আমরা কোন স্লো পয়জনিং এর শিকার না তো?
আপডেট: ২০১৬-০৮-১৭ ১৮:১৯:১৪
মিডিয়া যে আমাদেরকে শেইপ করে তার কিছু প্রমাণ মিলে গেছে। এক আপু বলছিলেন- আমার বাচ্চাকে আমি খাওয়াচ্ছিলাম, কিন্তু ও খেতে চাচ্ছে না। হঠাত তার বাচ্চা রান্না ঘর থেকে ছুরি নিয়ে এসে মায়ের গলায় চেপে ধরে- আর মুখে চিৎকার করে- “একদম মাইরা ফেলমু, একদম মাইরা ফেলমু কিন্তু”।
হটাত আপুর খেয়াল হল এই কদিন আগেই টিভিতে এমন দৃশ্য সে আর তার বাচ্চা মিলে দেখেছে। তারপর আমার স্টুডেন্ট আমাকে বলে কি- টিচার, আমি আল্লাহকে কল্পনা করতে গেলেই কেন যেন মা কালীর চেহারা ভেসে আসে। কেন? আমি কিন্তু এটা চাই না, তাও আসে। জানতে চাইলাম তুমি কি তোমার আম্মুর সাথে সিরিয়াল দেখ? বলল হ্যাঁ।
বললাম- তুমি ১৫ দিন সিরিয়ালের কাছে যেও না, দেখ কি হয়! এখন আর ওর আল্লাহর কথা ভাবলে কোন মুর্তির ছবি মনে আসে না।
একবার এক ভাইয়া বলেছিল- তার কোন একজন কেউ বাচ্চা নামাজ পরার সময় আল্লাহু আকবার না বলে বলে ফেলল জয় মা কালী। আমি এর আগেও একবার লিখেছিলাম- এক রিলেটিভের বেবি সিরিয়ালে খুনের দৃশ্য দেখে নিজেই একটি খরগোশ খুন করে প্রায় ১৫ দিনের মত মানসিক বিকারগ্রস্ত ছিল।
যে যার ধর্ম পালন করুক, এতে আমি আনন্দিত হই, কিন্তু একে অন্যেরটা পালন করায় তো কোন সৌন্দর্য নেই। আমার খুবই ক্লোজ এক ফ্রেন্ড হিন্দু, সে যেমন পূজায় গিয়ে আল্লাহু আকবার বলবে না তেমনি আমিও নামাজে হরে কৃষ্ণ বলে ডাকব না।
আমি তো কোন চ্যানেলে দেখলাম না যে মুসলমানদের কিছু দেখে হিন্দু বাচ্চারা কিছু শিখছে, বরং যেদিকেই তাকাই দেখি হিন্দুদের অনেক কিছুই মুসলিম বাচ্চাদের মাথায় ঢুকে যাচ্ছে। আসলে ঢুকবেই না বা কেন? মুসলিমদের ইতিহাস ঐতিহ্য, আদর্শ বা স্মরণীয় ক্যারেক্টার নিয়ে কোন কার্টুন। সিরিয়াল কিংবা সিনেমা কি কেউ বানাচ্ছে?
আরেক আপু একদিন বলছিল- ইসলামের ইতিহাসের গল্পগুলো বা কুরআনের কাহিনীগুলো তেমন একটা জানিনা যদিও আমি মুসলমান, কিন্তু তার চেয়ে ভাল জানি রামায়ণের ঘটনাগুলো। কারণ তিনি আসলে ছোটবেলা থেকে চারপাশে এই গল্পগুলো দেখেই বড় হয়েছেন।
তার মানে আমাদের এই মিডিয়া পুরো আস্ত একটি জেনারেশনকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। এবং তাদের অস্তিত্বকে শেকড় থেকে উপড়ে ফেলতে চাইছে। আমি বলছি না -জানা যাবে না, বা অন্য ধর্ম বা সংস্কৃতি নিয়ে মানুষের এই জ্ঞানার্জন বন্ধ হোক। কিন্তু আগে তো নিজেকে জানতে হবে, নিজের ইতিহাস ঐতিহ্য, কিংবা নিজের শেকড়। নয়ত বানের জলে ভেসে যাওয়াটাই এই প্রজন্মের নিয়তি।
সেদিন একটা আর্টিকেল পড়ছিলাম, যেখানে বলা হয়েছে- অনেক গবেষকরাই বিশ্বাস করেন যে ইয়থ ভায়োলেন্সের সাথে মিডিয়া ভায়োলেন্সের খুব শক্তিশালী লিংক আছে। আমারও ইদানীং তা ই মনে হচ্ছে।
নতুন প্রজন্ম মুসলিম হলেও ইসলামের আগে হিন্দু ধর্ম শিখছে, বাংলাভাষী হলেও হিন্দি আগে শিখছে। অনেকে এটাকে সমস্যা মনে না করলেও আসলেই কি এটা কোন সমস্যা নয়? কেবল একটাই প্রশ্ন! আমরা কোন স্লো পয়জনিং এর শিকার না তো?
সূত্র: শারমিন চৌধুরী এর ফেসবুক






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন














