বাইক হাসানের বউ নারী জঙ্গি!
প্রকাশ: ২০১৬-০৮-০৪ ২১:৪০:৪৯
রাজশাহীতে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত জঙ্গি নজরুল ওরফে পারভেজ ওরফে বাইক হাসান জেএমবির এক নারী সদস্যকে বিয়ে করেছিলেন। সেই স্ত্রী এখন কারাগারে।
জঙ্গি বাইক হাসান দেশব্যাপী চাঞ্চল্যকর ১১ খুনের সঙ্গে জড়িত। তিনি তার প্রথম স্ত্রীকে জঙ্গি বানাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তার স্ত্রী রাজি না হওয়ায় রাগ করে বাড়ি ছাড়েন। পরে স্ত্রী ইসমত আরা নীলফামারী সদরের রামগঞ্জ এলাকায় বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেন দুই মেয়েকে নিয়ে।
এক বছর ধরে তিনি সেখানেই আছেন। আর নিরুদ্দেশ হওয়ার পর বাইক হাসান সাজেদা আক্তার নামে জেএমবির এক নারী সদস্যকে বিয়ে করেন। তিনি এখন কারাগারে।
রাজশাহী মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের দায়িত্বশীল সূত্র এ সব তথ্য জানিয়েছেন। সূত্র জানান, বাইক হাসান তার স্ত্রীকে জেএমবির সদস্য পদ নেওয়ার জন্য চাপ দেন। ব্যর্থ হয়ে তিনি রাগ করে বাড়ি ছাড়েন। তারপর থেকে স্বামীর কোনো খবর পাননি ইসমত আরা।
বাইক হাসানের কাজ ছিল, জেএমবির কিলিং মিশনের সদস্যদের মোটরসাইকেলে করে নিরাপদে আনা-নেওয়া করা। আর এ জন্যই তিনি জেএমবি সদস্যদের কাছে ‘বাইক হাসান’ নামে পরিচিতি লাভ করেন। এরই মাঝে গাইবান্ধার সাজেদা আক্তার (২২) নামে জেএমবির এক নারী সদস্যর সঙ্গে হাসানের বিয়েও দেওয়া হয়।
বাইক হাসানের দ্বিতীয় স্ত্রী সাজেদা আক্তার টাঙ্গাইলের কালীহাতী উপজেলার যোকারচর রেলগেট এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। তবে এ বাসায় বাইক হাসানের যাতায়াত ছিল খুবই কম। ‘কিলিং মিশনের’ জন্য বেশিরভাগ সময়ই তাকে দেশের বিভিন্নপ্রান্তে ছুটে বেড়াতে হতো।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. এ এফ এম রেজাউল করিম সিদ্দিকী হত্যার পর বাইক হাসানকে ধরতে গত ৩ জুন কালীহাতীর ওই ভাড়া বাসায় অভিযানে যায় পুলিশ।
মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে কালীহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আখেরুজ্জামান জানান, ওই বাড়ি থেকে সাজেদাসহ রোজিনা বেগম (৩০), তার স্বামী মোখসেদুল ইসলাম ওরফে মোজাম্মেল ওরফে হারেজ (৩৫) এবং জান্নাতি ওরফে জেমি (১৮) নামের জঙ্গিকে আটক করা হয়।
ওসির ভাষ্য, তারা সবাই জেএমবির সুইসাইড স্কোয়াডের সদস্য। আটকের সময় তাদের কাছ থেকে দুটি চাপাতি, একটি ছোরা, মোবাইল ফোন, মানুষ জবাই করার জিহাদী ভিডিওচিত্র এবং বোমা তৈরির কলাকৌশল লেখা একটি খাতা উদ্ধার করা হয়। বর্তমানে তারা জেলহাজতে রয়েছেন।
এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কালীহাতী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নজরুল ইসলাম জানান, হারেজের বাড়ি গাইবান্ধার সাঘাঁটা উপজেলার পশ্চিম রাখবপুর ভূতমারা গ্রামে। আর জান্নাতি ওরফে জেমি বগুড়ার শেরপুর উপজেলার বাগরা কুসুমদী গ্রামের আবু সাইদ ওরফে সবুজের স্ত্রী। ওই সময় থানায় যে মামলা দায়ের হয়, তাতে সাজেদার স্বামী বাইক হাসান ও জেমির স্বামী সবুজকেও আসামি করা হয়।
বাইক হাসান রাজশাহীর আশরাফের মোড় এলাকায় গত মঙ্গলবার ডিবি পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়। পরদিন রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, বন্দুকযুদ্ধে নিহত ব্যক্তি জেএমবির সেই বাইক হাসান। তার বাবার নাম আব্দুল্লাহ মিয়া ওরফে মুন্না। বাড়ি পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার সোনারহার গ্রামে। এই বাইক হাসানকেই ধরিয়ে দিতে এক লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করে আরএমপির পক্ষ থেকে গত ২৯ জুলাই পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি ছাপানো হয়।
ওই দিন বিকেলে আরএমপির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাইক হাসান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. এ এফ এম রেজাউল করিম সিদ্দিকী, পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জের মঠের অধ্যক্ষ যজ্ঞেশ্বর রায়, রংপুরে জাপানের নাগরিক হোশিও কোনি, কাউনিয়া মাজারের খাদেম রহমত আলী হত্যাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আলোচিত ১১টি হত্যায় জড়িত। এ সব হত্যায় তিনি মোটরসাইকেল চালকের ভূমিকা পালন করেন।
বৃহস্পতিবার রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের (রামেক) মর্গে ছেলের লাশ নিতে এসে বাইক হাসানের বাবা আব্দুল্লাহ মিয়া জানিয়েছিলেন, তার ১১ ছেলে-মেয়ের মধ্যে হাসান সবার বড়। নীলফামারী সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ নূরানি মাদ্রাসায় দুই বছর পড়াশোনা করেছে। এরপর আর পড়াশোনা করেনি। পরবর্তীতে সে হাটে-বাজারে মসলা ও সবজি বিক্রি করত। দেড় বছর আগে ঢাকায় কাজের কথা বলে বাড়ি ছাড়ে। তারপর তার সঙ্গে আর যোগাযোগ হয়নি।
আব্দুল্লাহ মিয়া ছেলের দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়ে কিছু জানেন না।
সানবিডি/ঢাকা/আহো






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













