আর দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান প্রকাশ করবে না নিসচা
সানবিডি২৪ প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২৪-০১-২৯ ১৬:৩৫:০৮
এখন থেকে আর সড়ক দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান প্রকাশ করবে না নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)। সড়ক দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান নিয়ে জনমনে নানা বিতর্ক তৈরি হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংগঠনটি।
সোমবার (২৯ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে (নিসচা)র প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন এসব কথা বলেন।
সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ২০১২ সাল থেকে সড়ক দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান ২০২২ সাল পর্যন্ত তুলে ধরছি। কিন্তু আমাদের দেখাদেখি অনেকেই এই দুর্ঘটনা এবং হতাহতের পরিসংখ্যান উপস্থাপন করছে। কিন্তু হতাহতের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সময় নানা বিতর্ক তৈরি হচ্ছে। তাই এ বছর ২০২৪ সালের পরিসংখ্যান আর তুলে না ধরার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
তিনি বলেন, বেসরকারি সংগঠন বা কোন ব্যক্তির পক্ষে দুর্ঘটনা এবং হতাহতের প্রকৃত চিত্র তুলে আনা সম্ভব নয়। এর জন্য সরকারের একটি সার্বক্ষণিক মনিটরিং সেল এবং লোকবল এর প্রয়োজন রয়েছে। এ ছাড়া উপযুক্তিগত ডেভেলপমেন্টেরও দরকার আছে। যা কোন ব্যক্তি উদ্যোগে করা সম্ভব নয়।
ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে পুলিশের তাৎক্ষণিক মামলার উপর ভিত্তি করে একটি রিপোর্ট প্রদান করত, কিন্তু সে রিপোর্ট আর আমাদের রিপোর্টের সাথে ছিল বিস্তর ফারাক। পুলিশের রিপোর্ট কেবলমাত্র মামলার উপর ভিত্তি করে হত। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় নানা কারণে অনেক দুর্ঘটনার মামলা হতো না। তাই পুলিশের এই তথ্যে আসল হতাহতের সংখ্যা বের হয়ে আসে না।
ইলিয়াস কাঞ্চন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বরাত দিয়ে বলেন, ২০১৮ সালের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্টে ২৪৯৪৪ জনের মৃত্যুর কথা বলা হলেও পুলিশের রিপোর্টে বলা হয়েছে মৃত্যু হয়েছে ২৬৩৫ জনের।
এদিকে ২০২৩ সালে (বিআরটি এ) তথ্য মতে ৫৯৯৫ সড়ক দুর্ঘটনায় সারাদেশে নিহত হয়েছেন ৫ হাজার ২৪ জন। কিন্তু পুলিশের রিপোর্টে বলা হয়েছে ওই বছর ৫৯৩ দুর্ঘটনায় ৪ হাজার ৪৭৫ জন নিহত।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও বেসরকারি বিভিন্ন সংগঠনের দেয়া তথ্য কে অতিরঞ্জিত বলে মন্তব্য করে বলেন, এতে জনমনে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। অথচ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে সেখানে তারা আমাদের দেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দ্বারা এই তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করেছে। যার উপর ভিত্তি করে এই তথ্য তারা প্রকাশ করে আসছে। কিন্তু বিআরটিএ ও সড়ক মন্ত্রণালয় যখন এই তথ্যকে অবাস্তব বলতে চায় তখন জাতি বিভ্রান্ত হয়।
ইলিয়াস কাঞ্চন স্বাস্থ্য ও সড়ক মন্ত্রণালয়ের দিকে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, দুটি মন্ত্রণালয়ের সড়ক দুর্ঘটনার ডাটার হিসাব ভিন্ন ভিন্ন কেন?
তিনি বলেন, আমরা মনে করি সরকারের দুটি মন্ত্রণালয়ের এই পারস্পরিক বিরোধী অবস্থায় কারণে দেশে সঠিকভাবে দুর্ঘটনা নিরসন ও সঠিক হতাহতের সংখ্যা নিরূপণ করা যায়নি। তিনি মনে করেন এ বিষয়ে সরকার উদ্যোগী হলে দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ এবং সঠিক হতাহতের সংখ্যা নির্ণয় করা সম্ভব।
এম জি






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন














