এমসিসিআইয়ের প্রতিবেদন

অর্থনীতিতে এখনও পিছিয়ে ছয় সূচক

সানবিডি২৪ প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২৪-০৩-০৫ ২২:১৭:৪৮


দেশের সার্বিক অর্থনীতিতে ছয়টি সূচক এখনও পিছিয়ে রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- বিনিময় হার, বাণিজ্য ঘাটতি, মূল্যস্ফীতি, খাদ্য মজুদ ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। এই পরিস্থিতি থেকে যত দ্রুত উত্তরণ হওয়া যায় ততই দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব। এ ছাড়াও বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্র্রি বাংলাদেশের ত্রৈমাসিক (অক্টোবর-ডিসেম্বর) প্রতিবেদনে এই কথা উল্লেখ করেছে। গতকাল অর্থনৈতিক বিভিন্ন সূচক পর্যালোচনার ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

প্রতিবেদনে অর্থনৈতিক বিভিন্ন সূচকের মধ্যে রয়েছে- কৃষি, শিল্প, সেবা, টাকা ও শেয়ারবাজার, সরকারি ব্যয়, রফতানি ও আমদানি, রেমিট্যান্স, বৈদেশিক সাহায্য, বৈদেশিক সরাসরি বিনিয়োগ, ব্যালেন্স অব পেমেন্ট, বিনিময় হার ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, বিদেশে কর্মসংস্থান, মূল্যস্ফীতি ইত্যাদি।

প্রতিবেদনে কৃষি ক্ষেত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, সর্বশেষ তথ্য না পাওয়া গেলেও, প্রধান কৃষি খাতের শস্য হিসেবে আমন, আউশ ও বোরো ধানকে চিহ্নিত করা হয়। বাংলাদেশের কৃষি খাতে এখনও ৩৯ শতাংশ শ্রমজীবী রয়েছে। যা ২০২৩ সালের জিডিপির অনুপাতে ১১ দশমিক ২০ শতাংশ।

খাদ্য পরিস্থিতি সম্পর্কে অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের ক্ষেত্রে সরকার চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জন্য ৪৪ দশমিক ৫৩ মিলিয়ন মেট্রিকটন লক্ষ্যমাত্রা র্নিধারণ করেছে। যা গত অর্থবছরের তুলনায় ৪ দশমিক ২১ শতাংশ বেশি। তবে এখন পর্যন্ত পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য না পাওয়ার কারণে উৎপাদনের সর্বশেষ পরিস্থিতি দেওয়া সম্ভব হয়নি।

খাদ্যশস্য আমদানি প্রসঙ্গে উল্লেখ করা হয়, জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকার ২৫ লাখ ৪৩ হাজার মেট্রিকটন খাদ্যশস্য আমদানি করেছে। এর মধ্যে চাল ও গম রয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে সরকার আমদানি করেছিল ১৯ লাখ ৫৯ হাজার মেট্রিকটন।

অভ্যন্তরীণ সংগ্রহের ক্ষেত্রে সরকার ১০ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিকটন খাদ্যশস্য সংগ্রহ করেছে। যা গত অর্থবছরে একই সময়ে ছিল ৮ লাখ ৩১ হাজার মেট্রিকটন। জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত জনসাধারণের কাছে বিতরণ হয়েছে ১৫ লাখ ৮৫ হাজার মেট্রিকটন। ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকারের মজুদ ছিল ১৫ লাখ ৩৩ হাজার মেট্রিকটন। তবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারের মজুদ খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিশেষ করে খাদ্যমূল্য স্থিতিশীলতার জন্য। এ ছাড়াও বিতরণের বিষয়টি অন্য মূল্য স্থিতিশীলতার জন্য বড় বিষয়।

প্রতিবেদনে মাছ ও প্রাণী সম্পদের বিষয়ে বেশ কিছু তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে হিমায়িত খাদ্যের রফতানি। জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত হিমায়িত খাদ্য ও মাছ রফতানি করা হয়েছে ২১৫.১৩ মিলিয়ন ডলার। যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১২ দশমিক ৬৮ শতাংশ কম।

শিল্প বিষয়ে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইউক্রেন ও রাশিয়া যুদ্ধের কারণে সঠিক তথ্য না পাওয়ার কারণে ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে গত ২০২১-২২ অর্থবছরের তুলনায় কম উৎপাদন হয়েছে।

বিদ্যুতের ক্ষেত্রে প্রতিবেদনে বেশ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য সংযুক্ত করা হয়েছে। বিশেষ করে বিদ্যুতের উৎপাদনের বিষয়টি। ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ৯ হাজার ৯৩০ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ১১ হাজার ৪২৬ মেগাওয়াট। তবে ১১ অক্টোবর উৎপাদনের ক্ষেত্রে রেকর্ড তৈরি হয়েছিল। সে সময় বিদ্যুৎ উৎপাদন হয় ১৪ হাজার ৩৫৬ মেগাওয়াট।

প্রতিবেদনে শিল্প খাতে ঋণ, এসএমই খাতে ঋণ, কৃষি খাতে ঋণ ও অকৃষি খাতে ঋণ নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। এর পাশাপাশি শেয়ারবাজার, পাবলিক ফাইন্যান্স, সরকারি ব্যয়সহ রফতানি ও আমদানি খাতের চিত্র উপস্থাপন করা হয়েছে। গত জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত রফতানি খাতে আয় এর আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। অর্থাৎ ২৭ দশমিক ৩১ বিলিয়ন ডলার থেকে ২৭ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন ডলারে উন্নতি হয়েছে। তবে আমদানি ক্ষেত্রে এর আগের অর্থবছরের তুলনায় বেশ কিছুটা কমে গেছে। যার পরিমাণ হচ্ছে ১৯ দশমিক ৯০ শতাংশ।

রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে এর আগের অর্থবছরের তুলনায় ১৭ দশমিক ০৬ শতাংশ। অর্থাৎ এর আগের অর্থবছরে একই সময়ে ছিল ১ দশমিক ৭০ বিলিয়ন ডলার। আর চলতি বছরে রেমিট্যান্স ডিসেম্বর পর্যন্ত হয়েছে ১ দশমিক ৯৯ বিলিয়ন ডলার।

গত জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত বৈদেশিক সহায়তার পরিমাণ ৪ দশমিক ০৬ বিলিয়ন ডলার এর আগের অর্থবছরে ছিল ৩ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ডলার।

বাণিজ্য ঘাটতিতে এখন বাংলাদেশ সমুন্নত রাখতে পারেনি। ডলারের কারণে আমদানি কমে গেছে। ফলে আমদানি ও রফতানির মধ্যে এখনও ভারসাম্য রাখা সম্ভব হচ্ছে না। একই ভাবে বৈদেশিক সরাসরি বিনিয়োগের পরিমাণও কমে গেছে।

প্রতিবেদনে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে মূল্যস্ফীতি। বিশেষ করে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে খাদ্য বহির্ভূত মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পেয়েছে।

এএ