‘আদালতের কাঁধে বন্দুক রেখে তারেককে সাজা’

প্রকাশ: ২০১৬-০৭-২৫ ১৪:২২:৫৬


Rizviবিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘এক-এগারোর পর থেকে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় খালাস পাওয়া মামলায় আদালতের কাঁধে বন্দুক রেখে অন্যায্যভাবে তাকে সাজা দেওয়া হয়েছে।’

জাতীয়তাবাদী শক্তিকে নিশ্চিহ্ন করতে সরকার বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও তার ছেলে তারেক রহমানকে নানাভাবে পর্যুদস্ত করার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সোমবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন রিজভী।

তিনি বলেন, ‘বর্তমান ভোটারবিহীন সরকার ভয়ঙ্কর চক্রান্তজালে দেশকে আটকে রাখতে চাচ্ছে। নতুন নতুন কুটচাল দিয়ে অবৈধ ক্ষমতাকে ধরে রেখেছে।’

রিজভী বলেন, ‘এই সরকারের আন্দোলনের ফসল ১/১১-এর মঈনউদ্দিন-ফখরুদ্দিনের সরকার তারেক রহমানের ওপর চালিয়েছে নিষ্ঠুর ও বর্বর নির্যাতন। এরই ধারাবাহিকতায় এখনো পর্যন্ত চলছে তার ওপর নানামূখী মিথ্যা মামলা মোকদ্দমা, হুমকি, মিথ্যাচার ও কুৎসা রটনা।’

খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দিতে সরকার ‘মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন’ করছে অভিযোগ করেন বিএনপির এই নেতা।

তিনি বলেন, ‘এ জন্যই দেশব্যাপী নানা ধরনের নিঃশ্বাসরোধকারী, জীবনসংহারী সহিংস রক্তপাতের ঘটনা ঘটানো হচ্ছে। গুম আর বন্দুকযুদ্ধের নামে মানুষ হত্যার ভয়ঙ্কর প্রবণতাকে টিকিয়ে রাখার পরেও দেশে ভয়াবহ সন্ত্রাসের নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে উগ্রবাদী জঙ্গীগোষ্ঠীর রক্তঝরা তাণ্ডব। সরকার বিদ্যমান রক্তক্ষরণের অরাজকতা সামাল দিতে না পেরে নিজেদের ব্যর্থতায় দিশেহারা হয়ে আরো বেশি প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে উঠেছে।’

আওয়ামী লীগ তার ঐতিহ্য হারিয়ে ‘ক্ষমতার লালসায়’ জনগণকে ‘বিষম মরণঘূর্নি’তে ফেলে দিয়েছে মন্তব্য করে রিজভী বলেন, ‘পথবিচ্যুত এই দলটি বহুত্ত্ববাদী গণতন্ত্র, সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা সবকিছুকে জলাঞ্জলি দিয়েছে। দলটির প্রধান দেশের প্রধানমন্ত্রী পার্শ্ববর্তী একটি দেশের পক্ষে নিজেকে বাংলাদেশের কেয়ারটেকারে পরিণত করেছেন।’

বিএনপির এই নেতা অভিযোগ করেন, প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়ার ওপর গ্রেনেড হামলার মামলায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী এবং হবিগঞ্জ পৌর মেয়র জি কে গউছকে জড়ানো হয়েছে।

অধিকতর তদন্তের নামে তাদের দীর্ঘদিন আটকে রাখার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তাদের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার ও নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবি জানান রিজভী।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এ জেড এম জাহিদ হোসেন, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, দপ্তর সহসম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু প্রমুখ ছিলেন।