ব্রোকারেজ কার্যক্রম নেই ডিএসই’র ছয় শেয়ারহোল্ডারের
প্রকাশ: ২০১৬-০৮-০৮ ২০:৪৮:৪০
কোনো ধরনের ব্রোকারেজ কার্যক্রম চালাচ্ছেন না দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ছয়জন শেয়ারহোল্ডার। তাদের মধ্যে কেউ কেউ কার্যক্রম স্থগিত করেছেন, আবার কেউ মারা যাওয়ায় তাদের উত্তরাধিকারীদের পুঁজিবাজারে আগ্রহ না থাকার কারণে কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
তবে বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, বাজারে মন্দাভাব থাকার কারণেই এসব শেয়ারহোল্ডাররা তাদের কার্যক্রম স্থগিত রেখেছেন।
ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, ডিএসইর মোট শেয়ারহোল্ডার ২৫০ জন। এর মধ্যে কোম্পানির ব্রোকারেজ কার্যক্রম থেকে সরে যাওয়া হাউজগুলোর মধ্যে রয়েছে- ‘আল ফয়সাল সিকিউরিটিজ’ (ডিএসই সদস্য নং-১৬১), ‘আসিফ আহমেদ অ্যান্ড কোং’ (ডিএসই সদস্য নং ৮৪)। অন্যদিকে মারা যাওয়া ডিএসইর চার শেয়ারহোল্ডার হলেন- আব্দুল আহাদ (সদস্য নং৩৬), জামিলুর রহমান (সদস্য নং ৯২), সাখাওয়াত হোসাইন (১৪৪) এবং মোহাম্মদ ইদ্রিস (সদস্য নং ১৮৮)।
বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, স্টক এক্সচেঞ্জ ডি-মিউচ্যুয়ালাইজেশন হওয়ার আগ পর্যন্ত এই ছয় শেয়ারহোল্ডারদের কার্যক্রম অব্যাহত ছিল। পরবর্তীতে তারা আর ট্রেকহোল্ডার বা ব্রোকারেজ কার্যক্রম অব্যাহত রাখেননি। আবার যেসব সদস্য বা শেয়ারহোল্ডার মারা গেছেন, তাদের উত্তরাধিকারীরা এ ব্যবসার প্রতি অনাগ্রহী হওয়ায় ব্রোকারেজ কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তবে কার্যক্রম না চালালেও নিয়মানুযায়ী তারা ডিএসই’র শেয়ারহোল্ডারদের সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।
এদিকে ডিএসই’র ওয়েবসাইটে স্টেকহোল্ডারের তালিকায় এই ছয় শেয়ারহোল্ডারদের নাম এখনো রয়েছে। এমন কি মৃত্যুবরণ করা সদস্যদের নামও রয়েছে ওয়েবসাইটে। তাদের উত্তরাধিকারীদের নাম এখনো ওয়েবসাইটে আপডেট করেনি ডিএসই কর্তৃপক্ষ।
গতকাল রোববার স্টক এক্সচেঞ্জের ওয়েবসাইডে ব্রোকারেজ কার্যক্রম বন্ধ থাকা আল ফয়সাল সিকিউরিটিজের অফিস মতিঝিলে ডিএসই’র চতুর্থ তলার ৪০৫নং কক্ষ। লেনদেনের সময়সীমার মধ্যে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কক্ষটি বন্ধ। গেইটে বড় একটি তালা দেয়া; যা অনেকদিন আগে লাগানো হয়েছে বলে জানান পাশের ব্রোকারেজ হাউজের কর্মকর্তারা।
এ প্রসঙ্গে কথা হয় আল ফয়সাল সিকিউরিটিজের স্বত্বাধিকারী ফয়সাল কবির চৌধুরীর সঙ্গে। মুঠোফোনে তিনি বলেন, ‘ব্যক্তিগত কারণে আমাদের ব্রোকারেজ হাউজের কার্যক্রম বন্ধ।’ এর বেশি কিছু বলতে তিনি রাজি হননি।
আরেক ব্রোকারেজ হাউজ আসিফ আহমেদ অ্যান্ড কোং। যার মালিক আসিফ আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগের একাধিকবার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। ডিএসইতে দেয়া তার টেলিফোন ও সেলফোন নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়। তিনি এখন লন্ডন প্রবাসী বলে জানিয়েছেন ডিএসই’র একাধিক শেয়ারহোল্ডাররা।
ডিএসই’র সদস্যদের সঙ্গে আলাপচারিতায় জানা গেছে, ২০১০ সালে বাজারে ভয়াবহ ধসের পরে ব্রোকারেজ হাউজগুলোর মালিকরা চরম সঙ্কটে পড়েন। কর্মী ছাঁটাই করে খরচ কমাতে হয় ব্রোকারদের। এমনকি ব্রোকারেজের শাখাও বন্ধ করেছেন অনেকে। এ অবস্থায় কয়েকটি হাউজ স্টক এক্সচেঞ্জে ডি-মিউচ্যুয়ালাইজেশন হওয়ার পরে আর ট্রেকহোল্ডারের খাতায় নাম লেখাননি। আর যারা মারা গেছেন, তাদের ছেলে-মেয়ে বা অন্য কেউ এই ব্যবসায় আসতে নারাজ।
স্টক এক্সচেঞ্জের নিয়মানুযায়ী, এসব সদস্যরা ডিএসইর শেয়ারধারী। আর যদি পুনরায় লেনদেন কার্যক্রম পরিচালনা করতে চায়, তাহলে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির অনুমোদন নিয়ে ডিএসইর ট্রেকহোল্ডার হতে পারবেন।
কথা হয় ডিএসইর পরিচালক ও সাবেক সভাপতি মো. শাকিল রিজভীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘ডিএসইর কোনো সদস্য তাদের ব্রোকারেজ বা সিকিউরিটিজ কার্যক্রম পরিচালনা করবেন কিনা সেটা তাদের নিজস্ব বিষয়। তবে তারা ডিএসই’র শেয়ারহোল্ডার হিসেবে আছেন। আর যারা মারা গেছেন, তাদের শেয়ার ধারণ করবেন তাদেরই উত্তরাধিকারীরা। কোনো শেয়ারহোল্ডার যদি তাদের ট্রেড (লেনদেন) কার্যক্রম বন্ধ করতে চায়, তাহলে গ্রাহকদের জানাবে। অথবা গ্রাহকদের হিসাব অন্য হাউজে সরিয়ে নিতে সহায়তা করে থাকে।’
সানবিডি/ঢাকা/আহো






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













