পাসের চেয়ে উচ্চশিক্ষায় আসন কম

আপডেট: ২০১৬-০৮-২০ ১৯:১২:০৩


ফাইল ছবি
ফাইল ছবি

এবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় যত শিক্ষার্থী পাস করেছেন, তার তুলনায় উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে আসন কম প্রায় ৪৩ হাজার। উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের একটি অংশ দেশের বাইরে চলে যাওয়ায় এবং অনেকে বিভিন্ন কারণে আর পড়াশোনা চালিয়ে না যাওয়ায় এতে সংকট হবে না বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। তবে ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পছন্দের বিষয়ে পড়ার ক্ষেত্রে বরাবরের মতোই চাপের মুখে পড়তে হবে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের।

এবার উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায় ১০টি বোর্ডে পাস করেছেন ৮ লাখ ৯৯ হাজার ১৫০ জন পরীক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) হিসাব অনুযায়ী, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন কলেজ ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় মিলিয়ে ভর্তিযোগ্য আসন আছে ৮ লাখ ৫৬ হাজার ৪৮৬টি। অর্থাৎ, উত্তীর্ণের তুলনায় উচ্চশিক্ষায় ভর্তির আসন কম ৪২ হাজার ৬৬৪টি।

ইউজিসির অতিরিক্ত পরিচালক (বিশ্ববিদ্যালয়) ফেরদৌস জামান বলেন, উচ্চশিক্ষায় মোট আসনের মধ্যে শুধু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন আছে ৪৩ হাজার ৪০৭টি। সম্প্রতি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৮টি নতুন বিষয়ের অনুমোদন দেওয়ায় এসব বিষয়ে আরও প্রায় চার হাজার শিক্ষার্থী ভর্তি হতে পারবেন। এ ছাড়া মেডিকেল, মেরিন ও ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ মিলিয়ে আসন আছে ১১ হাজার ৩৬৮টি। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন আছে ৩ লাখ ২৩ হাজার ৫১১টি। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন কলেজগুলোতে স্নাতকে (সম্মান) ও (পাস কোর্স) আসন আছে ৪ লাখ ৪৪ হাজার ২০০টি। উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন আছে প্রায় ৩৪ হাজার। এ ছাড়া অন্যান্য প্রতিষ্ঠানেও আরও কিছু আসন আছে।

ইউজিসির একাধিক কর্মকর্তা বলছেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রতিবছরই আসন বৃদ্ধি করা হয়। ফলে আসন–সমস্যার জন্য কেউ ভর্তির বাইরে থাকবেন না। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় যত পাস করেন, শেষ পর্যন্ত ততজন ভর্তি হন না। অনেকে বিদেশে পড়তে চলে যান। অনেকে চাকরি শুরু করেন। আবার ছাত্রীদের অনেকের বিয়ে হয়ে যায়। বরং স্নাতক (পাস) কোর্সে কলেজগুলোতে আসন ফাঁকা থাকে।

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদও এমনটাই মনে করেন। তিনি বলেছেন, আসন নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না। ভর্তি হতে চাইলে সবাই কোনো–না–কোনো প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারবেন।

ইউজিসির কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, ভর্তি নিয়ে সমস্যা না হলেও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়সহ নামী-দামি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজগুলোতে ভর্তির ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে হবে। কারণ, এবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৫৮ হাজার ২৭৬ জন। তাঁদের প্রত্যেকের লক্ষ্য থাকবে সবচেয়ে ভালো প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়া। এ ছাড়া জিপিএ-৪ থেকে ৫–এর নিচে যাঁরা আছেন, তাঁদেরও লক্ষ্য থাকবে কমপক্ষে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া। ফলে এই হিসাবে দেখা যাচ্ছে যে এবার ভর্তি নিয়ে ভালো উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে তীব্র প্রতিযোগিতা হবে। সূত্র: প্রথম আলো

সানবিডি/ঢাকা/এসএস