কপাল পোড়াদের জীবনে প্রেম এক বারই আসে!
প্রকাশ: ২০১৬-০৮-১৭ ১০:৩৮:২৭
প্রেম যেমন বয়স-ও মানে না৷ তেমনই, প্রেম না হলে কি আর শব্দ এবং শব্দের মিলনে হয়ে উঠতে পারে কোনও কবিতা!
কিন্তু, যেন তেন প্রেম…! যেন তেন প্রেম কি কবিতা হয়ে উঠতে পারে না শব্দ আর শব্দের মিলনে…? তা হলে, কবিতা হয়ে উঠতে গেলে সব কিছু উলট পালট করে দেওয়া প্রেম-ই কাম্য?
এমন হতেই পারে৷ যেন তেন প্রেমের ফসল হিসেবে কবিতা না-ও হয়ে উঠতে পারে শব্দ আর শব্দের মিলনে! তাই হয়তো তিনি এমন বলতে পারেন যে, প্রেম যদি সব কিছু উলট পালট করে দিতে না পারে, তবে আর প্রেম কেন! কারণ, যেন তেন প্রেম থাকাও যা, না থাকাও তা-ই! আর, তাই-ই হয়তো তিনি এমনই বলতে পারেন যে, সম্ভবত যেন তেন প্রেম ছিল বলেই, প্রেমিককে বিদায় করে দেওয়ার পরেও কবিতা আসেনি!
তিনি এমন বলতেই পারেন৷ কারণ, তিনি কবি৷ তিনি, শিল্পী৷ ‘লজ্জা’ তাঁর-ই রচনা৷ তাই-ই তো তিনি ‘লজ্জা-র শিল্পী’৷ কিন্তু, তিনি, তসলিমা নাসরিন এমন বললেন৷ আর, তার পর…? তার পর আর কী, স্বাভাবিক ভাবেই তাঁর অনুরাগীদের কোনও অংশ যেমন সহমত পোষণ করেছে৷ তেমনই কোনও কোনও অংশ আবার এমনও মনে করে যে, প্রেম এক বারই আসে জীবনে৷ সত্যিই তাই!! প্রেম এক বারই আসে জীবনে!! তাও আবার কোনও কবির জীবনে!! এমন-ও সম্ভব!! তসলিমা নাসরিন অবশ্য এমন বলেছেন যে, ‘কপাল পোড়াদের জন্য এক বারই আসে৷’
কিন্তু, ‘লজ্জা-র শিল্পী’ কেন উলট পালট করে দেওয়া প্রেমের খোঁজ করছেন? ফেসবুকে তসলিমা নাসরিন এমনই মন্তব্য করেছেন, ‘যেন তেন একটা প্রেমিক ছিল৷ ওটাকে কিছু দিন আগে বিদেয় করে দিয়েছি৷ ঘর-সংসারে লেখালেখিতে মন দিচ্ছি৷ কিন্তু, একটু আধটু প্রেম না হলে আবার পোষায় না৷ কী রকম যেন কী নেই কী নেই লাগে৷ এই কী নেই কী নেই লাগা সময়টায় ভাবছি কিছু কবিতা লিখে ফেললে মন্দ হয় না৷ দীর্ঘকাল কবিতা লিখি না৷ আজকাল লক্ষ করেছি, প্রেম ট্রেম করার সময়ও কবিতা লিখি না৷ প্রেমিককে বিদেয় করে দিলেও কবিতা আসে না৷ সম্ভবত যেন তেন ছিল বলেই৷ ভাবছি নেক্সট আর যাই নিই, যেন তেন কোনও প্রেমিক নেব না৷ এ থাকাও যা, না থাকাও তা৷ প্রেম যদি সব কিছু ওলোট পালোট করে দিতে না পারে, তবে আর প্রেম কেন!’
যদিও, ২০১৬-র জানুয়ারি মাসে ফেসবুকে লেখিকার মন্তব্যের জেরে এমন প্রকাশ পেয়েছিল যে,অঙ্গুরির কারণে তাঁকে প্রেমিকহীন নির্বাসনে থাকতে হয়েছিল! কেন? কারণ, বেশ কয়েক বছর তাঁর তর্জনিতে ছিল অঙ্গুরি৷ আর, ওই ভাবে কারও অঙ্গুরি থাকলে অনেকে এমন-ও মনে করতে পারেন যে, তিনি একা নন৷ তাঁর সঙ্গী-ও রয়েছেন৷ অথচ, ওই সব বছরে তিনি ছিলেন প্রেমিকহীন! লেখিকার ওই মন্তব্যের জেরে তখন তাঁর অনুরাগীদের কোনও অংশ যেমন হতাশ হয়েছিল৷ তেমনই, কোনও অংশের আবার এমন সংশয়-ও ছিল যে, ইউরোপ/আমেরিকায় তাঁর নির্বাসন পর্বে সত্যি-ই কি প্রেমিকহীন ছিলেন তসলিমা নাসরিন!!
