রাবির চিকিৎসা কেন্দ্রে দেখা মেলে না ডাক্তারের, বিপাকে শিক্ষার্থীরা
প্রকাশ: ২০১৬-০৮-২৩ ১৯:০১:৫৩
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) কেন্দ্রীয় চিকিৎসা কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় মুহূর্তে ডাক্তার মেলে না। প্রায় সময়ই একাধিক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ছুটি না নিয়েই দিনের পর দিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ পাওয়া যায়। যার ফলে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে ভোগান্তি পোহাচ্ছে হাজার হাজার শিক্ষার্থী।
মঙ্গলবার চিকিৎসা কেন্দ্রে সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রের উপ-প্রধান চিকিৎসক ও চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. আনোয়ার হোসেনের অপেক্ষায় বসে আছেন কয়েকজন শিক্ষার্থী। অথচ নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও আনোয়ার হোসেনের দেখা নেই। সিরিয়াল দিয়ে পরপর দুই দিন এসেও চক্ষু ডাক্তারকে না পেয়ে বিপাকে পড়ছেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় চিকিৎসা কেন্দ্রের একজন সেকশন অফিসার ওই চিকিৎসককে ফোন করলে ‘আসবেন না’ বলে জানিয়ে দেন তিনি।
জহিরুল ইসলাম নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, সকাল সাড়ে ৮টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত এই ডাক্তারের রোগী দেখার কথা। কিন্তু পর পর দুই দিন এসেও ডাক্তারকে পেলাম না। এর আগেও বেশ কয়েকবার এসে ডাক্তারের দেখা পাইনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চিকিৎসা কেন্দ্রের এক কর্মকর্তা বলেন, অধিকাংশ চিকিৎসক চিকিৎসা কেন্দ্রে না এসে তথ্যকেন্দ্রে ফোন দিয়ে ছুটি নেয়। শিক্ষার্থীরা এসে ফিরে যান। আমরা সবই বুঝি কিন্তু কিছুই বলতে পারি না।
এ বিষয়ে চক্ষু বিশেষজ্ঞ মো. আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য একাধিকবার ফোন দেয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
জানতে চাইলে চিকিৎসা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত প্রধান চিকিৎসক ডা. মো. আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, কেউ ছুটি নিতে চাইলে তাকে একদিন আগে দরখাস্ত দিতে হয়। জরুরী প্রয়োজনে প্রধান চিকিৎসকের কাছে ফোন করে ছুটি নেয়া যায়। তবে আনোয়ার হোসেন আমার কাছ থেকে কোনো ধরনের ছুটি নেয়নি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৩ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য চিকিৎসা কেন্দ্রে ২৪ জন চিকিৎসক থাকার কথা। এর মধ্যে দুই জন ছুটিতে এবং তিনটি পদ শূন্য থাকায় ১৯ চিকিৎসক দিয়ে চলছে চিকিৎসা সেবা। এদের অধিকাংশই দিনের প্রথম শিফটে (সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত) দায়িত্ব পালন করেন। বাকি দুই শিফটে (দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা, রাত ৮টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত) প্রায়ই চিকিৎসককে পাওয়া যায় না। এছাড়া দ্বিতীয় শিফটের দায়িত্বে থাকা ডা. এ এফ এ জাহিদ ও ডা. নূরমহল বেগমকে প্রায়ই নির্ধারিত সময়ে পাওয়া যায় না বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসার্স সমিতির দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে উপ-প্রধান চিকিৎসক ডা. মাসিউল আলম হোসেনের দেখা মেলে না। তবে নির্ধারিত সময়ে মেডিক্যাল সেন্টারের পরিবর্তে রাজশাহী নগরীসহ বিভিন্ন স্থানে ব্যক্তিগত চেম্বারে সময় দেন বলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।
চিকিৎসা কেন্দ্রের অন্যান্য ডাক্তারদের দায়িত্ব অবহেলা সম্পর্কে ভারপ্রাপ্ত প্রধান চিকিৎসক ডা. মো. আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, প্রধান চিকিৎসক তবিবুর রহমান শেখ ঢাকায় অবস্থান করছেন। উনিই এ বিষয়ে ভালো বলতে পারবেন।
সানবিডি/ঢাকা/হৃদয়/আহো






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













