ভিসি ও ট্রেজারার ছাড়াই চলছে ইবি

প্রকাশ: ২০১৬-০৮-১৪ ১১:০২:৫২


iu.sunbdদীর্ঘ দিন ভিসি ও ট্রেজারার ছাড়াই চলছে কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যলয়। ভিসি ও ট্রেজারার নিয়োগ না হওয়ায় বিশ্ববিদ্যলয়ের প্রশাসনিক, একোডেমিক সহ সকল স্তরের কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।

বিশ্ববিদ্যলয় সুত্রে জানা যায়, গত ৯ ও ১০ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যলয় মুঞ্জুরী কমিশন থেকে উপাচার্য প্রফেসর ড.আব্দুল হকিম সরকারের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে একটি টিম বিশ্ববিদ্যলয়ে আসে। তদন্ত রিপোর্টে নিয়োগ বানিজ্য আর্থিক অনিয়ম সহ বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে গত ৩০ জুন নির্ধারিত মেয়াদ পূর্ন হওয়ার আগেই প্রফেসর ড.আব্দুল হাকিম সরকারকে উপাচার্য পদ থেকে অব্যহতি দেয় সরকার। এর পর প্রায় দেড় মাস পেরিয়ে গেলে ও এখনো উপচার্য নিয়ো দেয়া হয়নি।

উপাচার্য না থাকায় বিশ্ববিদ্যলয়ের কার্যক্রম চরম ভাবে ব্যহত হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যলয়ের রেজিষ্ট্রার অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রশাসনিক , একাডেমিক ও হিসাব শাখার গুরুত্বপুর্ণ ফাইল আটকে আছে। এছাড়াও উপাচার্য না থাকায় শিক্ষকদের পিএইচডির আবেদন ,শিক্ষার্থীদের সনদ, শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার রেজাল্ট ,ভর্তি বাতিল করার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তই নেওয়া যাচ্ছে না।

ফলে একাডেমিক কাজে স্থবিরতা নেমে এসেছে। শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বন্ধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। উপাচার্য না থাকায় বিশ্ববিদ্যলয়ের আইন শৃঙ্খলার পরিস্থিতি নিয়েও শঙ্কায় আছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। যে কোন ধরনের অনাকাঙ্খিত ঘটনা সামাল দেয়া নিয়ে চরম দ্বিধা দ্বন্ধে ভুগছে বিশ্ববিদ্যলয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা। সরকারের কাছে অতি দ্রুত উপাচার্য নিয়োগের দাবি জানান বিভিন্ন সংগঠন,শিক্ষক ,কর্মকর্তা, কর্মচারী, সাধারন শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন।

বিশ্ববিদ্যলয়ের ইংরেজী বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবির মাহমুদ সানবিডকে বলেন ,“ উপাচার্য না থাকায় আমাদের রেজাল্ট প্রকাশ হচ্ছে না। রেজাল্ট প্রকাশ না হওয়ার কারনে আমরা সেশন জটে পরার আশংকা করছি।” এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যলয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড.মাহবুবুর রহমান সান বিডিকে বলেন,“উপাচার্য না থাকায় বিশ্ববিদ্যলয়ের প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা সংশ্লিস্ট কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া যাচ্ছে না।”

ভারপ্রাপ্ত রেজিস্টার এস এম আব্দুল লতিফ সানবিডিকে বলেন,“উপাচার্য না থাকায় বিশ্ববিদ্যলয়ের একাডেমিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পরেছে। বিভিন্ন বিভাগের পরীক্ষা কমিটি না হওয়ায় পূর্ব নির্ধারিত পরীক্ষা ব্যতীত আর কোনো পরীক্ষা হচ্ছেনা।” প্রধান প্রকৌশলী মো.মকবুল হোসেন সান বিডিকে বলেন ,“উপাচার্যের অনুপস্থিথিতে বিশ্ববিদ্যলয়ের বিভিন্ন উন্নয়নমুলক কাজ ব্যাহত হচ্ছে।’ এ

এর আগে তৎকালীন ভিসি প্রফেসর ড.আব্দুল হাকিম সরকার বিশ্ববিদ্যলয়ের ট্রেজারার আফজাল হোসেনকে তার স্বপদে বহাল রেখে বিশ্ববিদ্যলয়ের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয় উল্লেখ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বরাবর ফ্যাক্স বার্তা পাঠান। এর ভিত্তিতে গত বছরের ২৫ নভেম্বর আফজাল হোসেনকে ট্রেজারার পদ থেকে অব্যহতি দেয় সরকার। এর পর থেকে প্রায় ৮ মাস পেরিয়ে গেলেও ট্রেজারার পদে কাওকে নিয়োগ দেয়া হয়নি।

সানবিডি/ঢাকা/তারিক/এসএস