দু’টি ইকোনমিক জোনের লাইসেন্স পাচ্ছে বসুন্ধরা গ্রুপ

প্রকাশ: ২০১৬-০৭-২৭ ১৯:০২:২৫


Bashundhara-Groupবেসরকারি খাতে শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে দু’টি স্পেশাল ইকোনমিক জোনের (বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল) প্রাক-যোগ্যতা লাইসেন্স পাচ্ছে দেশের স্বনামধন্য বসুন্ধরা গ্রুপ।

‘বসুন্ধরা স্পেশাল ইকোনমিক জোন লিমিটেড’ ও ‘ইস্ট-ওয়েস্ট স্পেশাল ইকোনমিক জোন লিমিটেড’ নামে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) থেকে এ লাইসেন্স দেওয়া হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২৮ জুলাই) রাজধানীর কারওয়ানবাজারে বেজা সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এ লাইসেন্স প্রদান করা হবে।

বেজার একটি সূত্র বাংলানিউজকে এ তথ্য জানিয়েছে।

ইকোনমিক জোন দু’টি ঢাকার দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানার কোণ্ডা ইউনিয়নের কাটুরাইল, পানগাঁও, হাজারীবাগ, পানগাঁও ও আইন্তা মৌজায় অবস্থিত।

সূত্র জানায়, প্রস্তাবিত ‘বসুন্ধরা স্পেশাল ইকোনমিক জোন লিমিটেড’ রাজধানী ঢাকা থেকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার দক্ষিণে দক্ষিণ  কেরাণীগঞ্জের কোণ্ডা ইউনিয়নের হাজারীবাগে করা হচ্ছে।

ইকোনমিক জোনটিকে বর্তমানে ৫৬.০৮ একর জমির ওপর লাইসেন্স প্রদান করা হচ্ছে। তবে পর্যায়ক্রমে ২২৩.৩৯ একর পর্যন্ত সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। যার অংশ হিসেবে জমি কেনার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রেখেছে বসুন্ধরা গ্রুপ।

সূত্র জানায়, ইস্ট-ওয়েস্ট স্পেশাল ইকোনমিক জোন লিমিটেড জোনটি রাজধানী ঢাকা থেকে ১৫ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণে দক্ষিণ  কেরাণীগঞ্জের কোণ্ডা ইউনিয়নের হাজারীবাগে করা হচ্ছে।

এ জোনটিকে বর্তমানে ৫৩.৮৭২৭ একর জমির ওপর লাইসেন্স প্রদান করা হচ্ছে। তবে জোনটি পর্যায়ক্রমে ২১৮.৬৮ একর পর্যন্ত সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। যার অংশ হিসেবে জমি কেনার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রেখেছে বসুন্ধরা গ্রুপ।

সূত্র আরো জানায়, ইস্ট-ওয়েস্ট স্পেশাল ইকোনমিক জোনটির পরিসীমায় ইতোমধ্যেই উদ্যোক্তারা কয়েকটি শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। প্রস্তাবিত দু’টি জোনে ভারি ও মাঝারি ধরনের বিবিধ শিল্প-কারখানা স্থাপনের সুযোগ পাবেন উদ্যোক্তারা। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে আনুমানিক ৪০ হাজার লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

প্রস্তাবিত জোন দু’টিতে পেট্রোলিয়াম অয়েল রিফাইনারি/ফ্রেকশেনেশন প্লান্ট বা পেট্রোকেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ, এলপিজি সিলিন্ডার ম্যানুফ্যাক্সারিং ও এলপিজি বোটলিং প্লান্ট, ফুড অ্যান্ড বেভারেজ ও মাল্টি ফুড প্রোডাক্টস্  ইন্ডাস্ট্রিজ, কেমিক্যাল অ্যান্ড কেমিক্যাল প্রোডাক্টস্‌ ইন্ডাস্ট্রিজ, শিপ বিল্ডিং শিল্প স্থাপন, স্টিল অ্যান্ড স্টিল প্রোডাক্টস ইন্ডাস্ট্রিজ, আধুনিক ও বিশেষায়িত হাসপাতাল, উন্নতমানের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়, আন্তর্জাতিক মানের হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট, আন্তর্জাতিক মানসম্মত শপিংমল, কল সেন্টার (আইটি সর্ম্পকিত সেবা) ইত্যাদি খাতে উদ্যোক্তারা বিনিয়োগের সুযোগ পাবেন।

সূত্র আরো জানায়,  দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়ন তথা শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান, শিল্প-উৎপাদন, রফতানি বৃদ্ধি ও বহুমুখীকরণে সরকার ১০০টি স্পেশাল ইকোনমিক জোন করার পরিকল্পনা নিয়েছে।

ইকোনমিক জোন করতে বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের বিভিন্নভাবে উৎসাহ প্রদান করে আসছে বেজা। এরই অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ৮টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে প্রি-কোয়ালিফিকেশন লাইসেন্স (প্রাক যোগ্যতা সনদপত্র) প্রদান করা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানগুলো হল- এ কে খান ইকোনমিক জোন, আবদুল মোনেম ইকোনমিক জোন, মেঘনা ও মেঘনা ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল ইকোনমিক জোন, বে-ইকোনমিক জোন, আমান ইকোনমিক জোন, আরিশা ইকোনমিক জোন ও ইউনাইটেড সিটি আইটি পার্ক।

সর্বশেষ ‘বসুন্ধরা স্পেশাল ইকোনমিক জোন লিমিটেড’ ও ‘ইস্ট-ওয়েস্ট স্পেশাল ইকোনমিক জোন লিমিটেড’  নামে দেশের স্বনামধন্য বসুন্ধরা গ্রুপকে এ লাইসেন্স প্রদান করা হচ্ছে।