মতিহার হলে বহিরাগতদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা
প্রকাশ: ২০১৬-০৭-২৭ ১৯:২২:০৭
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মতিহার হলে আবাসিক শিক্ষার্থী ছাড়া অন্য শিক্ষার্থীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে হল কর্তৃপক্ষ। সেই সঙ্গে হলের কক্ষে শিক্ষার্থীদের ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক হিটারও বন্ধ করতে নোটিশ দেয়া হয়েছে। এদিকে, হল কর্তৃপক্ষের এ ধরনের সিদ্ধান্তকে অযৌক্তিক আখ্যা দিয়ে তা দ্রুত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
গত ২১ জুলাই মতিহার হলে এক জরুরি নোটিশ দেয়া হয়। সেখানে বলা হয়, শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে হলের ডাইনিংয়ে শুধুমাত্র মতিহার হলের শিক্ষার্থীরাই খেতে পারবেন। আর কোনো শিক্ষার্থী তাদের কক্ষে বৈদ্যুতিক হিটার ব্যবহার করতে পারবে না। ২৭ জুলাইয়ের মধ্যে হলের প্রতিটি কক্ষে রান্নার কাজে হিটারের ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। এ ছাড়াও ওই নোটিশে অন্য হলের শিক্ষার্থীদের মতিহার হলে প্রবেশের বিষয়েও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
এদিকে, হল কর্তৃপক্ষের এমন সিদ্ধান্তকে অযৌক্তিক দাবি করেছেন শিক্ষার্থীরা। তারা বলছেন, হলের ডাইনিংয়ের খাবারের মান খারাপ হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থীই কক্ষে রান্না করে খান। কিন্তু হিটারের ব্যবহার বন্ধ করে দিলে ওইসব শিক্ষার্থীকে দুর্ভোগে পড়তে হবে। তাছাড়া ওই হলে অন্যান্য হলের শিক্ষার্থীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার ফলেও শিক্ষার্থীদের অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মতিহার হলের এক আবাসিক শিক্ষার্থী বলেন, হলের ডাইনিংয়ের খাবারের অবস্থা খুবই নি¤œমানের। তাই দীর্ঘদিন আমরা হিটারে রান্না করে খাই। সব হলের শিক্ষার্থীরাই এ সুবিধা পেয়ে থাকে। তাহলে শুধুমাত্র মতিহার হলের শিক্ষার্থীরা কেন এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে?
আরেক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা বন্ধুরা মিলে গ্রুপ স্টাডি করি। বিভিন্ন হল থেকে বন্ধুরা মতিহার হলে আসে। এখন শুনছি বাইরের শিক্ষার্থীরা হলে প্রবেশ করতে পারবে না। এটা কি করে সম্ভব? একই বিশ্ববিদ্যালয়ের এক হলের শিক্ষার্থী অন্য হলে যেতে পারবে না! এটা কেন? এছাড়া পরীক্ষার আগেও বন্ধুরা একসঙ্গে রাত জেগে স্টাডি করতে হয়। এখন যদি অন্যরা আমাদের হলে প্রবেশ করতে না পারে তাহলে আমাদেরকে একাডেমিক বিষয় নিয়ে সমস্যায় পড়তে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের মাদার বখশ হলের এক শিক্ষার্থী বলেন, আমার বিভাগের অনেক বন্ধু ও বড় ভাই ওই হলে থাকে। এজন্য পড়াশোনার স্বার্থে প্রায়ই মতিহার হলে যেতে হয়। কিন্তু এখন ওই হলে অন্য হলের শিক্ষার্থীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকায় পড়াশোনায় সমস্যা হচ্ছে। এ ধরনের সিদ্ধান্ত অযৈাক্তিক। এভাবে কি কখনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় চলতে পারে?
এদিকে, গত ২৪ তারিখে বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু হলে দেয়া এক নোটিশে বলা হয়, সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে রাত সাড়ে ১০টার মধ্যে ক্যান্টিন বন্ধ করতে হবে। আর এ কারণে রাত দশটার পর থেকে ক্যান্টিন হতে কোনো প্রকার খাবার সরবরাহ করা হবে না।
ক্যান্টিন এ সময়ের মধ্যে বন্ধের বিষয়ে বঙ্গবন্ধু হলের আবাসিক শিক্ষার্থী রাজু আহমেদ বলেন, হলের ডাইনিংয়ের খাবারের মান ভালো না। এজন্য আমরা ক্যান্টিনেই খেয়ে থাকি। অনেক শিক্ষার্থী টিউশনি করে রাতে হলে ফিরে। আর এ কারণে তাদের পক্ষে এ সময়ের মধ্যে খাবার গ্রহণ করা কষ্টকর। তাই রাত সাড়ে দশটার মধ্যে ক্যান্টিন বন্ধের বিষয়টি দুঃখজনক।
জানতে চাইলে মতিহার হলের প্রাধ্যক্ষ ড. আলী আসগর বলেন, গত ১২ তারিখে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে নিরাপত্তা বিষয়ক একটা চিঠি দেয়া হয়েছে আমাকে। সেখানে হলের বাইরের শিক্ষার্থীদের প্রবেশ নিষেধ করা হয়েছে।
এছাড়া বিদ্যুৎ অফিস থেকে লোডশেডিং কমানোর স্বার্থে বৈদ্যুতিক হিটার বন্ধ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
হলের শিক্ষার্থীদের ডাইনিংয়ে বাধ্যতামূলক খাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা বাধ্যতামূলক না। শিক্ষার্থীদের সবসময় ডাইনিংয়ে খাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে মাত্র।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মুহম্মদ মিজানউদ্দিন বলেন, এ ধরনের বিষয়ে আমি কিছু জানি না। তবে এমন কোন নোটিশ দেয়া হয়ে থাকলে, আমি হল প্রাধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলে দেখবো।#






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













