অনলাইনে ক্রেতা বাড়লেও, কমেছে অফলাইনে
প্রকাশ: ২০১৬-০৮-০২ ১৬:০৬:৪৬
রাজধানী ঢাকার গুলশানের হলি আর্টিসান বেকারি রেস্টুরেন্ট, শোলাকিয়ার ঈদগাহে জঙ্গি হামলার পর শপিং মল, মার্কেট, রেঁস্তোরাগুলো প্রায় ক্রেতাশূন্য। অন্য দিকে ই-কমার্সের বিভিন্ন মার্কেট প্লেসের বেচা-বিক্রি বেড়েছে আগের তুলনায় ১০ থেকে ২০ শতাংশ।
জীবনে নিরাপত্তার কথা ভেবে অনেকেই এখন ঘরের বাইরে বের হন না। যার এক সময় শখই ছিল প্রতি শপিং মলে ঘুরে ঘুরে নতুন পোশাক, গহনা, ফার্নিচার কেনা, সেও আজ-কাল অতি প্রয়োজন ছাড়া বাসার বাহির হন না।
এদিকে জঙ্গি হামলার পর অনলাইন ব্যবসায়ীরা লাভবান হলেও মারাত্বক ক্ষতিতে আছেন শপিং মল-রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন তাদের বেচা-বিক্রি প্রায় অর্ধেকেরও বেশি কমেছে।
বসুন্ধরা শপিং মলের ওয়ের্স্টান টেলিকমের বিক্রয় প্রতিনিধি মো. রাসেল হোসেন বলেছেন, গুলশান হামলার পর মার্কেটে যেমন ক্রেতার সংখ্যা কমেছে, তেমনি কমেছে বিক্রি।
তিনি বলেন, আগে যেখানে আমাদের প্রতিদিন গড়ে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা সেল হত, সেখানে এখন আমাদের গড় সেল ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা।
বসুন্ধরা মার্কেটে আসা হুসনা আশ শুয়াইবা বলেন, এখন আমাদের মার্কেটে আসতে ভয় লাগে। আমরা ঘর থেকে বের হবো কোথায় আবার হামলা হয় এই আতঙ্কে থাকি সব সময়। এখন থেকে চিন্তা করছি অনলাইনে ঘরে বসে পছন্দ করে কেনা-কাটা করবো।
বাংলাদেশের ই-কমার্সের জনপ্রিয় মার্কেট প্লেস “অথবা ডট কম” এর হেড অব অপারেশনের আহসানুল আলম বলেন, হ্যা, জঙ্গি হামলার পর মানুষের মধ্যে একটা আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে, যার কারণে মানুষ প্রয়োজন ছাড়া মার্কেটে যান না।
তিনি বলেন, জঙ্গি হামলার পর অনলাইন মার্কটগুলোতে অর্ডার কিছুটা বেড়েছে তবে তুলনামূলক বেশি না। ঈদের সময় কিছু অর্ডার বেশি ছিল এখন তেমন নেই।
তবে তিনি ই-কর্মাসের উজ্জল ভবিষ্যত আশাবাদী এই কর্মকর্তা বলেন, সারা বিশ্বে বিশেষ করে চীনের আলী বাবা ডট অনেক বড় সাফল্য অর্জন করেছে। আমরাও ই-কমার্সে বড় সাফল্য আনতে চাই।
অথবার এই হেড অব অপারেশন কর্মকর্তা সরকারের নানা সহযোগীতার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘সরকার যদি আমাদের সহযোগিতা করেন, তাহলে আমরা দেশের অর্থনীতি প্রবৃদ্ধি আনতে সক্ষম হবো। সরকারের পোস্টাল অর্ডার যদি ই-কমার্স বান্ধব করা যেতে পারে তাহলে ই-কমার্স দূর্বাব গতিতে এগোতে পারবে।
গুলশান-১-এর রেস্টুরেন্ট ভিলেজের ম্যানেজার মেহেদী হাসান বলেন, হামলার পর ক্রেতার উপস্থিতি অনেকটাই কমেছে গেছে। বাধ্য হয়ে কর্মী ছাঁটাই করতে হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে রেস্টুরেন্টের বিদ্যুৎ বিলও উঠবে না। এখনই সরকার যথাযথ পদক্ষেপ না নিলে রেস্টুরেন্ট খাতে ধস ঠেকানো যাবে না। ফলে এ খাতের সঙ্গে জড়িত লোকজন কর্মসংস্থান হারাবে।
সানবিডি/ঢাকা/এসএস






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন














