ঢাবি ছাত্র নির্যাতন মামলায় ওসি হেলালের দণ্ড বহাল

প্রকাশ: ২০১৬-০৭-২৭ ১৫:০৩:৩৮


oc_helal-kader_20340_1469607852ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবদুল কাদেরকে নির্যাতনের মামলায় ওসি হেলালউদ্দিনের তিন বছরের কারাদণ্ডের রায় বহাল রেখেছেন ঢাকার জজ আদালত।

বুধবার পঞ্চম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ জাহিদুল কবির এই রায় ঘোষণা করেন।

হাকিম আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে ওসি হেলালের আপিলের শুনানি শেষে রায় বহালের এ আদেশ দিলেন আদালত ।

হাকিম আদালতের দেয়া রায়ের বিরুদ্ধে গত বছরের জুন মাসে আপিল করেছিলেন ওসি হেলালউদ্দিন।

নির্যাতিত ঢাবি ছাত্র কাদেরের আইনজীবী শুভ্র সিনহা এসব তথ্য জানান।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০১১ সালের ১৬ জুলাই খালার বাসা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলে ফেরার পথে সেগুন বাগিচায় দুর্নীতি দমন কমিশন কার্যালয়ের সামনে সাদা পোশাকের পুলিশ কাদেরকে আটক করে। কাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হিসাবে পরিচয় দেয়ার পরও তাকে নিয়ে যাওয়া হয় খিলগাঁও থানায়।

ওই থানার তখনকার ওসি হেলাল তার কাছ থেকে একটি মামলার স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য মারধর করেন। এক পর্যায়ে থানার টেবিলে রাখা একটি চাপাতি নিয়ে ‘দেখি তো চাপাতিতে ধার আছে কি না’ বলে কাদেরের বাঁ পায়ের পেছন দিকে মাংশ পেশিতে আঘাত করেন।

গুরুতর আহত কাদেরকে এরপর দীর্ঘদিন হাসপাতালে কাটাতে হয়। এরইমধ্যে ২১ জুলাই তাকে মোহাম্মদপুর থানার একটি গাড়ি ছিনতাই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। পরে খিলগাঁও থানার অস্ত্র ও ডাকাতি চেষ্টার দুটি মামলায় আসামি করা হয় তাকে, যদিও এসব মামলার এজাহারে তার নাম ছিল না।

পরে আইন মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে ২০১২ সালের ২৩ জানুয়ারি আবদুল কাদের ওসি হেলাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

ওই বছর ২৬ মার্চ আসামি হেলালের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন এ মামলার তদন্ত কর্মকর্ত উপ-পরিদর্শক মো. আবু সাঈদ আকন্দ।

২০১২ সালের ১ অক্টোবর অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে হাকিম আদালতে এ মামলার বিচার শুরু হয়। ১৩ জনের সাক্ষ্য শুনে ওই মামলার রায়ে গত বছর ১৭ মে হেলালকে তিন বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আলমগীর কবীর রাজ। পাশাপাশি হেলালকে দশ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়।

খিলগাঁও থানার ওসি ছিলেন হেলাল। ঘটনার পর চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্তের পর তাকে রাজারবাগ পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়। বর্তমানে হাইকোর্ট থেকে জামিনে রয়েছেন তিনি।

নির্যাতিত ঢাবির সাবেক ছাত্র আবদুল কাদের যিনি এখন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের রসায়ন বিভাগের প্রভাষক; জজ আদালতের রায়ের প্রতিক্রিয়ায় জানান, রায়ে তিনি সন্তুষ্ট।

কাদের বলেন, আর কোনো ছাত্র যেন ওসি হেলালের মতো কোনো পুলিশ কর্মকর্তার নির্যাতনের শিকার না হন। তিনি বলেন, ওসি হেলাল আপস করার জন্য বিপুল পরিমাণ টাকা দিতে চেয়েছিলেন। আমি রাজি হইনি। কারণ এ রকম পুলিশ কর্মকর্তার মতো আর কারও যেন পুলিশে বাহিনীতে জায়গা না হয়। তার দৃষ্টান্ত থাকা দরকার। আমি আপস করলে ও জিতে যেত।