দেশে ভারি শিল্প পণ্যের বাজার বাড়ছে

|| প্রকাশ: ২০১৫-১০-২২ ২২:৫০:৫৪ || আপডেট: ২০১৫-১১-০৬ ১৭:৫১:২০

waltonবাংলাদেশে প্রতিবছর ২০ লাখ মানুষ মধ্যম আয়ে উত্তীর্ণ হচ্ছে ও ধনী ভোক্তার সংখ্যা বাড়ছে। এতে ভারি ও দামি ব্র্যান্ডের পণ্যের বাজার সম্প্রসারিত হচ্ছে। এর ফলে ভোগ্যপণ্যের বাজার হিসেবে পরবর্তী উদিয়মান দেশ হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার রাজধানীর গুলশানে গার্ডেনিয়া গ্র্যান্ড হলে এক অনুষ্ঠানে ‘দ্য সার্জিং কনজ্যুমার মার্কেট নোবডি’স কামিং’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। ক্রেতাদের উচ্চমানসম্পন্ন পণ্যের চাহিদা বাড়ায় দেশীয় ব্র্যান্ড- যেমন ওয়ালটন, মার্সেল, রানার ও মাইওয়ানের মতো কোম্পানির প্রসার ঘটছে বলেও অনুষ্ঠানে বক্তারা জানান।

এসডি এশিয়া আয়োজিত অনুষ্ঠানে বোস্টন কনসাল্টিং গ্র“পের (বিসিজি) সেন্টার ফর কাস্টমার ইনসাইট প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে। ২ হাজারের বেশি বাংলাদেশি ভোক্তার ওপর জরিপ করে এবং তাদের ভোগের ধরণ সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ ও গবেষণা করে এ গবেষণা প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্য, যোগাযোগ ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক। বক্তব্য রাখেন বেসিস সভাপতি শামীম আহসান।

প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক এ সময় বলেন, উচ্চমানের পণ্যের বাজার সম্প্রসারণে বড় ভূমিকা রাখছে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ ধারণা। হাতে হাতে ইন্টারনেট সুবিধা পৌঁছে যাওয়ায় অনলাইনের মাধ্যমেই মানুষ এখন উন্নতমানের পণ্য ও সেবা ক্রয় করতে পারছে। দেশের ই-কমার্স সাইটগুলো মানুষের মধ্যে আস্থা অর্জন করতে পেরেছে।

তিনি বলেন, ক্রেতাদের চাহিদা পুরণে দেশীয় ব্র্যান্ড বড় ভূমিকা পালন করছে। দেশীয় অটোমোবাইল শিল্প ওয়ালটনের উদাহরণ দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমি এ সপ্তাহেই গাজীপুর ওয়ালটন কারখানা পরিদর্শন করেছি। সেখানে গিয়ে আমি অভিভুত হয়েছি। তাদের কর্মযোগ্য দেখে আমার মনে হয়েছে সত্যিই বাংলাদেশ অনেক দুর এগিয়েছে। ওয়ালটন কারখানায় প্রতিদিন ছয় হাজার পিচ ফ্রিজ তৈরি হচ্ছে। তবে চাহিদা আরো বেশি রয়েছে। অটোমোবাইল শিল্পে ওয়ালটনের মতো আরো বিনিয়োগ হলে আমদানি নির্ভরতা কমে যাবে। তিনি আরো বলেন, ওয়ালটন কর্তৃপক্ষ সরকারের কাছে আবেদন করেছে তাদেরকে ‘সরকারি হাইটেক পার্ক’ ঘোষণা করার জন্য। আমরা তাদের এ আবেদন বিবেচনায় নিয়েছি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম দেশ যেখানে ব্যবসার সুযোগ ক্রমবর্ধমান হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এখানে ভোক্তার সংখ্যাও বেড়ে যাচ্ছে সমানতালে। যারা ভবিষ্যতের ব্যাপারে খুবই আশাবাদী, বিদেশি ব্র্যান্ডকে মূল্য দেয় ও প্রযুক্তিগত সব সুবিধা পাওয়ার ব্যাপারে ইচ্ছুক। গবেষণা প্রতিবেদনের অন্যতম রচয়িতা জারিফ মুনির বলেন, বাংলাদেশের বাজার এশিয়ার অন্যান্য দেশের বাজারগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রবাহশীল। কিন্তু এ বাজার এখন পর্যন্ত বেশিরভাগ ভোগ্যপণ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর নজরে আসেনি। তিনি আরও বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠান এ বাজারে অবস্থান নিতে আসবে তারা একটি দীর্ঘস্থায়ী প্রতিযোগিতামূলক বাজার সৃষ্টির সুযোগ পাবেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, গবেষণা প্রতিবেদনটি বাংলাদেশের মধ্য ও উচ্চবিত্তের ওপর পরিচালিত। বিসিজি’র তথ্য অনুযায়ী যাদের বার্ষিক পারিবারিক আয় ৫ হাজার ডলার বা তারও বেশি তাদেরকেই মধ্য ও উচ্চবিত্ত হিসেবে ধরা হয়েছে।

এ ভোক্তা শ্রেণির স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ ও আরামদায়ক পণ্য ক্রয়ের সামর্থ রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যদিও বাংলাদেশের মোট ১৬ কোটি জনসংখ্যার শতকরা মাত্র ৭ ভাগ মানুষ উচ্চ ও মধ্যবিত্ত শ্রেণিতে বিদ্যমান। কিন্তু এক দশকের স্থিতিশীল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কারণে এ সংখ্যা প্রতিনিয়তই বাড়ছে। জনসংখ্যার মধ্যে কর্মজীবী মানুষের সংখ্যা বাড়ছে যা অর্থনীতিকে শক্তিশালী, ঊর্ধ্বমুখী ও গতিশীল করছে। ২০২৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশের মধ্য ও উচ্চবিত্ত মানুষের সংখ্যা তিনগুণ হয়ে ৩৪ মিলিয়ন হবে।