হলে আবাসিক শিক্ষার্থীর ‘মা’য়ের প্রবেশেও বাধা
প্রকাশ: ২০১৬-০৮-২২ ১৯:১৭:১৭
নিরাপত্তার নামে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ছাত্রীদের আবাসিক হলে এক ছাত্রীর মাকে প্রবেশে বাধা দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সোমবার দুপুর ১২টায় ঢাকার গাজীপুর থেকে আসা ওই ছাত্রীর মাকে তাপসী রাবেয়া হলে প্রবেশে বাধা দেয়ায় বিপাকে পরেন ওই ছাত্রী ও তার মা। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টার শরণাপন্ন হলে সন্ধ্যা পর্যন্ত হলে অবস্থানের অনুমতি মেলে তার মায়ের।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী রুবাইত জাহান ইমনা বলেন, সোমবার দুপুরে তার মা ঢাকার গাজীপুর থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বেড়াতে আসেন। কিন্তু হলে প্রবেশ করতে গেলে বাধে বিপত্তি। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভোস্ট কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ে মেয়েদের ছয়টি আবাসিক হলে গেস্ট প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। সে অনুযায়ী ইমনার মাকে হল গেটে আটকে দেয় হল প্রশাসন।
ইমনা জানান, অতিথিদের হলে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি তিনি জানেন না। রাজশাহীতে তাদের কোন আত্মীয়ও নেই। এ অবস্থায় অনেক অনুরোধ এবং কান্নাকাটি করলেও তার মাকে হলে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। পরে রাবি ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রাশেদুল ইসলাম রাঞ্জুর মাধ্যমে ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক মিজানুর রহমানকে বলে মাকে সন্ধ্যা পর্যন্ত হলে রাখার অনুমতি পান বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ওই ছাত্রী।
এ বিষয়ে ইমনা বলেন, তিন বছর ধরে হলে আছি। আমার মুখে বিশ্ববিদ্যালয়ের গল্প শুনে এই প্রথম মা এখানে এলেন। কিন্তু হল প্রশাসন তাকে আমার কাছে থাকার অনুমতি দিচ্ছে না। মা তো সন্তানের কাছে আসতেই পারেন। তিনি কী কখনও গেস্ট হয়!
জানা যায়, সম্প্রতি ছাত্রী হলে অতিথি প্রবেশে এমন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পর অনেকেরই অভিভাবক এসে বিপাকে পড়ছেন। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা গেছে। নিরাপত্তার নামে এ ধরনের নিষেধাজ্ঞাকে অমানবিক ও অযৌক্তিক বলে দাবি করছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসংগঠনগুলো।
বিশ্ববিদ্যালয়ের খালেদা জিয়া হলের আরেক আবাসিক শিক্ষার্থী তানিয়াহ্ মাহমুদা তিন্নি বলেন, আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি এতে করে আমাদের আত্বীয়-স্বজনরা মাঝে মধ্যে রাজশাহীতে আসে। তাদের থাকার জায়গা বলতে আমরা যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি তাদের কাছেই। কিন্তু বর্তমানে নিরাপত্তার নামে হলে নিজের মায়ের প্রবেশেও বাধা দেয়া হচ্ছে। কেন? আমাদের আত্বীয়-স্বজন আমাদের কাছে থাকবে এটা তো আমাদের অধিকার । এভাবে আমাদের অধিকার খর্ব করা হচ্ছে। অবিলম্বে এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হোক।
জানতে চাইলে তাপসী রাবেয়া হলের প্রাধ্যক্ষ প্রফেসর শিউলী শামিম শান্তা বলেন, ‘ছাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে অতিথি প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা করেছে। মেয়েটার মাকে না থাকতে দেওয়ার বিষয়ে বলেন, আজকে একজনকে থাকতে দিলে, আগামীকাল আরো দশজন এসে থাকতে চাইবে। যা বর্তমান পরিস্থিতিতে সম্ভব না।
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক তমাশ্রী দাস বলেন, নিরাপত্তা বৃদ্ধির উদ্যোগ অবশ্যই ভাল। কিন্তু এতে যদি শিক্ষার্থীরা হয়রানির শিকার হন তা কোনভাবেই মঙ্গল ডেকে আনবে না। মেয়েদের প্রতিটি হলে প্রতিক্রিয়াশীল ছাত্রী সংস্থা থাকলেও হল প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের হয়রানি করছে। কোন রকম শর্ত ছাড়াই আত্মীয়-স্বজনদের হলে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার দাবি জানান।
রাবি ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রাশেদুল ইসলাম রাঞ্জু ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন সন্তান-সন্ততিদের খোঁজ রাখতে বলছেন, সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী হলে অভিভাবকদের প্রবেশের অনুমতি না থাকার সিদ্ধান্ত কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না।
বিশ্ববিদ্যালয় হল প্রাধ্যক্ষ কাউন্সিলের আহ্বায়ক ও মাদার বখ্শ হলের প্রাধ্যক্ষ প্রফেসর তাজুল ইসলাম বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার স্বার্থেই মেয়েদের হলে অতিথি প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। সব শিক্ষার্থীকে এই নিয়ম মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি।
সানবিডি/ঢাকা/হৃদয়/আহো






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