তবে, ২০১৬-র মার্চ মাসেই চুমু আর শোয়ার জন্য প্রেমিক-ও চেয়েছিলেন ‘লজ্জা-র শিল্পী’৷ কেননা, গত মার্চে ফেসবুকে তসলিমা নাসরিনের মন্তব্যের জেরে এমনই প্রকাশ পেয়েছিল যে, ১০টি নয়, পাঁচটি নয়, একটি মাত্র প্রেমিক তাঁর৷ অথচ, তাঁর সবেধন প্রেমিকমণিটি ভালো করে তাঁকে আই লাভ ইউ-ও বলতে পারেন না৷ ওই প্রেমিক নাম-কা-ওয়াস্তে৷ থাকতে হয় বলেই আছেন৷ তার উপর, ওই প্রেমিকের সঙ্গে কদাচিৎ দেখা হয় তাঁর৷ অথচ, তিনি চুমু টুমু খেতে চান, শুতে চান৷ কিন্তু, প্রেমিক আবার অন্যত্র ব্যস্ত৷ তাই, এ ভাবে তাঁর আর পোষাচ্ছে না৷ তবে, ‘প্রেমিক চাই’ বিজ্ঞাপন-ও তিনি আবার দিতে পারছিলেন না৷ কেননা, ‘রাক্ষস-খোক্কস’ কী না কী জুটে যাবে, সেই বিষয়টি নিয়েও তাঁর সংশয় ছিল৷
এ দিকে, উলট পালট করে দেওয়া প্রেমের জন্য যেভাবে বলেছেন লেখিকা, সেই বিষয়ে তাঁর এক অনুরাগী আবার এমনও বলেছেন যে, তসলিমা নাসরিনের কাছে প্রেম এমন বিজ্ঞাপনের বিষয় কেন? প্রেমকে একান্ত নিজের করে রেখে দিতে হয়৷ না হলে প্রেম হারিয়ে যায় বুদ্বুদের মতো! তবে, ওই অনুরাগীর এই ধরনের মন্তব্যের জেরে ‘লজ্জা-র শিল্পী’ অবশ্য এমনই বলেছেন যে, ‘প্রেম লজ্জার জিনিস নয়, বা নিষিদ্ধ জিনিসও নয় যে ঘরের ভেতর একে বন্দি করতে হবে৷ প্রেমকে আলো হাওয়ায় আনতে হয়, সবাইকে জানিয়ে দেখিয়েই প্রেম করতে হয়৷ যে প্রেম গৌরবের নয়, সংশয়ের, সে প্রেম প্রেম নয়৷ যে প্রেমকে বাইরে আনলে নিজের থাকে না, বুদ্বুদের মতো হারিয়ে যায়, সে অন্য কিছু, প্রেম নয়৷’
কিন্তু, প্রেমে যদি থাকে অতিরিক্ত ভালোবাসা…? অতিরিক্ত ভালোবাসা কি প্রেমকে হত্যা করে না? কিংবা, ভালোবাসা যদি করুণায় পরিণত হয় কখনও…? তা হলে…? তবে, সত্য কথা অবশ্য যথার্থ ভাবেই বলেন ‘লজ্জা-র শিল্পী’৷ যে কারণেও না ২০১৫-র অগস্ট মাসে ফেসবুকে তসলিমা নাসরিন তাঁর কবিতায় এমনই বলতে পেরেছিলেন যে, ‘আমি ততটা যুবতী নই যতটা ছিলাম আগে / কিন্তু তত তো বৃদ্ধা নই যত আমি হব! / তোমার স্পর্শে যদি এ শরীর জাগে, / তুমি যে হও সে হও, কোনও দ্বিধা নেই, শোব৷’
সানবিডি/ঢাকা/এসএস






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন














