আরএসও নেতা শফিউল্লাহ এখনো অধরা!
প্রকাশ: ২০১৬-০৭-৩১ ২০:৫৮:৩৬
কক্সবাজারের টেকনাফের শাপলাপুরে অভিযান চালিয়ে নাইক্ষ্যংছড়ির বহুল আলোচিত আরএসও নেতা শফিউল্লাহ’র সেকেন্ড ইন কমান্ড রোহিঙ্গা জঙ্গি সংগঠন আরএসও নেতা হাফেজ ছালাহুল, মৌলভী ছৈয়দ করিম, সৌদি নাগরিক আহমেদ সালেহ আল খামদিকে আটক হলেও অধরা রয়েছে শফি উল্লাহ।
শনিবার দুপুর ২টার দিকে টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের শাপলাপুরে অভিযান চালিয়ে সৌসিসহ ওই ৩ জঙ্গিকে আটক করে।
বিজিবির টেকনাফ-২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আবুজার আল জাহিদ জানান, শাপলাপুরের অবৈধ রোহিঙ্গা বস্তিতে নগদ টাকা এবং ত্রাণ বিতরণের খবর পেয়ে টেকনাফ উপজেলার সহকারী কমিশনারের (ভূমি) নেতৃত্বে বিজিবি সদস্যরা অভিযানে যায়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে রোহিঙ্গা জঙ্গি সংগঠন আরএসওর নেতা হাফেজ ছালাহুল ইসলাম, মৌলভী ছৈয়দ করিম ও সৌদি নাগরিক আহমেদ সালেহ আল খামদি আটক করা হয়।
অভিযানের সময় ঘটনাস্থলে স্থানীয় সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি, উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আহমদ, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মৌলভী রফিক উদ্দিন এবং বাহারছড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মৌলভী আজিজ উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। পরে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তারা ঘটনাস্থল থেকে সরে পড়েন। তিনি জানান, আটকদের বিজিবি ক্যাম্পে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শফিউল আলম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, আটকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সীমান্তবর্তী এলাকা কক্সবাজারকে কেন্দ্র করে কার্যক্রম বিস্তৃত করছে আরএসও। এ কাজে সরকারি দলের বড় একটি অংশকেও অর্থের বিনিময়ে ব্যবহার করছে তারা। এ তালিকায় আছেন নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা শফিউল্লাহ, কক্সবাজার জেলা শ্রমিকলীগের সভাপতি জহিরুল ইসলাম, টেকনাফ শামলাপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মৌলানা আজিজ, উখিয়ার কুতুপালংয়ের এক রোহিঙ্গা নেতা ও কক্সবাজার সদরের ইসলামপুরের নির্বাচিত এক জনপ্রতিনিধিসহ একটি বড় অংশ।
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা শফি উল্লাহ ছাত্রজীবনে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে বিভিন্ন দেশ থেকে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা জঙ্গি সংগঠনের জন্য অবৈধভাবে পাঠানো হুন্ডির টাকা গ্রহণ ও তা বিতরণের মূল দায়িত্ব শফিউল্লাহর ওপর। পাঁচ বছর ধরে তাঁর বিরুদ্ধে শতাধিক গোয়েন্দা প্রতিবেদন দাখিল করা হলেও সরকারি দলের প্রভাবশালী এক নেতার কারণে দীর্ঘদিন সেসব প্রতিবেদন চাপা পড়ে ছিল।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১০ সালে শফিউল্লাহ আওয়ামী লীগে যোগ দেন। ওই বছরই উপজেলা সম্মেলন কমিটির সদস্যসচিব হন। ২০১২ সালে শফিউল্লাহ উপজেলা কমিটির মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক মনোনীত হন। একই বছর আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচন করে হেরে যান। ২০১৪ সালের ২৩ নভেম্বর চট্টগ্রাম নগরীর একটি হোটেল থেকে শফিউল্লাহ ও এক পাকিস্তানি নাগরিকসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে চট্টগ্রাম নগর গোয়েন্দা পুলিশ। ওই সময় পুলিশ দাবি করে, ওই পাঁচজন আরএসও নেতা।
সরকারি একটি গোয়েন্দা সংস্থা নিশ্চিত করেছে, শফিউল্লাহ বান্দরবানের সীমান্ত এলাকায় বিচ্ছিন্নতাবদী সংগঠনগুলোকে আর্থিক সহযোগিতা করে আসছেন। তাঁরা রোহিঙ্গা জঙ্গিদের মদদ দেন।
তবে এ ব্যাপারে শফিউল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এটা আমার বিরুদ্ধে যড়যন্ত্র। আমি কোনো আরএসওকর্মীকে সহায়তা দিই না। প্রতিপক্ষের লোকেরা এসব অপপ্রচার করে বেড়াচ্ছে।
কক্সবাজার অঞ্চলের আরেক জঙ্গি নেতা আরএসওর সাবেক কমান্ডার হাফেজ ছালাহুল ইসলামও কক্সবাজার ও বান্দরবানে সরকারি জমি দখল করে একের পর এক মাদ্রাসা নির্মাণ করেছেন। এসব মাদ্রাসায় রোহিঙ্গা জঙ্গি এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন ইসলামী জঙ্গিবাদী সংগঠনের সদস্যদের জন্য প্রশিক্ষণ ক্যাম্প গড়ে তোলেন তিনি। তাঁর বিরুদ্ধে থ্রি মার্ডারের একটি মামলাসহ কয়েকটি মামলায় পুলিশ অভিযোগপত্র দিয়েছে। অথচ তিনি প্রকাশ্যেই চলাফেরা করে আসছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী একজন সংসদ সদস্য এবং বিএনপি ও ইসলামী ঐক্যজোট নেতারা পাশে থাকায় পুলিশ তাঁর কিছু করতে পারেনি।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, কক্সবাজারের লিংক রোডে দক্ষিণ মুহুরীপাড়ায় সরকারি বন বিভাগের সাত একর ও স্থানীয় মানুষের তিন একরসহ ১০ একর জায়গা দখল করে সেখানে ইমাম মুসলিম (রহ.) ইসলামিক সেন্টার গড়ে তুলেছেন তিনি। কার্যত এখান থেকেই আরএসওর সব কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ইমাম মুসলিম (রহ.) ইসলামিক সেন্টার ছাড়াও আরো ১২টি মাদ্রাসায় প্রতি মাসের খরচ আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। আর এ নগদ টাকা ও ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করতে গিয়ে গতকাল বিজিরি হাতে আটক হন সৌদি নাগরিকসহ ৩ জন।
একটি সূত্র জানান, ওমরা হজ্ব করতে গিয়ে আটক সৌদিসহ দেশে ফিরেন বির্তকিত আওয়ামীলীগ নেতা শফি উল্লাহ। শনিবার (৩০ জুলাই) সৌদি নাগরিকসহ ৪ জন আটক হলেও অধরা রয়েছেন শফি উল্লাহ।
সানবিডি/ঢাকা/শাহীন/আহো






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













