তাই জনস্বার্থে রিটটি করা হয়।
এদিকে ২০১৪ সালে ভারতীয় সিরিয়াল দেখে অভিনয়কারীর মতো পোশাক কিনতে না পেরে আত্মহত্যার ঘটনায় জাগ্রত বিবেক নামের একটি সংগঠন তখন চ্যানেলগুলোর সম্প্রচার বন্ধের দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনও করে। তবে সেই সময় সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে তেমন কোনো বক্তব্য শোনা যায়নি।
এর পর চলতি বছরের জুলাই মাসে গুলশান ও শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলার প্রেক্ষাপটে পিস টিভি বন্ধ হলে বাংলাদেশের পারিবারিক ও সামাজিক, নিজস্ব সংস্কৃতির জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে বেশিরভাগ মানুষই ওইসব ভারতীয় চ্যানেল বন্ধের দাবি জানান।
দাবিতে কেউ কেউ পিস টিভি ও স্টার প্লাস, স্টার জলসা কিংবা জি বাংলার প্রচারিত বিষয়গুলোর তুলনা করে বলেছেন, পিস টিভি রাষ্ট্রের জন্য হুমকি হলে স্টার প্লাস, স্টার জলসা ও জি বাংলা সংস্কৃতি ও সংসারের জন্য হুমকি।
এবিষয়ে কিছু দিন আগে ফেসবুকে একজন লিখেছিলেন, পিস টিভি যদি জঙ্গি হতে বলে তবে এসব টিভি (জি বাংলা, স্টার জলসা, স্টার প্লাস) আমাদের সামাজিক ও পারিবারিক সম্পর্কগুলো নষ্ট করে ফেলছে, ফলত আমাদের সন্তানরা জঙ্গি হতে উৎসাহ পাচ্ছে, জঙ্গিবাদ সামাজিক অবক্ষয়ের ফলাফল।
সমাজের সর্বোস্তরে এমন দাবি উঠার পর গণযোগাযোগ বিশ্লেষক,সমাজ বিজ্ঞানী এবং বাংলাদেশের মিডিয়া ব্যক্তিত্বরা সাধারণ মানুষের সাথে কণ্ঠ মেলান এই ইস্যুটিতে।
তারা মনে করেন পিস টিভির ‘উসকানি’ আপাতত কয়েকজন মানুষকে পথভ্রষ্ট করছে। কিন্তু স্টার জলসা, জি বাংলা, স্টার প্লাসের মতো ভারতীয় টিভি চ্যানেলগুলো নিরব ঘাতকের মতো আমাদের সমাজের ওপর চেপে বসছে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক সুদীপ্ত শর্মা বলেন, তথ্যের অবাধ প্রবাহের এই যুগে কোনো টেলিভিশন বা ওই জাতীয় কিছু বন্ধ করাটা সমর্থন যোগ্য না হলেও তা যদি দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য ক্ষতিকর হয় তবে সেই বিষয়ে সরকারের যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
তার মতে,স্টার জলসা বা জি বাংলার মতো কিছু টিভি চ্যানেলে প্রচারিত অনুষ্ঠান দেশের সংস্কৃতি ও পারিবারিক সম্প্রীতিকে ব্যাহত করছে। তাই এইগুলোর সম্প্রচার বন্ধ করা উচিত।
বিশিষ্ট নাট্য ব্যক্তিত্ব ও বটতলা নাট্যদলের অন্যতম প্রধান সমন্বয়ক আলী হায়দার বলেন, এই সব চ্যানেলে প্রচারিত অনুষ্ঠান আমাদের সংস্কৃতির সঙ্গেও যায় না। এই অনুষ্ঠান দেখে আমাদের পারিবারিক বন্ধনে শিথিলতা দেখা যাচ্ছে। তাই আমি ওইসব চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধ করার পক্ষে।






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন














